রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
উচ্চ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপন জারি

ইসির সেই ৮৫ কর্মকর্তা চাকরিচু্যত

ম যাযাদি রিপোর্ট
  ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
চূড়ান্তভাবে চাকরি হারালেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ৮৫ কর্মকর্তা। চলতি মাসের ১ তারিখ উচ্চ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই কর্মকর্তাদের চাকরি পুনর্বহালের ২০১০ সালের আদেশটি বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে চারদলীয় জোট সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া এবং ২০০৭ সালে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মূল্যায়ন পরীক্ষার পর নিয়োগ বাতিল হওয়া ওই ৮৫ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে পুনর্বহালের আদেশ চূড়ান্তভাবে বাতিল করল ইসি। ইসির জনবল ব্যবস্থাপনা শাখার সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত ২৬ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে উলেস্নখ করা হয়েছে, আপিল বিভাগের সিভিল আপিল নং ২১/২০১১, ২২/২০১১, ২৩/২০১১ ও ২৪/২০১১ এর ১-৯-২০২২ তারিখের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাকরিচু্যত ৮৫ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ১৩ মে ২০১০ তারিখের নিকস/থাঃপ্রঃ/কর্ম/অবঃ পুনঃনিয়োগ/৩(২৫)/২০১০/১৮১ নং প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশটি এতদ্বারা নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ৩২০ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। দলীয় বিবেচনায় এই নিয়োগ হওয়ার সমালোচনা উঠলেও তৎকালীন এমএ আজিজ কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এরপর ২০০৭ সালের ফেব্রম্নয়ারিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রতিবেদন দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে ওই কর্মকর্তাদের দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি উলেস্নখ করে জাতীয় নির্বাচন যাতে প্রশ্নের সম্মুখীন না হয়, সেজন্য ইসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এর ভিত্তিতে তখনকার সেনাসমর্থিত এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন শিক্ষানবিশকালেই ৩২০ কর্মকর্তার যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়। এতে অনুত্তীর্ণ ৮৫ কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করা হয়। পরে তারা আদালতে গেলে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবু্যনাল আদালত ২০১০ সালে ১২ এপ্রিল তাদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য বলেন নির্বাচন কমিশনকে। ওই আদেশ বলে নির্বাচন কমিশন ২০১০ সালের ১৩ মে ৮৫ কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবু্যনাল আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চারটি লিভ টু আপিল করে। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারক ২০১০ সালের ২৯ এপ্রিল আপিল ট্রাইবু্যনালের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য পাঠান। ২০১১ সালে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আপিল করে। শুনানির পর গত ১ সেপ্টেম্বর ২০১০ সালের প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবু্যনাল আদালতের আদেশ বাতিল করে রায় দেন সর্বোচ্চ আদালত। যার পরিপ্রেক্ষিতে ইসিও আগের আদেশটি বাতিল করল। ফলে সেই ৮৫ কর্মকর্তার চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ আর থাকল না।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে