শান্তিতে নোবেল পেলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ | ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

যাযাদি ডেস্ক
আবি আহমেদ আলী
এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী। শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। শুক্রবার নরওয়ের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকভল ৩টা) রাজধানী অসলো থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এবারের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে। গত বছর ইরিত্রিয়ার সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয় ইথিওপিয়া। এতে দুই দেশের সীমান্ত যুদ্ধের পর গত ২০ বছরের অচলাবস্থার নিরসন হয়েছে। পাঁচ সদস্যর নোবেল ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ব্রেইট রেইস অ্যানড্রেসেন বলেন, এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় তার প্রচেষ্টা ও প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষ এড়াতে তার পদক্ষেপের জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতেও যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন আবি। দেশটির মন্ত্রীপরিষদে অর্ধেক নারী নিয়োগ দেওয়াসহ দেশটির প্রথম নারী প্রতিরক্ষামন্ত্রীও এসেছে তার সময়ে। ইথিওপিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করেছেন গত বছরের ১৬ অক্টোবর। দীর্ঘ এক বছরের রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থার মধ্যে গত বছরের এপ্রিলে দায়িত্ব নেন ৪৩ বছর বয়স্ক প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীনদের (ইথিওপিয়ান পিপলস রেভলু্যশনারি ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) দ্বারাই এ পদে অধিষ্ঠিত। আবি নিগৃহীত অরম জাতিগোষ্ঠীর নেতা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের ফসল তার বিজয়। ২০২০ সালে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেবেন বলে তিনি শপথ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিজ্ঞা করেছেন, তিনি একটি নতুন ইথিওপিয়া উপহার দেবেন। আরও প্রতিজ্ঞা করেছেন, বহুধা বিভাজিত দেশটির সব জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় সমতা আনবেন। তিনি নিজে অরম জাতিগোষ্ঠী থেকে আগত, যে অরমরা দেসেলেন একনায়কত্বের সময় নানা বঞ্চনার শিকার হয়। নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যমতে, এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য ৩০১টি মনোনয়ন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ২২৩ জন ব্যক্তি ও বাকি ৭৮টি প্রতিষ্ঠান। তবে, গত ৫০ বছর ধরেই বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করে না নোবেল কর্তৃপক্ষ। এর আগে, সোমবার (৭ অক্টোবর) চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন দুই মার্কিন ও এক ব্রিটিশ বিজ্ঞানী। তারা হলেন- যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম কায়েলিন জেআর ও গ্রেগ এল. সিমেনজা এবং ব্রিটেনের স্যার পিটার জে.র্ যাটক্লিফ। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিকালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ বিভাগে এবার যৌথভাবে নোবেল জিতেছেন জেমস পিবলস, মিশেল মেয়র এবং দিদিয়ের কেলোজ। এর মধ্যে জেমস পিবলস পেয়েছেন পুরস্কারটির অর্ধেক। আর বাকি অর্ধেক পেয়েছেন মিশেল মেয়র এবং দিদিয়ের কেলোজ; অর্থাৎ চার ভাগের এক ভাগ করে। বুধবার (৯ অক্টোবর) রসায়নে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে দ্য রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস। এ বছর যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন- জন বি. গুডএনাফ, এম. স্ট্যানলি হুইটিংহাম ও আকিরা ইয়োশিনো। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) একসঙ্গে দুই বছরের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে নোবেল কমিটি। এ বছর বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক এ পুরস্কার পেয়েছেন অস্ট্রিয়ান উপন্যাসিক, নাট্যকার ও অনুবাদক পিটার হান্ডকে। অন্যদিকে ২০১৮ সালের জন্য নোবেল পেয়েছেন পোল্যান্ডের লেখক, অধিকারকর্মী ও বুদ্ধিজীবী ওলগা তুকারজুক। বিতর্কের কারণে গত বছর এ বিভাগে পুরস্কার স্থগিত রাখা হয়। আগামী সোমবার (১৪ অক্টোবর) দ্য রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস ঘোষণা করবে অর্থনীতিতে নোবেল জয়ীর নাম। ১৯০১ সাল থেকে নিয়মিত নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তবে, দ্বিতীয় ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এ পুরস্কার দেওয়া বন্ধ ছিল। প্রতিবছর চিকিৎসা, পদার্থ, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতি- এ ছয়টি বিভাগে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।