বাজারদর

তেল-চালের দামে অস্বস্তি

প্রকাশ | ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:০৪

ম যাযাদি রিপোর্ট

নতুন বছরের শুরুতেই ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তা নাকচ করে দিয়েছিল। ৬ ফেব্রম্নয়ারির আগে তেলের দাম বাড়বে না বলেও জানিয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গত এক সপ্তাহ ধরে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার ৮ টাকা করে বাড়িয়ে তেল বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে ৫ লিটারের যে কোনো ব্রান্ডের বোতলজাত তেলের দাম রাখা হচ্ছে ৮০০ টাকা। এক লিটার তেলের দাম ১৬৮ টাকা। ২ লিটার তেলের দাম রাখা হচ্ছে ৩৩৪ টাকা। এদিকে, বাজারে বাড়তি দামে তেল কিনতে গিয়ে সংসার খরচ সামলাতে অস্বস্তিতে পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের সীমিত আয়ের মানুষ। চাল, তেল, চিনি, আটাসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় দিশেহারা মানুষ সংসার খরচ সামলাতে বিপাকে পড়ছেন। অনেকেই পরিবারের বাড়তি ব্যয় সংকোচন করে নিত্যপণ্যর বাজেটে যোগান দিচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে নতুন আসা বোতলের এক লিটার তেলের গায়ের (লেভেলে লেখা) মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৮ টাকা, যা আগে ছিল ১৬০ টাকা। আর পাঁচ লিটার বোতলের সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ টাকা, যা আগে ছিল ৭৬০ টাকা। অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা খোলা সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি করছেন ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা, যা আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৫২ টাকা। পাম অয়েলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, তা আগে ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। সরেজমিনে মুদি পণ্যের দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু সয়াবিন তেলের দামই নয়, সরিষা, রাইসব্রান্ড, সান ফ্লাওয়ারসহ অন্যান্য তেলের দামও বেড়েছে অনেক বেশি। সরিষার তেল ব্রান্ড ভেদে বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ২৯৫ থেকে ৩০০ টাকায়। বোতলের সয়াবিন তেলের পাশাপাশি বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেল ও পাম অয়েল। খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১০ টাকা। পাম অয়েলের দামও কেজিতে ১০ টাকার মতো বেড়েছে। তেলের সঙ্গে পালস্না দিয়ে বেড়েছে আটার দামও। বর্তমানে এক কেজি প্যাকেট সাদা আটার দাম ৪৭ টাকায় পৌঁছেছে। ২ কেজির আটা বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। প্যাকেট চিনি ৮৫ টাকা, খোলা চিনি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়েছে সবরকম গুঁড়ো দুধেরও। ব্রান্ড ভেদে ৫০০ গ্রামের গুঁড়ো দুধ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায়। শিগগিরই দুধের দাম বাড়বে বলে ডিলাররা ইতোমধ্যে খুচরা ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন। বাজারে চালের দামে অস্থিরতা দেখা গেছে। খুচরা বাজারে কোনো চালই এখন ৫০ টাকার নিচে নেই। মিনিকেট, নাজির, বাসমতি চালের দাম ৫০ কেজির বস্তা ভেদে ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। স্বর্ণা, লতা, জিরা শাইল, আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫১ থেকে ৫৫ টাকায় প্রতি কেজি। ভালো মানের মিনিকেট পাওয়া যাচ্ছে ৬৫-৬৮ টাকায়, নাজির শাইল ৬৮-৭৮ টাকা, বাসমতি চাল ৭৬-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বাজারে শীতের সবজির দাম এখনও বাড়তির দিকে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁচা মরিচ ৪০-৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি বড় সাইজের প্রতি পিস ৩০-৩৫ টাকা, ভালো মানের সিম ৩০-৪০ টাকা, আলু ২০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা কেজি, পেঁপে প্রতি কেজি ২০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৩০ টাকা, ব্রকলি ছোট সাইজের প্রতি পিস ২০ টাকা আর মাঝারি সাইজের ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া (কাঁচা) মাঝারি সাইজে প্রতি পিস ৫০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, লাউ ৬০-৮০ টাকা প্রতি পিস, সিমের বিচি প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যাত্রাবাড়ীর সবজি বিক্রেতা আকতার হোসেন বলেন, বর্তমানে সবজির যোগান কমতির দিকে হলেও খুচরা বাজারে সবজির দাম তুলনামূলক কমই। শুক্রবারে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি থাকে। তাই সব জিনিসের দাম কিছুটা বাড়তির দিকে থাকে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাজধানীর মানিকনগর এলাকা থেকে যাত্রাবাড়ীর বাজারে সপ্তাহের বাজার করতে এসে বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফুর রহমান বলেন, 'চাকরি করার কারণে শুক্রবারে শুধু সময় পাই। তাই সকালে বাজারে চলে আসি, পুরো সপ্তাহের বাজার এখান থেকে করে নিয়ে যাই। এছাড়া বাজারের সব ধরনের পণ্য এখানে একসঙ্গে পাওয়া যায়।' বাজারে নিত্যপণ্যের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সব জিনিসের দামই বেশি। প্রতি সপ্তাহেই বাজারে গিয়ে দেখছি কোনো না কোনো জিনিসের দাম বাড়ছেই। এ সপ্তাহে ভোজ্যতেলের দাম ৮০০ টাকা রাখলো। অথচ এর আগের সপ্তাহে তেলের দাম দেখেছিলাম ৭৪০-৭৫০ টাকা! চালের দামও বেড়েছে অনেক। শুনেছি আমন ধান উঠলে চালের দাম কমে, কিন্তু এবার আরো বেড়েছে!' তিনি জানান, এরফান ব্রান্ডের ২৫ কেজির এক বস্তা মিনিকেট চাল তিনি কিনেছেন ১৭০০ টাকায়।