অর্থের ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে জাপায় কোন্দল

প্রকাশ | ১৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০০:০০

যাযাদি রিপোর্ট
নির্বাচনী জোটের রাজনীতিতে বরাবরই আলোচিত জাতীয় পার্টি। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে ভোট-পরবর্তী দলীয় কোন্দল, বিশেষ করে পরাজিত প্রার্থী ও শীর্ষ নেতৃত্বের অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের এমন ভরাডুবি ও শীর্ষ নেতাদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাত দিন ধরে চলমান নেতাকর্মীদের ক্ষোভ গড়িয়েছে সমাবেশে। যেখানে মনোনয়ন বাণিজ্যসহ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অবহেলা ও নির্বাচনকালীন অর্থের ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হওয়া নেতাদের অভিযোগ, এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে প্রার্থীদের মাঠে নামিয়ে দল থেকে কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। পরে সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় আসন ভাগাভাগি করে ২৫৭ জন প্রার্থীকে বলি দেওয়া হয়েছে। নৌকা কিংবা নৌকা সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে পেরে উঠবে না জেনেও দলের সিদ্ধান্ত ও সহযোগিতার আশ্বাসে তারা নির্বাচন করেছেন। এর বিনিময় নির্বাচন পরিচালনায় দল থেকে আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রম্নতি দেওয়া হলে তা দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, জাপার শীর্ষ নেতৃত্বর গুটিকয়েক বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পেলেও তা তাদের না দিয়ে আত্মসাৎ করেছে। এ জন্য জাপা চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও হ চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে সরাসরি দ্বায়ী করছেন জাপার নেতাকর্মীরা। এ ছাড়াও রওশনপন্থিদের বাদ দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ায় আগেই ক্ষুব্ধ শীর্ষ নেতৃত্বের বড় একটি অংশ। অন্যদিকে নির্বাচনে ২৬ আসনে ছাড় পেয়ে মাত্র ১১টি আসন পেতে সক্ষম হয় জাতীয় পার্টি। ছাড় দেওয়া আসনের মধ্যে নৌকা কিংবা আওয়মী লীগের কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই- এমন আসনেই কেবল জয় পেয়েছেন তারা। ফলে এবার ভোটের পরই জাপার পরাজিত প্রার্থীরা মনোনয়ন বাণিজ্য, নির্বাচনী আসন সমঝোতা ও মনোনয়নপত্রের অর্থসহ বিভিন্ন উৎস হতে প্রাপ্ত অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে অসন্তোষের জেরে চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাওসহ ক্ষোভ জানিয়ে আসছেন। সর্বশেষ রোববার জাপার কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা-৪ থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার নেতৃত্বে পরাজিত প্রার্থীরা তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজধানীতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সেখানে পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব চুন্নুকে বাটপার, প্রতারক বলেও সমাবেশে গালি দেন পরাজিত প্রার্থীরা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, লিয়াকত হোসেন খোকা ও মহানগর উত্তরের সভাপতি শফিকুল ইসলাম সেন্টু। এ ছাড়াও সাবেক এমপি ইয়াহিয়া চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, আমানত হোসেন খান, যুগ্ম মহাসচিব আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, ফখরুল আহসান শাহজাদা, আব্দুল হামিদ খান ভাসানি, হাসান ইফতেখার, মিজানুর রহমান মিরু, সাহিন আরা চৌধুরী রিমা, সুজন দে, শাহনাজ পারভিনসহ অনেক নেতা। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সেন্টু বলেন, ভোটের আগে ২৩ জন প্রার্থী আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তাদের আক্ষেপ, ক্ষোভ বা দুঃখ যে, আমরা নমিনেশন পেপার সাবমিট করে নির্বাচনী প্রচারের কাজে ব্যস্ত। ঢাকায় আসলাম মহাসচিব, চেয়ারম্যান হয়ত আমাদের কিছু দেবেন। এ কারণে আমরা ঢাকায় এসেছি। আমি তাদের বক্তব্য শুনেছি। ঢাকায় আমাকে ছাড়া তারা আর কাউকে পাননি। প্রার্থীরা বলেছেন, আমরা নির্বাচন থেকে সরে আসছি। আমাদের যা ছিল খরচ করেছি। আমাদের যদি কিছু সহযোগিতা না করেন, তাহলে আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। জাপা মহাসচিব টাকা দেবেন বলে প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছিলেন জানিয়ে সেন্টু বলেন, আমি তাকে বললাম, যাই পারেন, কিছু কিছু দেন। মহাসচিব বললেন, টাকা পেয়েছি, কিন্তু অল্প। উনি কী করলেন, চেয়ারম্যানের স্ত্রীর কাছে একটা এমাউন্ট দিয়ে চলে গেলেন নির্বাচনী এলাকায়। কোনো প্রার্থীকে তিনি কিছু বলেননি। মহাসচিব বললেন, সেন্টু এটা শেরীফা কাদের দেখবেন। তিনি বলেন, আপনারা সমঝোতা করলেন। সরকার ২৬টি সিট তুলে দিয়েছে। সরকার কোনো কৃপণতা করেনি, আমার জানা মতে। সরকার সব কিছু আপনাদের ভরপুর দিয়েছে, কোনো কিছু বাকি রাখেনি। অর্থ দিয়েছে, সিটও দিয়েছে। সিট আপনারা ২৬টি আনছেন, এটা আপনাদের ব্যর্থতা। সরকারের কোনো ব্যর্থতা নেই। সরকার আপনাদের ভরপুর দিয়েছে। আমরা জানি, বাবলা ভাই জানে, খোকা সাহেব জানে। সেস্টু দাবি করেন, যখনই শেরীফা কাদেরের সিটটা কনফার্ম হয়নি, জিএম কাদের বললেন, আমি ভোটে যাব না। যেই তার স্ত্রীর (শেরীফা কাদের) সিটটা দিয়ে দিয়েছে, সে (জিএম কাদের) দৌড়ে চলে গেছে। জিএম কাদেরকে উদ্দেশ্য করে সাবেক এমপি ও সিলেটের প্রার্থী ইয়াহিয়া চৌধুরী বলেন, আপনি গণতন্ত্র শিখিয়েছেন, আপনার মধ্যে গণতন্ত্র নেই। আপনি স্ত্রীর জন্য ফিরোজ, বাবলা, খোকা, পীর ফজলু, আতিক, ভাসানিসহ ৯টি সিট কোরবানি দিয়েছেন। সমঝোতার আসনের জন্য চেয়ারম্যান নিজের স্ত্রী, নাতি আর মেয়ের ভাসুরের জন্য দৌড়াদৌড়ি করেছেন। সিরাজগঞ্জের মুখতার হোসেন বলেন, রক্তমাংস, দোকানপাট বিক্রি করে নির্বাচন করেছি। স্বতন্ত্র ও নৌকার লোকদের হামলার মুখে জীবন যায়, কিন্তু দলের কোনো সহযোগিতা পাইলাম না। একটু দেখা পর্যন্ত দিলেন না। তারা আমাদের বরাদ্দকৃত টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন। একটু দেখা পর্যন্ত দিলেন না। তারা আমাদের বরাদ্দকৃত টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন।