দেশে কোটিপতির সংখ্যা কমেছে

প্রকাশ | ১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০০

যাযাদি রিপোর্ট
বৈশ্বিক অর্থনীতির সংকটের প্রভাব কিছুটা ব্যক্তি খাতেও পড়েছে। গত তিন বছর ধরে মহামারি করোনাভাইরাস ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অর্থনীতিতে বিরূপ অবস্থা বিরাজ করছে। তার ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। আর এমন পরিস্থিতিতে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশে কোটিপতির সংখ্যা কমেছে। গত তিন মাসের ব্যবধানে দেশে কোটিপতি কমেছে ১ হাজার ৯৩৭ জন। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ব্যাংকগুলোয় কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ৪৫৭ জন। আর সেপ্টেম্বর শেষে কোটিপতির পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৫২০ জন। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দেশে কোটিপতি কমেছে ১ হাজার ৯৩৭ জন। জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ কোটি ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার ৮৮টি। যাদের হিসাবে জমা ছিল ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। একই বছরের জুন পর্যন্ত আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৯৫ লাখ ১৪ হাজার ৫১৩টি। যাদের হিসাবে জমা ছিল ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে এক লাখ ৬ হাজার ৫২০টি হিসেবে কোটি টাকার ওপর রাখা রয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিকে এর সংখ্যা ছিল এক লাখ এক হাজার ৯৭৬টিতে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০টি ক্যাটাগরিতে কোটিপতি আমানতকারীদের হিসাব করেছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে গত ৩০ জুনে ৫০ কোটি টাকার বেশি হিসাবধারী ছিল ১ হাজার ৮০৫ জন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তা কমে হয়েছে ১ হাজার ৬৬০ জনে। আলোচ্য সময়ে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানতকারীর কমেছে ১৪৫ জন। এর মধ্যে একই ব্যক্তির একাধিক হিসাবও রয়েছে। ওইসব হিসাবে গত ৩০ জুনে আমানত ছিল ২ কোটি ৬৩ হাজার টাকা। এখন তা কমে ২ লাখে দাঁড়িয়েছে। ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার আমানতকারীদের হিসাব গত ৩০ জুন ছিল ৬২১টি। গত ৩০ জুনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২৩টি। এ খাতে হিসাব কমেছে ৯৮টি। ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার হিসাব গত ৩০ জুন ছিল ৩০৭টি। ৩০ সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৯টিতে। এ সময় হিসাব বেড়েছে ৭টি। ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার হিসাব ৩০ জুনে ছিল ৫০২টি। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫৮টি। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে হিসাব কমেছে ৫৬টি। ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার হিসাব কমেছে ২৩টি। গত জুনে ছিল ৮৮৩টি। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬০টি। ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার হিসাব আলোচ্য সময়ে ১ হাজার ১৫১টি থেকে কমে ১ হাজার ১৪৭টি হয়েছে। আলোচ্য সময়ে হিসাব কমেছে ৪টি। ১ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকার আমানতকারীর সংখ্যাও কমেছে।