সাফল্য আর অর্জনে অনন্য

সাফল্য আর অর্জনে অনন্য

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পঞ্চাশ বছর আগে যে বাংলাদেশের জন্ম তা আজ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে এগিয়ে চলা দেশটি আজ তারই কন্যা শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বিশ্বের কাছে রোল মডেল হয়ে উঠেছে।

এমন সাফল্য ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্জন করেছেন নানা সম্মাননা, পুরস্কার, পদকসহ কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা। অতি সম্প্রতি সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের পর টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে (এসডিজি) দ্রম্নত এগিয়ে চলার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রদান করা হয় জাতিসংঘের 'এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার'। এ সময়

তাকে 'ক্রাউন জুয়েল' বা 'মুকুট মণি' হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এর আগে পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের জন্য জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার 'চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ' পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় তাকে অভিষিক্ত করা হয় 'মাদার অব হিউম্যানিটি' বা 'মানবতার মা' অভিধায়।

টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সফলতার জন্য তাকে 'ভ্যাকসিন হিরো' পুরস্কার দিয়েছে গেস্নাবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন এবং ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই)।

এর আগে ১৯৯৬ সালে প্রথমবার যখন বাংলাদেশের হাল ধরেন, সে সময় ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো থেকে 'হুপে-বোয়ানি' শান্তি পুরস্কার লাভের মাধ্যমে জাতিসংঘের সম্মাননা অর্জনের পর প্রথম আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ও 'পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি'র মাধ্যমে প্রায় দুই দশকের বেশি পুরনো সংঘাত অবসানের এক বছর পরে তিনি এই সম্মাননা লাভ করেন।

গণতন্ত্র, শান্তি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী শিক্ষার বিস্তার, শিশুমৃতু্যর হার হ্রাস ও দারিদ্র্য বিমোচনের সংগ্রামে অসামান্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেশি-বিদেশি বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরস্কার-২০১৪, শান্তি বৃক্ষ-২০১৪, জাতিসংঘ পুরস্কার-২০১৩ ও ২০১০, রোটারি শান্তি পুরস্কার-২০১৩, গোভি পুরস্কার-২০১২, সাউথ-সাউথ পুরস্কার-২০১১, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার-২০১০, পার্ল এস. বার্ক পুরস্কার-২০০০, সিইআরইএস মেডাল-১৯৯৯, এম কে গান্ধী পুরস্কার-১৯৯৮, মাদার তেরেসা শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮, ইউনেস্কোর ফেলিক্স হোফুয়েট-বোয়েগনি শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮ প্রভৃতি উলেস্নখযোগ্য।

১৯৯৬-২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি তার সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

১৯৯৮ সালে পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার পর ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে শান্তির দূত শেখ হাসিনা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাপক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা চুক্তি (সিটিবিটি) স্বাক্ষর করে।

সামাজিক কর্মকান্ড, শান্তি এবং স্থিতিশীলতার জন্য অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল' ডিগ্রিসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্রম্নয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টর অব ল' ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল' ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৭ সালের ২৫ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের আবের্টে বিশ্ববিদ্যালয়, ডান্ডি লিবারেল আর্টসে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ফিলোসফি ডিগ্রি প্রদান করে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯৯ সালের ২৮ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক দেশিকোত্তমা (ডক্টর অব লিটারেচার) ডিগ্রি প্রদান করে।

শান্তি এবং গণতন্ত্রের জন্য অসাধারণ অবদানের জন্য অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ১৯৯৯ সালের ২০ অক্টোবর সম্মানসূচক ডক্টর অব ল' ডিগ্রি প্রদান করে।

গণতন্ত্র এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় বিশ্ব বিখ্যাত ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলস ২০০০ সালের ৪ ফেব্রম্নয়ারি শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় ২০০০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব হিউম্যান লেটারস ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল' ডিগ্রি প্রদান করে।

কৃষিক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখায় ২০০১ সালের ১৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করে।

পিপলস ইউনিভার্সিটি অব রাশিয়া ২০০৫ সালে শেখ হাসিনাকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করে।

আন্তর্জাতিক মানবিক উন্নয়নে অসাধারণ অবদান রাখার জন্য ২০১০ সালের ২৪ নভেম্বর স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ, রাশিয়া শেখ হাসিনাকে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ায় এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ফ্রান্সের ডফিন বিশ্ববিদ্যালয় ২০১১ সালের ২৫ মে শেখ হাসিনাকে ডিপেস্নামা এবং পদক প্রদান করে।

বাংলাদেশে বহুসংস্কৃতির গণতন্ত্র এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং তার রাষ্ট্রনায়কোচিত এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডি.টি ডিগ্রি প্রদান করে।

দূরদর্শিতা, সাহস এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মানবিক ক্ষেত্রে অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রেরর্ যানডলফ উইম্যানস কলেজ শেখ হাসিনাকে ২০০০ সালের ৯ এপ্রিল মর্যাদাপূর্ণ পার্ল এস বাক অ্যাওয়ার্ড-১৯৯৯ প্রদান করে।

ক্ষুধার বিরুদ্ধে সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ খাদ্য এবং কৃষি সংস্থা-এফএও শেখ হাসিনাকে ১৯৯৯ সালের ২ আগস্ট মর্যাদাপূর্ণ সেরেস পদক প্রদান করে। সর্বভারতীয় শান্তি পরিষদ ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনাকে 'মাদার তেরেসা পদক' প্রদান করে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, অহিংস ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের বিকাশে অবদান রাখায় নরওয়ের অসলোর মহাত্মা এম কে গান্ধী ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে এম কে গান্ধী অ্যাওয়ার্ড-১৯৯৮ প্রদান করে।

রোটারি ইন্টারন্যাশনাল-এর রোটারি ফাউন্ডেশন কর্তৃক শেখ হাসিনাকে পল হ্যারিস ফেলো ঘোষণা করা হয়। তাকে ১৯৯৬-৯৭ এবং ১৯৯৮-৯৯ সালে মেডেল অব ডিসটিঙ্কশন প্রদান করা হয় এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব লায়ন্স ক্লাবস কর্তৃক ১৯৯৬-৯৭ সালে হেড অব স্টেট মেডেল প্রদান করা হয়।

শেখ হাসিনাকে ২০০৯ সালে মর্যাদাপূর্ণ ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক প্রদান করা হয়। বাংলাদেশের আইসিটি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এসোসিও (এশিয়ান-ওসেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অরগানাইজেশন) আইটি অ্যাওয়ার্ড- ২০১০ প্রদান করে। হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বারকোর কাছ থেকে শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি গেস্নাবাল ডাইভার্সিটি অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

নারী এবং শিশু স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের নব ধারণার জন্য ইউএন ইকোনমিক কমিশন ফর আফ্রিকা, জাতিসংঘে এন্টিগুয়া এবং বার্বুডার স্থায়ী মিশন, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) এবং সাউথ সাউথ নিউজ ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাকে সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।

২০১১ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ প্রদান করে।

২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ, কৃষক রক্ষা এবং সন্ত্রাস দমন। যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করা নিয়ে দীর্ঘদিন অবিচারের গস্নানি বয়ে বেড়ানো বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কল্যাণে স্বাধীন বাংলাদেশের বুকে শাস্তি পায় যুদ্ধাপরাধীরা। সেই সঙ্গে এই যুদ্ধাপরাধীদের মাধ্যমে জঙ্গি অর্থায়ন ও সন্ত্রাসবাদের সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। তার দৃঢ় নেতৃত্বে আজ বিশ্বের বুকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে অন্যতম সফল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকাকালে ২০১৫ সালে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত স্থায়ী আদালতে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে বিরোধপূর্ণ ২৫ হাজার ৬০২ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে ১৯ হাজার ৪৬৭ হাজার পরিমাণ অঞ্চল জিতে নেয়। ২০১২ সালে বাংলাদেশ সফলভাবে মিয়ানমারের সঙ্গেও বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমার মামলা জয় করে। বিশ্বে বাংলাদেশ সেই অল্পসংখ্যক দেশের মধ্যে একটি, যারা মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) বাস্তবায়নে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে। ২০১৫ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে