অভিযানের নেপথ্যের কারণ খুঁজছে বিএনপি

প্রকাশ | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

যাযাদি রিপোর্ট
ক্ষমতার প্রায় একযুগে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদক নির্মূলে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও হঠাৎ কেন ক্ষমতাসীনরা শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন- এর পেছনে কোনো ঘটনা আছে কি না, নাকি এটি শুধুই আইওয়াশ তা জানার চেষ্টা করছে বিএনপি। দুর্নীতি, মাদক, জুয়া ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারের হার্ডলাইন সূক্ষ্ণভাবে পর্যবেক্ষণ ও নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে আছে দলটি। বাহ্যিক চাপ, না রাজনৈতিক নতুন কৌশল তা শনাক্ত করেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে চান তারা। জানা গেছে, সরকারি দলের ভেতরের এই দুর্নীতির ইসু্যটিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি। দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ ও সেমিনারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতাদের মাদক ও জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরে সরকারের বিরুদ্ধে তারা জনমত গঠন করবেন। চলতি মাসে অনুষ্ঠেয় তিন বিভাগীয় সমাবেশে দুর্নীতির এসব বিষয় তুলে ধরে সরকারের পদত্যাগের জোরাল দাবি জানাবে বিএনপি। একই সঙ্গে নতুন নির্বাচনের দাবিও করবেন তারা। আগামীকাল ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট, ২৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ ও ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে দলটির। বিএনপি সূত্রমতে, ক্ষমতাসীনরা কেন নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছেন তা নিয়ে বিএনপিতেও ভাবনা আছে। দলের নেতাদের ধারণা, এটি সরকারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হতে পারে অথবা বাইরে থেকে সরকারকে এ অভিযান চালাতে বাধ্য করা হতে পারে। দলের সিনিয়র এক নেতা জানান, ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো আন্দোলন না থাকলেও দুর্নীতির বিষয়টিকে সামনে এনে অন্য কেউ ফায়দা নিতে চায় কি না তাও ভাবা হচ্ছে। সরকারকে ব্যর্থ দেখাতে এটি কারও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও হতে পারে। যেমনটি হয়েছিল ওয়ান-ইলেভেনের সময়। যখন ক্ষমতার পালাবদল হয়, তখন মূল প্রচার ছিল দুর্নীতি। তখন বলা হয়েছিল, বিএনপি-জামায়াত দুর্নীতিতে দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে। সূত্রমতে, শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চলমান অভিযানের বিষয়ে নীতিনির্ধারণী ফোরামের নেতারা কথা বলেছেন। তারা চাঁদাবাজির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক রব্বানীর পদ কেড়ে নেয়া এবং গত কয়েকদিন ধরে মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন বিশেষ করে যুবলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রতিটি বিষয়ের পেছনে কী যুক্তি থাকতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ অভিযানের বিষয়ে গত কয়েকদিনে দলের বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা হচ্ছে। বিএনপি নেতাদের ফাঁসানোর চেষ্টা হতে পারে এমন আলোচনাও হচ্ছে। তবে একে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না তারা। কারণ এ ইসু্যতে বিএনপি নেতাদের ফাঁসানোর বিষয়টি জনগণ নাটক হিসেবে মনে করবেন বলে বিএনপি নেতাদের ধারণা। এরপরও রোববার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খানকে জড়িয়ে একটি অনলাইনে সংবাদও এসেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যায়যায়দিনকে বলেন, কারা সংবাদ পরিবেশন করছে তা দেখতে হবে। বিশেষ সংবাদ মাধ্যমের কাজ বিশেষ সংবাদ পরিবেশন করা, যা কেউ বিশ্বাস করে না। বিএনপি নেতাদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যে সংবাদ হয়েছে তা কোনো পাগলেও বিশ্বাস করবে না। তিনি বলেন, দুর্নীতি এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। এটি এখন বিএনপির বলার দরকার হয় না। যেখানে একটি পর্দার দাম ৩৭ লাখ টাকা, একটি বালিশের দাম ৭ হাজার টাকা, একটি বইয়ের দাম ৮৫ হাজার টাকা। চারদিকে শুধু দুর্নীতি, দুর্নীতি আর দুর্নীতি। এ অবস্থায় একটি রাষ্ট্র কোনো মতেই চলতে পারে না।