ক্লাস আর আড্ডায় স্বরূপে ফিরল ঢাবি ক্যাম্পাস

ক্লাস আর আড্ডায় স্বরূপে ফিরল ঢাবি ক্যাম্পাস
করোনা পরিস্থিতিতে দেড় বছরের বেশি বন্ধ থাকার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। রোববার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল ক্যাম্পাস। বিভিন্ন অনুষদের শ্রেণিকক্ষগুলোতে প্রবেশমুখে শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয় -ফোকাস বাংলা

দেড় বছরের বেশি সময় পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে উপস্থিতিতে ক্লাস শুরু হওয়ায় রোববার হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে ঢাবি ক্যাম্পাস। দীর্ঘ সময় পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশদ্বারের তালা খুলে দেওয়া হয়।

সকাল থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী কেউ বাসা থেকে কেউ আবাসিক হল থেকে ক্লাসে ছুটে আসেন। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে, কেউ রিকশায়, কেউ হল থেকে হেঁটে স্মৃতিমাখা পুরনো সেই শ্রেণিকক্ষে ফিরেছেন।

সকালে ক্লাসে ব্যস্ত থাকলেও দুপুর ১২টার পর থেকে ডাকসু ভবন, মধুর ক্যান্টিন, আইবিএ হাকিম চত্বর, লাইব্রেরি, কলাভবন এবং টিএসসিসহ ক্যাম্পাসজুড়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জমজমাট আড্ডা বসে।

তবে এখনো

শেষ হয়নি করোনা মহামারির শঙ্কা, তাই ক্যাম্পাসজুড়ে টাঙানো ছিল স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নানা নির্দেশনা। কলাভবন, কার্জন হল, এফবিএস ভবনসহ অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোর প্রবেশপথে ছিল শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা। মাস্ক ছাড়া ক্লাসে যাওয়াও ছিল নিষেধ। স্বাস্থ্যবিধি মানতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা হয়েছে দূরত্ব বজায় রেখে।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রশাংসা শোনা গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মো. আখতারুজ্জামানের কথায়ও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষার হল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরতে পেরে খুবই উচ্ছ্বসিত। তারা যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে এটা সমগ্র জাতির জন্য অনুকরণীয়। করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে লস-রিকভারি পস্ন্যান অনুসরণ করে আমরা শিক্ষার্থীদের সে ক্ষতি পুষিয়ে নেব।'

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার যে নানা ধাপ ও পদক্ষেপ সশরীরে ক্লাস শুরু হওয়ার মাধ্যমে তা পরিপূর্ণতা পেল। একটি বিষয় খুবই আশাব্যঞ্জক- যেসব শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে সবাই ভ্যাকসিনেটেড। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন। এখানকার শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশগ্রহণ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং করোনা পরিস্থিতি উন্নতিতে সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, 'আমাদের লস রিকভারি পস্ন্যান রয়েছে। সে অনুযায়ীই আমরা কাজ করছি। কারণ, আমরা চাচ্ছি শিক্ষার্থীদের যে সময়টুকু নষ্ট হয়েছে সে সময়টুকু যেন আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারি। কম সময়ে অধিক কাজ করে, শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, পরীক্ষা গ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ আমাদের লস রিকভারি পস্ন্যানের মধ্যে রয়েছে।'

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, 'লস রিকভারি পস্ন্যানের' আওতায় ছয় মাসের সেমিস্টার পরীক্ষাসহ চার মাসে এবং কোর্স পদ্ধতির ক্ষেত্রে ১২ মাসের পরিবর্তে ৮ মাসে সম্পন্ন করা হবে।

উপ-উপাচার্য আরও বলেন, 'কোনোভাবে সিলেবাস সংকুচিত করা যাবে না। সিলেবাস যেটা আছে, সেটা অনুযায়ী আমাদের অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা আছে। প্রয়োজনে শনিবারও ক্লাস নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। শরৎকালীন ও শীতকালীন ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো মহামারিতে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া।'

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডক্টর মো. বাহাউদ্দিন বলেন, 'শিক্ষার্থীদের পেয়ে শিক্ষকদের মনেও আনন্দ ফিরছে। তাই আমরা প্রথম দিনেই তাদের জন্য ক্লাস রেখেছি। যেসব ঘাটতি হয়ে গেছে, সেটা আমরা পুষিয়ে নিতে পারব।'

রোববার শ্রেণিকক্ষে সশরীরে পাঠদান শুরু হলেও প্রথম দিন সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে পুরোদমে পাঠদান শুরু হয়নি। ক্লাস শুরু হয়েছে সমাজবিজ্ঞান, ইংরেজি, সমাজ কল্যাণ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগসহ বেশ কয়েকটি বিভাগ এবং ইনস্টিটিউটে। অনেক বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো নিতে দেখা গেছে।

এদিকে দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী তাওসিফুল ইসলাম বলেন, 'স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসে প্রবেশ করেছি। দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের পেয়ে অনেক বেশি ভালো লাগছে। অনলাইন ক্লাস আর অফলাইনে অনেক পার্থক্য। বন্ধু ও শিক্ষকদের কাছ থেকে দেখা আনন্দের। তাই অনেকদিন পর ক্লাস করতে পেরে ভালো লাগা কাজ করছে। আশা করি এবার ঠিকভাবে সবকিছু শেষ করতে পারব।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে গাজীপুর থেকে ক্যাম্পাসে এসেছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান। তিনি বললেন, 'লাল বাসটা আসলে আমাদের জন্য অনেক আবেগের। এটাকে আমরা স্বপ্নের ফেরিওয়ালা বলি। সকাল-সন্ধ্যা এই লাল বাস আমাদের স্বপ্নকে ফেরি করে বেড়ায়। দীর্ঘদিন লাল বাস ক্ষণিকাকে মিস করেছি। কতদিন পর আজ (গতকাল) সেই বাসে পুরনো পথে ক্যাম্পাসে ফিরেছি, বিচিত্র চিন্তা আর স্মৃতি যে ভেসে বেড়াচ্ছে মানসপটে...।'

মহামারিকালে অনলাইনে ক্লাস আর মোবাইল ফোনে বন্ধুদের সঙ্গে কথা হলেও সামনাসামনি দেখা হলে কি আশ মেটে! বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন চত্বরে শিক্ষার্থীরা তাই আড্ডায় বসেছিলেন জমা কথার ডালি খুলে।

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী আরফানুল ইসলাম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইলে আরও আগে ফেরাতে পারতো। দীর্ঘদিন পর হলেও ক্লাস করতে পেরে ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছি। আশা করি কর্তৃপক্ষ সেশনজট রোধে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবে।'

ক্লাস বা পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা টিএসসি, ডাকসুর ক্যাফেটেরিয়া, মধুর ক্যান্টিন, বটতলা, ক্যাম্পাস শ্যাডো, মল চত্বর, কার্জন হল কিংবা শহীদুলস্নাহ হলের পুকুরপাড়ে আড্ডায় মেতে ওঠেন সেই আগের দিনের মতো। দীর্ঘদিনের জমে থাকা গল্প আর আগামী দিনের ভাবনা নিয়ে চলে নানা আলাপন।

সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে বন্ধুদের সঙ্গে গল্পের ফাঁকে অর্থনীতি বিভাগের সুমাইয়া তাসনিম ঐশী বললেন, 'কতদিন পর প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে দেখা, গল্প ফুরাবার নয়। মহামারি আমাদের সোনালি দিনগুলোতে একটা বড় দূরত্ব তৈরি করে দিয়েছিল। সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে আজ (গতকাল) আবারও প্রাণের মিলন। সত্যিই জীবনের সব হতাশা আর অস্থিরতা এই মুহূর্তে নেই।'

টিএসসির ক্যাফেটেরিয়ায় অনেক দিন পর খাবার খেয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিম জাহান অর্পিতা বললেন, '২০ টাকায় টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার দুপুরের খাবারটা অনেক মিস করেছি। একসঙ্গে বন্ধুদের নিয়ে এই খাবারের তৃপ্তি ছিল অসাধারণ। সেই স্বাদ আবারও নেওয়ার সুযোগ হলো। খাবারের পর একটুখানি চায়ের আড্ডা জীবনে আবারও যোগ হলো, ভালো লাগছে পুরনো দিনগুলো ফিরে পেয়ে।'

বন্ধুদের নিয়ে টিএসসির বারান্দায় গ্রম্নপ স্টাডিতে ব্যস্ত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী প্রান্ত দত্ত বললেন, 'অনলাইন ক্লাসটা আমার কাছে খুবই বোরিং ছিল। ক্লাস খুলেছে, অল্প দিনের মধ্যে পরীক্ষা হবে। এই সময়ে গ্রম্নপ স্টাডি আসলে খুব ভালো কাজ দেয়।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগের শিক্ষার্থী রাফি সালমান সেমিস্টার পরীক্ষা দিয়ে এসে বললেন, 'এতদিন অনলাইনে ক্লাস হলেও পরীক্ষাগুলো হয়নি। এখন নেওয়া হচ্ছে। তাই ক্লাস খোলার পর পরীক্ষা নিয়েই আমাদের ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।'

এদিকে শিক্ষার্থীদের ফেরার সঙ্গে সঙ্গে মুখর হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক অঙ্গনও। করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সময়েও রাজনীতির আতুড়ঘর খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগকে সক্রিয় দেখা গেলেও শুরু থেকে ছাত্রদলকে সেখানে দেখা যায়নি। দীর্ঘ দিন পর রোববার সকাল ১০টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মধুর ক্যান্টিনে প্রবেশ করেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে মধুর ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করে ছাত্রদল।

তবে এর আগে থেকে সেখানে অবস্থান নিতে দেখা যায় ছাত্রলীগকে। ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখার প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রদল প্রবেশের পর দুই পক্ষের সেস্নাগান-পাল্টা সেস্নাগানে মধুর ক্যান্টিনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে শুরুতে অনলাইনে ক্লাস না নিলেও পরে মহামারি দীর্ঘ হতে থাকায় জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়। অনলাইন ক্লাসে সিলেবাস শেষ হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের সরাসরি পরীক্ষায় বসাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

পরে চলমান সেমিস্টারের পরীক্ষা না নিয়েই অনলাইনে পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস চালিয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলো। মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় অধিকাংশ বিভাগ ও ইনস্টিটিউট গত দেড় বছর ধরে আটকে থাকা পরীক্ষাগুলোর মধ্যে প্রথম সেমিস্টার নিয়ে দ্বিতীয় সেমিস্টারে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছে, বার্ষিক পদ্ধতিতে এক বছরের পরীক্ষা নিতে পেরেছে অনেক বিভাগ।

শ্রেণিকক্ষ খোলার আগে অন্তত এক ডোজ টিকা নেওয়ার শর্তে গত ৫ অক্টোবর প্রথম ধাপে স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের হলে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় ধাপে স্নাতক প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরাও হলে উঠেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বিজ্ঞান গ্রন্থাগারসহ বিভাগ-ইনস্টিটিউটের সেমিনার লাইব্রেরিগুলো এর আগেই ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হয়। সে সময় সীমিত আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ সেবাও চালু করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো বিভাগ বা ইনস্টিটিউট চাইলে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ ক্লাস অনলাইনে নিতে পারবে। তবে বাকি ৬০ শতাংশ ক্লাস নিতে হবে সশরীরে। এ ছাড়া ক্ষতি পোষাতে সেমিস্টার ও বার্ষিক কোর্স পদ্ধতিতে সময় কমিয়ে নিয়ে আসার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে