শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

অবদমন উন্মোচনে সাহিত্যে নোবেল অ্যানি আর্নাক্সের

ম যাযাদি ডেস্ক
  ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
১১৯তম লেখক হিসেবে চলতি বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি লেখক অ্যানি আর্নাক্স। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকাল পাঁচটায় সুইডেনের স্টকহোমে এক সংবাদ সম্মেলনে অদম্য এই লেখকের নাম ঘোষণা করে সুইডিশ একাডেমি। একাডেমি জানিয়েছে, সাহস ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্মৃতির শেকড়, বিচ্ছিন্নতা ও সম্মিলিত অবদমন উন্মোচন করেছেন ৮২ বছর বয়সি অ্যানি। যেখানে তিনি জীবনে জেন্ডার, ভাষা ও শ্রেণিগত বৈষম্যের শিকার হওয়াকে তুলে ধরেছেন। এজন্য ২০২২ সালে সাহিত্যে তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন ঔপন্যাসিক আবদুলরাজাক গুরনাহ। তাঞ্জানিয়ার নাগরিক আবদুলরাজাক গুরনাহ যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। তিনি মূলত ইংরেজিতে লেখেন। তার \হ বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে প্যারাডাইস (১৯৯৪), বাই দ্য সি (২০০১) এবং ডেজারশন (২০০৫)। ২০২০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন আমেরিকান কবি লুইস গস্নাক। ২০১৯ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অস্ট্রিয়ান লেখক পিটার হান্দক। অ্যানি আর্নাক্স ১৯৪০ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তার বয়স ৮২ বছর। অ্যানি আর্নাক্সের সাহিত্য মূলত আত্মজীবনীমূলক, সমাজবিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার লেখা প্রথম উপন্যাস 'লে আরমোয়ার বিড', যা ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়। কিন্তু ২০০৮ সালে 'লে অ্যানি' প্রকাশ হওয়ার পর তিনি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। এটি ২০১৭ সালে 'দ্য ইয়ার্স' নামে ভাষান্তরিত হয়। বৃহস্পতিবার বইটি সম্পর্কে একাডেমি বলেছে, এটি তার সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প, যা তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দিয়েছে। আগের দিন বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ক্যারোলিন আর বের্তোজি, ডেনমার্কের মর্টেন মেলডাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কে. ব্যারি শার্পলেস এ বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা আসে। ক্লিক রসায়ন এবং বায়োঅর্থোগোনাল রসায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় তারা এ পুরস্কার অর্জন করেন। তবে এদের মধ্যে শার্পলেস ২০০১ সালে রসায়নে নোবেল পেয়েছিলেন। তিনি নোবেলের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিজ্ঞানী হিসেবে দুই বার রসায়নে এই সম্মাননা পেলেন। বুধবার নোবেল কমিটি জানায়, কঠিন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য রসায়নে এবার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ব্যারি শার্পলেস এবং মর্টেন মেলডাল যৌথভাবে কার্যকরী ক্লিক রসায়নের ভিত্তি স্থাপন করেছেন। যে প্রক্রিয়ায় পদার্থের অণুগুলো খুব দ্রম্নত এবং কার্যকরভাবে সংযুক্ত হয়। আর ক্যারোলিন বের্তোজি জীবিত কোষে ক্লিক কেমিস্ট্রির ব্যবহার করে অনন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন। প্রত্যেকে নোবেল পুরস্কারের অর্থ তিন ভাগের এক ভাগ করে পাবেন। তাঁদের গবেষণা আগামী দিনে ওষুধ শিল্পকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে মনে করছে নোবেল কমিটি। মঙ্গলবার বিজড়িত ফোটন কণা নিয়ে কোয়ান্টাম বলবিদ্যার 'যুগান্তকারী' গবেষণায় অবদানের জন্য পদার্থবিদ্যায় নোবেল পান তিন গবেষক। এ দিন বাংলাদেশ সময় বিকাল পৌনে ৪টায় স্টকহোমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস। তারা হলেন- ফরাসি বিজ্ঞানী অ্যালেইন অ্যাস্পেক্ট, যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী জন এফ ক্লজার এবং অস্ট্রিয়ার বিজ্ঞানী অ্যান্টন জেলিঙ্গার। মঙ্গলবার নোবেল কমিটি জানিয়েছে, পদার্থ বিজ্ঞানে এ বছর যারা পুরস্কার পেয়েছেন তারা বিজড়িত কোয়ান্টাম অবস্থা ব্যবহার করে যুগান্তকারী পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন, যেখানে দুটি কণা আলাদা হওয়ার পরেও অভিন্ন এককের মতো আচরণ করে। এই ফলাফল কোয়ান্টাম তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নতুন প্রযুক্তির দুয়ার খুলে দিয়েছে বলেও উলেস্নখ করে কমিটি। চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরতত্ত্বে অবদান রাখায় এদিন সুইডিশ বিজ্ঞানী সোয়ান্তে প্যাবোর নাম ঘোষণা করে নোবেল কমিটি। বিলুপ্ত হোমিনিন জিনোম এবং মানব বিবর্তন সম্পর্কিত গবেষণার জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশে সময় বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে তার নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় নোবেল কমিটির সেক্রেটারি থমাস পার্লম্যান জানান, 'বিলুপ্ত হোমিনদের জিনোম এবং মানবজাতির বিবর্তন সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য সুডিশ বিজ্ঞানীকে ২০২২ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞান অথবা শরীরতত্ত্বে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।' ১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাসে আলফ্রেড নোবেল নিজের মোট উপার্জনের ৯৪ শতাংশ (৩ কোটি সুইডিশ ক্রোনার) দিয়ে তার উইলের মাধ্যমে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করেন। এই বিপুল অর্থ দিয়েই শুরু হয় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান। ১৯৬৮-তে তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি। পুরস্কার ঘোষণার আগেই মৃতু্যবরণ করেছিলেন আলফ্রেড নোবেল। আইনসভার অনুমোদন শেষে তার উইল অনুযায়ী নোবেল ফাউন্ডেশন গঠিত হয়। তাদের ওপর দায়িত্ব বর্তায় আলফ্রেড নোবেলের রেখে যাওয়া অর্থের সার্বিক তত্ত্বাবধান করা এবং নোবেল পুরস্কারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করা। বিজয়ী নির্বাচনের দায়িত্ব সুইডিশ একাডেমি আর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটিকে ভাগ করে দেওয়া হয়। আজ শুক্রবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। সবশেষ ১০ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে অর্থনীতিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে