খালেদা জিয়া এমন কিছু করেননি যে তাকে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ | ১৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার কালিবাড়ি নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন -যাযাদি
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগ নেতা হানিফের বক্তব্য খন্ডন করে বলেছেন, খালেদা জিয়া এমন কিছু করেননি যে তাকে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি অন্যায় করেননি, কোনো অপরাধ করেননি, নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে সরকার ক্ষমতার জোরে তাকে বন্দি করে রেখেছে। আইন যেহেতু সরকার ও শাসকদের করায়ত্ত, তাই আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে। বুধবার কালিবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় পৌর বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক তারিক আদনান, যুবদল নেতা আবু তাহের দুলালসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক নৈরাজ্য ও টানাপোড়েনের প্রভাব সাম্প্রতিক চামড়া বাজারের বিপর্যয়ের কারণ, মানুষ কোরবানির চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সেটা পুঁতে ফেলেছেন বা ফেলে দিয়েছেন। এটা দেশের বিরাট অর্থনৈতিক ক্ষতি যার দীর্ঘস্থায়ী বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে লেদার শিল্পের উপর। তিনি এজন্য সরকারকে দায়ী করে বলেন, সরকারের পূর্বপরিকল্পনার অভাবে, চামড়া ব্যবসায়ীদের চামড়া কেনার জন্য সুবিধাজনক ঋণ প্রদানে অনীহা- এসব কারণেই এই নজিরবিহীন নৈরাজ্য ঘটেছে। আর এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পশুপালনকারী, চামড়া ক্রয়কারী এমন কি চামড়ার সঙ্গে যুক্ত বড় ব্যবসায়ীরাও। তিনি আরও বলেন, তথাকথিত মাথাপিছু আয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশি বেশি দেখিয়ে সরকার দাবি করছে তারা উন্নয়নের রোল মডেল, বিরাট একটা উন্নয়ন করে ফেলেছেন, কিন্তু তাদের সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেশের বড় বড় অর্থনীতিবিদরা দেখিয়েছেন, এসব আসলে আরেকটি গণপ্রতারণা। আজ ব্যাংক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এ কথা উলেস্নখ করে তিনি বলেন, মানুষ টাকা তুলতে গেলে টাকা পায় না, সরকার টাকা নিয়ে টাকা ব্যাংককে ফেরত দেয় না, আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে আবার অন্যদিকে সরকারি খরচ বাড়ানো হচ্ছে, যা আসছে জনগণের ট্যাক্স থেকে। আগে একটা পরিবার থেকে একটা ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে একজন থাকতে পারতেন, এখন সেখানে একই পরিবারের ৪ জন থাকার নিয়ম করা হয়েছে। এভাবে আওয়ামী লীগের কিছু লোকজনের কাছে চলে যাচ্ছে জনগণের সমস্ত টাকা। আর এর মাধ্যমে দেশে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বিনিয়োগ কমিয়ে ও নিরুৎসাহিত করে দেশকে বিদেশের বাজারে পরিণত করা হচ্ছে।