আইসিইউ সংকটে ধুঁকছে ঢামেক

এক বছরে ১০০ আইসিইউ স্থাপনের পরিকল্পনা
আইসিইউ সংকটে ধুঁকছে ঢামেক

চিকিৎসাসেবায় দেশের মানুষের আস্থার ঠিকানা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন রোগীরা। প্রতিদিন এখান থেকে অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়, আবার কেউ কেউ মারাও যায়। জীবন-মৃতু্যর সন্ধিক্ষণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। বর্তমানে শয্যাসহ নানা সংকটে ধুঁকছে হাসপাতালের এই বিভাগটি।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, প্রতিদিন আইসিইউ'র শয্যা পেতে কমপক্ষে ৫০ জন রোগী আসেন। কিন্তু একটিও দিতে পারে না কর্তৃপক্ষ। যে কারণে সামর্থ্য থাকলে অনেকে চলে যায় প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতালে। ঢামেকে সেন্ট্রাল আইসিইউ আছে মাত্র ২০টি। সব সময় সেখানে রোগীতে পূর্ণ থাকে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদেরই আইসিইউ সেবা দেওয়া যায় না, সেখানে বাইরের রোগী তো দূরের কথা।

সরেজমিন ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে দেখা যায় আইসিইউয়ের জন্য কেউ কেউ তদবির করছেন। ঢাকার বাইরে থেকে আসা সালেহা বেগম সোমবার যায়যায়দিনকে বলেন, রংপুর থেকে এসেছেন। রোগীর জন্য একটি আইসিইউ শয্যা লাগবে, কিন্তু খালি নেই। তারা পরিচালকের সঙ্গে

দেখা করেও পায়নি আইসিইউ শয্যা। বাধ্য হয়ে চলে যাচ্ছেন বেসরকারি হাসপাতালে।

সূত্র বলছে, দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে জোর প্রচেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা বৃদ্ধির কার্যক্রম হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এক বছরের মধ্যে একশ'র বেশি আইসিইউ শয্যা স্থাপন করা হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক যায়যায়দিনকে বলেন, 'শত বাধা এলেও আমি একশ' শয্যা আইসিইউ তৈরি করেই ছাড়ব। প্রতিদিন নূ্যনতম ২০টি ফোন আসে আইসিইউর জন্য। দিন-রাত এই ফোন ধরতে হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও চাপ থাকে। প্রতিদিন সকালে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা আইসিইউ'র ব্যবস্থা করতেই সময় নষ্ট হয়। এত চাপ নেওয়ার থেকে আইসিইউ বাড়ানোই ভালো। আমার লোকবলের অভাব নেই।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখেছি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর জন্য প্রতিদিন আইসিইউ প্রয়োজন কম-বেশি ৭০টি। বাইরের রোগীর জন্য প্রয়োজন আরও কমপক্ষে ৩০টি। সব মিলিয়ে একশ' পস্নাস বা মাইনাস আইসিইউর চাহিদা রয়েছে। সেখানে আমার রয়েছে মাত্র ২০টি! আগামী ২০ দিনের মধ্যে নতুন ১২টি আইসিইউ বেড স্থাপন হবে। তখন সংখ্যা দাঁড়াবে ৩২টিতে। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে একশ'।'

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম যায়যায়দিনকে বলেন, যদি ৮০ ভাগ আইসিইউ রোগী মারাই যায়, তাহলে শয্যা বৃদ্ধি করার প্রয়োজন কি? আর যদি ৮০ ভাগ রোগী বাঁচিয়ে তোলা সম্ভব হয়, তবেই বৃদ্ধি করতে হবে আইসিইউ। তিনি বলেন, মানসম্মত আইসিইউ ও প্রশিক্ষিত লোকবলের অভাব আছে দেশের হাসপাতালগুলোয়।

তিনি আরও বলেন, 'ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যে পরিমাণ রোগী নিয়ে কাজ করে তা দেশের অন্য কোনো হাসপাতাল করে না। এত রোগী নিয়ে কাজ করার পর এত বড় পরিসরে আইসিইউ বিভাগ কি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চালাতে পারবে? এমনিতেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, নার্সসহ লোকবলের অভাব। এত প্রশিক্ষিত লোকবল কি তাদের আছে? এগুলো শুধু বানালেই হবে না, এজন্য যে পরিমাণ লোকবল দরকার তাও সৃষ্টি করতে হবে।'

সূত্র বলছে, ঢামেকে বিভাগভিত্তিক কোনো আইসিইউ নেই। একটাই আইসিইউ আছে, যেখানে শয্যা ২০টি এবং আছে সব ধরনের যন্ত্রাংশ। শয্যাগুলো বেশ ভালো। হাসপাতালে তেলাপোকার কিছুটা সমস্যা থাকলেও আইসিইউর ভেতরে নাই। আইসিইউ বিকেন্দ্রীকরণের জন্য বিভাগ ভিত্তিক আইসিইউ'র ব্যবস্থা করা হবে। নিউরো সার্জারি বিভাগে ১০টি, মেডিসিন বিভাগে ১৫টি, গাইনিতে ১০টি করে আলাদা শয্যার আইসিইউ স্থাপন করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এগুলোর কাজ আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যেই শুরু হবে।

এদিকে, প্রতিদিন আইসিইউতে রোগী ভর্তি থাকে ২০ জন। হাসপাতালের অন্য বিভাগের প্রয়োজন ৩০টি আইসিইউ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসে আরও ৩০ জন রোগী। প্রতিদিন কম-বেশি ৮০টি আইসিইউর প্রয়োজন হয় ঢামেকে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

ক্যাম্পাস
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
হাট্টি মা টিম টিম
কৃষি ও সম্ভাবনা
রঙ বেরঙ

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে