প্রস্তুত মহাসড়কের ডাকাতদের তালিকা

চলতি বছর ছয়টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে ঢাকা ও টাঙ্গাইলে দু'টি এবং গাজীপুর ও গোপালগঞ্জে একটি করে মামলা হয়েছে। ৫২ জন ডাকাতকে আসামি করা হয়েছে
প্রস্তুত মহাসড়কের ডাকাতদের তালিকা

দেশব্যাপী ৭৩টি থানা এবং ফাঁড়ির মাধ্যমে মহাসড়কের ডাকাত দলের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি মাসের ৪ তারিখে ডাকাত দলের সদস্যদের তালিকা করে ১৪ আগস্টের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা ডাকাতদের তালিকা তৈরি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তরে জমা দেয়। এবার এ তালিকা হাতে নিয়ে সাঁড়াশি অভিযানে নামছে হাইওয়ে পুলিশ। অভিযানের অংশ হিসেবে হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তর থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডাকাতি রোধে এবং মামলা মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া হয়েছে বাড়তি আরও ১০টি নির্দেশনা। ওই নির্দেশনা হাতে পাওয়ার পর পুলিশের সব ইউনিট নড়েচড়ে বসেছে। গোপনে ডাকাতদের অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বাড়িতে। ইনকোয়ারি স্স্নিপের মাধ্যমে ডাকাতদের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। তারা কারাগারে না বাইরে সে বিষয়টি এ ধরনের তদন্তে বেরিয়ে আসছে। এছাড়া ডাকাতি রোধে বাস মালিক ও শ্রমিকদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে যাতে যাত্রী তোলা না হয় সে ব্যাপারে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত রুটের বাইরে যাতে কোনো বাস চলাচল না করে সে বিষয়টিকে কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গত বুধবার ভিডিও কনফারেন্সে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন হাইওয়ে পুলিশের প্রধান মলিস্নক ফখরুল ইসলাম। পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানায়, মহাসড়কের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে সারাদেশের থানা এবং ফাঁড়িতে হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সম্প্র্রতি মহাসড়কে বাস ডাকাতি ও দসু্যতার ঘটনা ঘটছে। অপরাধী চক্রের সদস্যরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রীবেশে বাসে ওঠে। তারা সুযোগ বুঝে ডাকাতি, দসু্যতা এবং নারী নির্যাতনের মতো অপরাধে লিপ্ত। যাত্রীবাহী বাস এবং বাজার, জনসমাগমস্থলে ভিডিও রেকর্ডের ব্যবস্থা বা সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকার কারণে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জটিলতা তৈরি হয়। তাই যেসব স্থানে যাত্রী উঠা-নামার জন্য বাস থামে সেসব স্থান সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রার আগে যাত্রীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি নতুন যাত্রী ওঠানোর সময় ছবি তোলা ও তা সংরক্ষণ করতে বাস মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। হাইওয়ে এবং জেলা পুলিশের মোবাইল পেট্রোলিং টিম যথাসময়ে যথাস্থানে কর্তব্য পালন করছে কিনা তা সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিবিড়ভাবে তদারকি করবেন। দায়িত্ব পালনে ব্যত্যয় হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে হবে। সূত্র আরও জানায়, দূরপালস্নার গাড়িতে ডেস্ক ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ওই ক্যামেরার মাধ্যমে গাড়ির যাত্রীদের মনিটরিং করা হবে। সেখানে একটি বিশেষ ডিভাইস থাকবে। ওই ডিভাইসটি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। গাড়িটি কোনো বিপদে পড়লে ওই ডিভাইসে চাপ দিলেই সংকেত চলে যাবে ৯৯৯-এ। এর মাধ্যমে ৯৯৯ স্থানীয় থানার মাধ্যমে বিপদে পড়া গাড়ির বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারবে। এছাড়া ওই ডিভাইসের মাধ্যমে গাড়ির অবস্থানও নির্ণয় করা যাবে। হাইওয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছর মহাসড়কে ছয়টি চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে ঢাকা ও টাঙ্গাইলে দুইটি এবং গাজীপুর ও গোপালগঞ্জে একটি করে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৫২ জন ডাকাতকে আসামি করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ১০টি নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে, কোনো ডাকাতি বা দসু্যতার ঘটনা ঘটলে এজাহারকারীর বক্তব্যের আলোকে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করতে হবে। এজাহারকারীর দেওয়া তথ্যে কোনো অসামঞ্জস্যতা দেখা গেলে তথ্য যাচাই করে অনতিবিলম্বে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। ডাকাতির মামলায় পুলিশ সুপার বা মেট্রো ডিসি মামলা তদারকি করবেন। দসু্যতার মামলা হলে পুলিশ সুপার নিজে অথবা নূ্যনতম একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তা তদারকি করবেন। সাজা ভোগকারী ডাকাত ও ডাকাতি মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদিসহ তালিকা করতে হবে এবং তাদের অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। ডাকাতি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে পার্শ্ববর্তী পুলিশ ইউনিটগুলোর সঙ্গে আন্তঃযোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি এবং তথ্য বিনিময় করতে হবে। ঘটনার পরপরই সম্ভাব্য স্থানে আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং দ্রম্নততম সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার করতে হবে। দসু্যতা, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক মামলার কারণে বরখাস্ত হওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাক্তন সদস্যদের তালিকা সংরক্ষণ করতে হবে এবং তাদের অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। ডাকাতি ও দসু্যতা প্রতিরোধে সময়ে সময়ে একাধিক ইউনিট সমন্বিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম যথাযথভাবে এবং যথাসম্ভব দ্রম্নততম সময়ে শেষ করে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। গণমাধ্যমে ডাকাতি বা দসু্যতার সংবাদ প্রকাশ হলে তা দৃষ্টিগোচর হওয়ামাত্র বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সঙ্গে প্রাপ্ত তথ্যের গরমিল দেখা গেলে তা যথাযথভাবে যাচাই করে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে ইউনিটের মিডিয়া ফোকাল পারসনের মাধ্যমে জানাতে হবে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ২০২১ সালের ১ ফেব্রম্নয়ারি পাঠানো ডাকাতি মামলা প্রতিরোধ সংক্রান্ত সাধারণ নির্দেশনাবলি যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান মলিস্নক ফখরুল ইসলাম বলেন, 'জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল ও জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নতি করার পাশপাশি সারা দেশে ৮০টি বিশেষ টহল ডিউটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ছিনতাই, দসু্যতা ও ডাকাতি প্রতিরোধের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এটা আরও জোরদার করা হবে। হাইওয়ে পুলিশের পাঁচটি রিজিয়নের ৫৪টি স্থানে পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে যাত্রীবাহী বাসের ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে। চালক ও হেলপারদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ ও মহাসড়কভিত্তিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যকম শুরু হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউজ ডে কার্যক্রম অব্যাহত আছে। মহাসড়ককেন্দ্রিক অবৈধ হাট-বাজার এবং অবৈধ দোকান-পাট উচ্ছেদের পাশাপাশি ঝোপঝাড় কেটে পরিষ্কার করা হচ্ছে। সচেতনতা বাড়াতে জনসাধারণের মধ্যে দুই লাখ লিফলেট এবং হাইওয়ে পুলিশের মোবাইল নম্বর সংবলিত এক লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বিপুলসংখ্যক অযান্ত্রিক যান আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাম্প্রতিক অভিযানে প্রায় ২২ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে