বাজারদর

স্বস্তি মিলছে না নিত্যপণ্যে

স্বস্তি মিলছে না নিত্যপণ্যে

নতুন অর্থবছরের প্রথম দিনে যথারীতি চড়াই রয়েছে রাজধানীর ভোগ্যপণ্যের বাজার। ব্যাপক শুল্ক হ্রাসে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত কিংবা ভোজ্যতেলের দাম কমানো হলেও তার সুফল পাচ্ছেন না ক্রেতারা। বন্যা আর ঈদকে কেন্দ্র করে উত্তাপ অব্যাহত রয়েছে পেঁয়াজ, আলুসহ সবজির বাজারে। এ সপ্তাহে কোনো পণ্যের দাম না কমলেও ফের বেড়েছে মুরগিসহ বেশকিছু সবজির দাম। ফলে নতুন অর্থবছরে এসেও বাজারে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না বেশিরভাগ ক্রেতা। কারণ বছর ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে খাদ্যসহ নিত্যব্যবহার্য সব পণ্যের দাম। এমনকি কোনো পণ্যের দাম কমানো হলেও তা ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে আবার ওই পণ্যের দাম পরিবর্তিত হয়ে যায়। গত সোমবার ভোজ্যতেলের দাম কমানো হলেও শুক্রবার বাড়তি দামে তেল কিনতে হয়েছে ক্রেতাদের। এ ক্ষেত্রে দোকানিরা বলেছেন, আগের দামে কেনা বলে তেলের বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে। তবে বড় বাজারগুলোতে কিছু দোকানে নির্ধারিত দামে খোলা সয়াবিন বিক্রি করতে দেখা গেছে। ক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ না থাকলেও যখন তেলের দাম ২০৫ টাকা লিটার করা হলো তখন বিক্রেতারা আগের তেল ঠিকই বাড়তি দামে বিক্রি করেছেন। এখন দাম কমানো হয়েছে কিন্তু ২০৫ টাকা বোতলের গায়ে রেট থাকায় বাড়তি সে দামেই বিক্রি করছে। এদিকে শুক্রবারও চড়া ছিল পেঁয়াজের বাজার। প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকার ওপরে। দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ নেই এমন অজুহাতে ২ সপ্তাহ ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে অতি প্রয়োজনীয় এই মসলা পণ্যটির দাম। তাই পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানির অনুমতি চাইছেন ব্যবসায়ীরা। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখনো দেশি পেঁয়াজের যে পরিমাণ মজুত রয়েছে তাতে ১ মাসের বেশি চাহিদা মেটানো সম্ভব। একই অবস্থা চালের বাজারে। ভরা মৌসুমে চালের সংকট রয়েছে এমন অজুহাতে গত দেড় মাস ধরে বাড়তি রয়েছে সব ধরনের চালের দাম। এদিনও রাজধানীর বাজারে চিকন চালের কেজি বিক্রি হয়েছে ৬৮-৯০ টাকা এবং মোটা চালের কেজি বিক্রি হয়েছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা দরে। এক মাসের ব্যবধানে চিকন চালে প্রায় ১০-২০ টাকা এবং মোটা চালে ৮-১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। তবে গত সোমবার বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অথচ শুল্ক বেশি থাকায় আমদানিতে আগ্রহ দেখায়নি বেসরকারি খাত। তাই প্রায় ৩৫ শতাংশ শুল্ক হ্রাসে অর্থাৎ আমদানিতে মাত্র ২৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু চালের বাজারে তার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি দাম দিয়ে হলেও এখনো বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতারা চাল কিনতে পারছেন। অথচ দেড় মাস আগেই পাইকারিতে চালের সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানো হয়। আর আমদানি শুরু হলেও তা বাজারে আসতে আরও ১ মাস সময় লাগবে। অর্থাৎ ৩-৪ মাসের মজুত থাকা সত্ত্বেও চালের সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছিল। এদিকে অতিবৃষ্টি আর বন্যার কারণে বাজারগুলো বাড়তি রয়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। সপ্তাহ ব্যবধানে চড়া দামে অপরিবর্তিত রয়েছ অধিকাংশ সবজির দাম। তবে কিছুটা বেড়ে এদিন প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে মান ও জাত ভেদে ৬০-৯০ টাকা পর্যন্ত। টমেটোর কেজি বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৬০ টাকা। পটোল, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙ্গা, ধুনদুল ও করলস্না কেজি ৫৫-৬০ টাকার মধ্যে, লাউয়ের পিস বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকা এবং প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকার ওপরে। সপ্তাহ ব্যবধানে কিছুটা বেড়েছে সোনালি মুরগির দাম। বাজারভেদে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ২৮০-২৯০ টাকা দরে। তবে অপরিবর্তিত ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে ব্রয়লার মুরগির কেজি। অন্যদিকে গরুর মাংশের কেজি বিক্রি হয়েছে ৭০০ টাকা দরে। এ সপ্তাহেও প্রায় অপরিবর্তিত মাছের বাজার। বড় আকারের ইলিশের সরবরাহ কমলেও বেড়েছে ছোট ইলিশের পরিমাণ। ৫০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৭৫০ টাকা ৭০০-৮৫০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৮৫০-৯০০ টাকা দরে। অপরিবর্তিত দামে বড় চিংড়ির কেজি বিক্রি হয়েছে ৯০০-১০০০ টাকা দরে। শোল, বোয়াল, আইড়, ট্যাংরা জাতীয় মাছের কেজি হয়েছে ৭০০ টাকার ওপরে। ছোট হরিণা ও বাগদা চিংড়ি বিক্রি হয়েছে ৬৫০ টাকার ওপরে। এ ছাড়াও রুই ও কাতলের কেজি বিক্রি হয়েছে ৩৫০ টাকার ওপরে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে