মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

আতঙ্ক নিয়েই ঢাকামুখী বিএনপি নেতাকর্মীরা

হাসান মোলস্না
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে গণগ্রেপ্তারের অভিযোগের পাশাপাশি নাশকতা ও নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা এখন সরগরম। সঙ্গত কারণে এই সমাবেশকে ঘিরে আছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। সমাবেশের সময় যত ঘনিয়ে আসবে প্রতিকূলতার তীব্রতাও বাড়বে- এমন বিবেচনায় সারাদেশ থেকে বিএনপি নেতাকর্মী ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। অনেকে এরই মধ্যে চলে এসেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা কোনো ধরনের নাশকতা যেন সৃষ্টি না হয় সেজন্য নিয়মিত তৎপরতার অংশ হিসেবে রাজধানীতে বিশেষ অভিযানও চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিশেষ অভিযানের গ্রেপ্তারের তালিকা শুধু লম্বা হচ্ছে। এমনকি বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘরেও অভিযান চালানো হচ্ছে। গ্রেপ্তার-হয়রানি বন্ধে ডিএমপি কমিশনারের কাছে অনুরোধও জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, সমাবেশস্থল এখনো ঠিক হয়নি, অন্যদিকে চলছে পাইকারি গ্রেপ্তার। এর বাইরে ক্ষমতাসীনরা নাশকতা, জ্বালাও পোড়াও শব্দ ব্যবহার করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। উদ্বেগ ও আতঙ্ক নিয়েই সমাবেশের কয়েক দিন বাকি থাকতেই নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। সূত্র মতে, অনেক নেতাকর্মী ইতোমধ্যে ১০ ডিসেম্বরকে টার্গেট করে ঢাকায় পৌঁছেছেন। তাদের সঠিক পরিসংখ্যান কেউ জানাতে না পারলেও বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা জানান, সেটাও লাখের উপরে হবে। ঢাকামুখী এই আসার প্রক্রিয়া সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়বে। বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে পরিবহণ ধর্মঘট, পুলিশি চেকপোস্ট, ক্ষমতাসীনদের পাহারা ইত্যাদি প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে শঙ্কা প্রকাশ করে আগেভাগেই বেশিরভাগ নেতাকর্মী ঢাকায় চলে আসছেন এবং অনেকে পরিকল্পনা নিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারা দেশের জেলা, মহানগর, থানা, ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসছেন। গ্রেপ্তার এড়াতে ঢাকাতেও তারা বিভিন্ন কৌশল নিচ্ছেন। এদের কেউ আওয়ামী লীগ সমর্থিত আত্মীয়-স্বজনের বাসা-বাড়িতে উঠছেন, কেউ ঢাকার মূল কেন্দ্র থেকে একটু দূরে বন্ধু-বান্ধব কিংবা ঘনিষ্ঠদের আশ্রয়ে উঠেছেন। গত কয়েক দিনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, দিনে রাতে নেতাকর্মীদের ভিড়। লোকসমাগম যেন বাড়ছেই। স্থানীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আছেন স্স্নোগান আড্ডায়। সমাবেশের আরও কয়দিন বাকি থাকলেও এরই মধ্যে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকায় চলে এসেছেন বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচিত 'হেকমত আলী চাচা'। রংপুর বিভাগীয় গণসমাবেশে সত্তোরোর্ধ এই হেকমত আলী কুড়িগ্রাম থেকে ৬০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে যোগদান করেছিলেন। বিএনপি সমর্থিত এই বৃদ্ধ নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে অবস্থান করছেন। দলের নেতাককর্মীরাই তার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করছেন। শীত নিবারণের জন্য পোশাক দিয়েছেন। রাতের ঘুমের সময়টুকু ছাড়া কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের মিছিল-সমাবেশেই দিন পার করছেন হেকমত আলী। এছাড়া খুলনা থেকে ঢাকায় এসেছেন যুবদল নেতা শাহীন হাওলাদার। বর্তমানে তেজগাঁও এলাকায় এক বন্ধুর বাসায় অবস্থান করছেন। এমন অসংখ্য নেতাকর্মীরা আছেন যারা অনেক দূরের জেলা থেকে সমাবেশের জন্য ঢাকায় চলে এসেছেন। বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানান, যে কোনো মূল্যে তারা ঢাকার গণসমাবেশ সফল করবেন। তাদের যে প্রস্তুতি তাতে সরকার ও প্রশাসন বাধা দিলেও সর্বকালের সবচেয়ে বড় গণসমাবেশ করতে সক্ষম হবেন তারা। এ সমাবেশ থেকেই তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের কর্মসূচিও থাকতে পারে। এদিকে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করতে প্রতিদিনই বৈঠক করছেন নেতারা। দেওয়া হচ্ছে নির্দেশনা। প্রতিদিনই বিভিন্ন কৌশলে প্রকাশে কিংবা নীরবে প্রচারপত্র বিলি করছেন। দলীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকে মাইক লাগিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। এসবের বাইরে মতবিনিময় সভা, প্রস্তুতি সভা, বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন দলটির নীতিনির্ধারক নেতারা। গঠন করা হয়েছে মিডিয়া সেল, প্রচার সেল, শৃঙ্খলা সেলসহ বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক কমিটি। এর বাইরেও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নেতাকর্মীদের ব্যাপক প্রচারণা। সমাবেশের প্রস্তুতির বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে ১০ ডিসেম্বর গণসমাবেশ দমানো যাবে না। সরকারের দমনপীড়ন ও সন্ত্রাস মোকাবিলা করেই ঢাকার সমাবেশ করতে বিএনপি প্রস্তুত।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে