রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯

এখন ছাড় দিচ্ছি ডিসেম্বরে ছাড়ব না

রাজধানীর বাড্ডায় ওবায়দুল কাদের
যাযাদি ডেস্ক
  ০৬ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
বিভাগীয় শহরগুলোতে অনুষ্ঠিত বিএনপির সমাবেশে আওয়ামী লীগ ছাড় দিচ্ছে দাবি করে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, 'এখন ছাড় দিচ্ছি, ডিসেম্বরে ছাড়ব না। মুক্তিযুদ্ধের মাসে রাজপথ বিএনপির থাকবে না, থাকবে আওয়ামী লীগের। এই রাজপথ মুক্তিযুদ্ধের রাজপথ, বিজয়ের মাসের রাজপথ, বিজয়ের চেতনার রাজপথ।' শনিবার রাজধানীর বাড্ডা ইউলুপে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তিমিছিল পূর্বক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপিকে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'সামনে ডিসেম্বর মাস। আপনারা নাকি শেখ হাসিনাকে হটিয়ে খালেদা জিয়াকে নিয়ে আসবেন? ইরানের ইমাম খোমেনি স্টাইলে ঢাকার রাজপথে বিপস্নব ঘটাবেন? জনতার শক্তির কাছে আপনাদের এই রঙিন খোয়াব কর্পূরের মতো উবে যাবে।' ঢাকার শান্তি সমাবেশ জনস্রোতে পরিণত হয়েছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'এখানে এসে বরিশালে বিএনপির সমাবেশের কথা ভাবছি। তারা টাকা দিয়ে ছয় জেলার লোক নিয়ে দুই-চার দিন আগে থেকে বরিশালে জমায়েত করেছে। আর ঢাকায় আমাদের এখানে ছয় থানার লোক, যা বরিশালের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে।' ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগ নেতা একেএম রহমত উলস্নাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিপস্নব বড়ুয়া প্রমুখ। এদিকে, শনিবার কুমিলস্না টাউন হল মাঠে কুমিলস্না মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বায়দুল কাদের বলেছেন, 'লাঠির আগায় জাতীয় পতাকা বেঁধে আন্দোলনের নামে লাল-সবুজের পতাকার অবমাননা করেন। এই পতাকার অবমাননা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। ফাইনাল খেলা হবে ডিসেম্বরে, রাজপথে। দেশবিরোধী অপশক্তির মোকাবিলা হবে। যারা মা-বোনের বুক খালি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে মোকাবিলা হবে। যারা আগুন সন্ত্রাস করেছেন তাদের বিরুদ্ধে মোকাবিলা হবে। কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নোয়ানো হবে না, কোনো অপশক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না।' কুমিলস্না মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন। তিনি জড়িত না থাকলে খুনিদের দুঃসাহস হতো না বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার। পাকিস্তানিরাও যাকে হত্যা করতে পারেনি, হত্যা করার সাহস পায়নি- খুনি জিয়ার মদদে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্টের খুনিদের পুরস্কৃত করেছেন, খুনিদের বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দিয়েছেন।' আমাদের স্টাফ রিপোর্টার কুমিলস্না জানান, এ সময় ওবায়দুল কাদের অভিযোগ তুলে বলেন, 'খুন আর হত্যার রাজনীতিতে বিএনপির হাত রক্তে রঞ্জিত। তারা বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা কম করেনি। ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে তারা যতই মুছে ফেলতে চেয়েছে ততই তারা নিজেরা মুছে গেছে এবং সংকুচিত হয়েছে।' ওবায়দুল কাদের বিএনপির কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, 'কেন খুনিদের পুরস্কৃত করা হলো? সে ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানও খুনের মাস্টারমাইন্ড। তার নির্দেশে ও প্রত্যক্ষ মদদে একুশে আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আইভি রহমানসহ নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়। এদেশের মানুষের দোয়ায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা, তিনি বেঁচে আছেন বলেই আমরা বেঁচে আছি। শেখ হাসিনা বাঁচলে দেশ বাঁচবে।' আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, 'বিএনপি শুধু দুর্যোগের কথা বলে। কিন্তু তারা একটি দুর্যোগ। মহাদুর্যোগের নাম বিএনপি। এই অপশক্তির হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। টেমস নদীর ওপার থেকে ফরমায়েশ আসে, বিএনপির নেতাকর্মীরা খোয়াব দেখছেন। তাদের রঙিন খোয়াব, যা কর্পূরের মতো উড়ে যাবে। হাওয়া ভবনের যুবরাজ তারেক রহমান ২১ আগস্টসহ অন্যান্য হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ড। দন্ড মাথায় নিয়ে রাজনীতি করবেন না। কোনো দন্ডিত নেতাকে দেশের মানুষ মেনে নেবে না।' ওবায়দুল কাদের বলেন, 'খেলা হবে, খেলা হবে। আন্দোলনে, নির্বাচনে, ভোট চুরির বিরুদ্ধে, ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে। যারা ১৭ কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, ভুয়া ভোটার বানানোর বিরুদ্ধে খেলা হবে। টাকা ওড়ে মহলস্নায়। তবে টাকার খেলা হবে না।' ক্ষমতায় এলে বিএনপি গণতন্ত্র হরণ করবে দাবি করে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে আবারও ভোট চুরি করবে, খুন করবে। গণতন্ত্র হরণ করবে এই বিএনপি। যতই নাচানাচি করেন, লাফালাফি করেন- বিএনপির সঙ্গে জনগণ নেই। দুবাই থেকে টাকা আসে, খোঁজ পেয়েছি। ব্যবস্থা হবে। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে, তারা যত চেঁচামেচিই করুক, যত সমাবেশ করুক, ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারবে না। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে।' এর আগে ওবায়দুল কাদের বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। এতে অন্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক বাবু সুজিত রায় নন্দী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ডক্টর সেলিম মাহমুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুস সবুর প্রমুখ। সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমিলস্না মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিলস্না সিটি করপোরেশনের মেয়র আরফানুল হক রিফাত। সম্মেলনের ২য় পর্বে কাউন্সিলরদের সমর্থনের ভিত্তিতে দ্বিতীয়বারের মতো সদর আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহারকে সভাপতি ও আরফানুল হক রিফাতকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন প্রধান অতিথি।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে