'জাতি চায় পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার নামে হোক' শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত

'জাতি চায় পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার নামে হোক' শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত

নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে মঙ্গলবার শেখ হাসিনার ৪১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ রাজধানীর শেরেবাংলানগর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, 'শেখ হাসিনা না থাকলে নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু হতো না। পুরো জাতিই চায়, পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার নামে হোক।'

তিনি আরও বলেন, 'শেখ হাসিনার অসীম সাহসিকতার সোনালি ফসলের নাম পদ্মা সেতু। চলতি বছরের জুনেই সেতুটি চালু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটির উদ্বোধনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করবেন। সেতুটির উদ্বোধন নিয়ে অধৈর্য হওয়ার কোনো কারণই নেই। '

ওবায়দুল কাদের বলেন, 'পদ্মা সেতুর নামকরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানানো হবে। যদিও শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা তা চান না। আমিও সেই দাবি জাতীয় সংসদে করেছি। পদ্মা সেতুর নাম যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করা না হয়, তাহলে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসম্মান করা হবে।'

সড়কমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ তার পরিবারের সব সদস্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হয়েছে। তবে সব ষড়যন্ত্র দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান। গত ৫০ বছরে সবচেয়ে সৎ রাজনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। গণতন্ত্রকে সুসংগঠিত করতে বাংলার পথ-প্রান্তর চষে বেড়িয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। শেখ হাসিনা না ফিরলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হতো না, জয় বাংলা জাতীয় সেস্নাগান হতো না, অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়াও সম্ভব হতো না। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, শেখ হাসিনার সামনে পাথর বিছানো পথ। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী। আরও বক্তব্য রাখেন দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাহজান খান, আবদুর রহমান, কৃষিমন্ত্রী ডক্টর আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ডক্টর হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা।

এদিকে, যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর মু্যরাল ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রাশসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন স্তব্ধ বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে ধাবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আগামী দিনে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

কর্মসূচিতে আররও ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, রেজিস্টার ডা. স্বপন কুমার, বিএসএমএমইউ শাখা স্বাচিপের সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার টিটো, বিশ্ববিদ্যালয়টির এন্ড্রোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিমসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

প্রসঙ্গত, ১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রম্নয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন। অধিবেশনে দলের হাল ধরার জন্য শেখ হাসিনাকে সভাপতি করা হয়। তখন তার বয়স ছিল ৩৩ বছর। ১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা গিয়ে দিলিস্ন থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনেন। ওইদিন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আর প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিল তেজগাঁওয়ের পুরনো বিমানবন্দরে। তাৎক্ষণিক এক সমাবেশে শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন, 'সব হারিয়ে আমি আপনাদের মধ্যে এসেছি। আমার আর হারানোর কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সবাইকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমি আপনাদের মধ্যেই তাদের ফিরে পেতে চাই। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে