ঢাকা উত্তর নিবার্চন

প্রতীক নিয়ে প্রচারে আতিক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার প্রান্তসীমা উত্তরখান এলাকা থেকে গণসংযোগ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রাথীর্ আতিকুল ইসলাম।

প্রকাশ | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

যাযাদি রিপোটর্
প্রতীক বরাদ্দের পর ঢাকা সিটি উত্তরের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রাথীর্ আতিকুল ইসলাম সোমবার রাজধানীর উত্তরখান এলাকায় নিবার্চনী গণসংযোগ করেন Ñযাযাদি
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার প্রান্তসীমা উত্তরখান এলাকা থেকে গণসংযোগ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রাথীর্ আতিকুল ইসলাম। ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে উপনিবার্চনে প্রতীক বরাদ্দের পরদিন সোমবার বেলা ১১টার দিকে শাহ কবির মাজারে যান নৌকার প্রাথীর্ আতিক। তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকমীর্রা। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান ব্যবসায়ী আতিক। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আপনারা জানেন, ঢাকা একটি ঘনবসতিপূণর্ এলাকা। এই ঢাকা শহরে যত নিবাির্চত সংসদ সদস্য রয়েছেন এবং খেটে খাওয়া মানুষ রয়েছেন সবাইকে নিয়ে ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করব। যেদিন থেকে দায়িত্ব পাব সেদিন থেকে আমার দায়িত্বে কোনো অবহেলা থাকবে না আমি সততার সাথে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর ঢাকা শহর গড়তে চাই।’ আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে হলে অবশ্যই আমাদের খেলার মাঠের কোনো বিকল্প নেই। তাই আমরা খেলার মাঠ করে দেব। যাতে করে খেলার মাঠে এসে আমাদের নতুন প্রজন্ম সঠিক দক্ষতায় বেড়ে ওঠে।’ প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন, তারও এ রকম হতে পারেÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এজন্যই কিন্তু আমরা সবর্প্রথম এখানে এসেছি। আমি কিন্তু অন্য জায়গায় যেতে পারতাম। আমি এই বিষয়টা গুরুত্ব দিয়েছি বলেই আমি গ্রাম থেকে শুরু করেছি।’ এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের যে ইউনিয়ন পরিষদগুলো (অন্তভুর্ক্ত নতুন ওয়াডর্) রয়েছে, এগুলো বড় চ্যালেঞ্জ। আমি শুনেছি, প্রি-একনেকে ৩২১৩ কোটি টাকা পাস হয়েছে। এখন একনেকে যাবে এবং পাস হবে। তাই আমি মনে করি, আমরা যে রাস্তাঘাট করব এবং যা যা কাজ করব সব সংস্থাকে সাথে নিয়ে করব। যাতে করে কালকে আর একটি সংস্থা এসে রাস্তা আবার খেঁাড়াখুঁড়ি শুরু করবে আমি এটাকে মোটেও সমথর্ন করি না এবং ভবিষ্যতেও করব না। সকল সংস্থার সমন্বয়ে যেকোনো কাজ একবারই হবে।’ নৌকা শুধু সামনের দিকে যেতে পারে, পেছনের দিকে যেতে পারে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘এটি হলো আমাদের প্রতীক, নৌকা প্রতীক। আমি নৌকা প্রতীকের একজন প্রাথীর্। আপনারা দেখেছেন গত ৩০ তারিখে (৩০ ডিসেম্বর) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মানুষ কীভাবে ভোট দিয়েছে। তাই আপনাদের কাছে আমি ভোট চাচ্ছি আগামী ২৮ ফেব্রæয়ারি সবাই এসে আমাদের নৌকাকে, আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করবেন।’ আতিকুল বলেন, ‘নতুন যে ওয়াডর্গুলো রয়েছে তাদের যে কাউন্সিলর হবে আমি তাদের নিয়ে নতুন ওয়াডর্গুলোকে নতুনভাবে সাজাব। এবং একটি সুন্দর ওয়াডর্ দিতে পারব বলে আমি আশা করি। আমি কারও স্বপ্ন, আশা বৃথা যেতে দেব না। আপনাদের নিয়ে একটি সুন্দর নগরী করব ইনশাল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন, এই এলাকার মাননীয় সাংসদ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। আমি তার দোয়া চাই, ভালোবাসা চাই।’ জমিজমা-বাড়িগাড়ি নেই শাফিনের এদিকে বাড়ি নেই। নেই গাড়ি। কোনো কোম্পানিতে শেয়ারও নেই। অলঙ্কার, জমিজমাও নেই। হাতে আছে কেবল ১০ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৩ লাখ। এমন অবস্থা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নিবার্চনে (ডিএনসিসি) মেয়র পদে জাতীয় পাটির্র মনোনীত প্রাথীর্ প্রখ্যাত ব্যান্ড শিল্পী মোহাম্মদ শাফিন আহমেদের। ডিএনসিসি নিবার্চনে শাফিনের জমা দেয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এর বাইরে তার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ও আসবাবপত্র রয়েছে ২ লাখ টাকার। তিনি পড়াশোনা করেছেন স্নাতক পযর্ন্ত। তার নেই কোনো দায়দেনা ও মামলাও। সংগীতশিল্পী হিসেবে শাফিনের বছরে আয় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তা দিয়েই বতর্মানে থাকেন রাজধানীর গুলশানে। গত রোববার শাফিনের হাতে তার নিবার্চনী প্রতীক লাঙ্গল তুলে দেন ডিএনসিসির রিটানির্ং কমর্কতার্ আবুল কাশেম। অন্য প্রাথীের্দর মতো এখন তারও চলছে নিবার্চনী প্রচার। এর আগে ঋণখেলাপির কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করলেও নিবার্চন কমিশনে আপিলে তা ফিরে পান শাফিন। ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপ-নিবার্চন ও উত্তর-দক্ষিণ সিটির সম্প্রসারিত ৩৬ ওয়াডের্ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোট হবে আগামী ২৮ ফেব্রæয়ারি। মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে উত্তর সিটিতে উপ-নিবার্চন হতে যাচ্ছে।