logo
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৭ আশ্বিন ১৪২৭

  আহমেদ তোফায়েল   ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

মাত্র ৫০% অর্জন

চ্যালেঞ্জের মুখে আমন সংগ্রহ

৬ ফেব্রম্নয়ারি পর্যন্ত ৪ লাখ ৫৩ হাজার টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। যা ফেব্রম্নয়ারি ২৮ তারিখের মধ্যে ৯ লাখ ৫০ হাজার টন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫০ শতাংশ

কৃষকদের আকর্ষণীয় দামের প্রস্তাব দিয়েও চলতি মৌসুমে সরকারের আমন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সংগ্রহের বেশির ভাগ সময় চলে গেলেও সামান্য পরিমাণই ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে খাদ্য অধিদপ্তর। এ অবস্থায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশয় প্রকাশ করে খাদ্য অধিদপ্তর থেকে মাঠ প্রশাসন ও মাঠ পর্যায়ের খাদ্য কর্মকর্তাদের আমন সংগ্রহ জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য অবশ্য আমন সংগ্রহ শুরু করতে বিলম্ব এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে খাদ্যশস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারের দুর্বল দিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৬ ফেব্রম্নয়ারি পর্যন্ত ৪ লাখ ৫৩ হাজার টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। যা ফেব্রম্নয়ারি ২৮ তারিখের মধ্যে ৯ লাখ ৫০ হাজার টন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫০ শতাংশ।

খাদ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হয়তো বাকি ৫০ শতাংশ কিনে আমন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নাও হতে পারে। এর একটি কারণ হলো, চলমান আমন ক্রয় নির্ধারিত তারিখের এক মাস পর শুরু হয়েছিল।

খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংগ্রহ) আলমগীর কবির অবশ্য বলেছেন, গত এক মাসে আমন কেনার গতি উলেস্নখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তারা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদী। তবে যদি প্রয়োজন হয় তাহলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য তারা সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারেন।

খাদ্যের মজুত গড়ে তুলতে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সরকারের সংগ্রহের বড় একটি অংশ আমন থেকে করতে চাচ্ছে সরকার। সংকটকালে বাজার নিয়ন্ত্রণে এই মজুত সরকারের অন্যতম হাতিয়ার। একই সঙ্গে কৃষককে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও এই সংগ্রহের অন্যতম উদ্দেশ্য। এবারই প্রথম আমনের মৌসুমে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গত বছরের ৩১ অক্টোবর খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে ৬ লাখ টন আমন ধান কিনবে সরকার। একই সঙ্গে ৩৬ টাকা দরে সাড়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন চাল ও ৩৫ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার টন আতপ চাল কেনা হবে।

গত ২০ নভেম্বর থেকে ধান ও ২ ডিসেম্বর থেকে চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ধান-চাল সংগ্রহ চলবে ২৮ ফেব্রম্নয়ারি পর্যন্ত। এবার আমনে 'কৃষকের অ্যাপ' এর মাধ্যমে দেশের ৮ বিভাগের ১৬ উপজেলায় ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে লটারির মাধ্যমে। কিন্তু তারপরও কৃষক নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিতর্ক ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, যারা কখনো কোনো দিন ধান চাষ করেননি তাদের নাম লটারিতে উঠেছে। তাদের টিকিট কিনে নিচ্ছে কিছু দালাল। সেই দালালরাই খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহের দায়িত্ব পায়। তাই সময় মতো ধান পাচ্ছে না সরকার।

গত ২০ জানুয়ারি 'অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহ ২০১৯-২০ এর আওতায় প্রকৃত কৃষকের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ জোরদারকরণ' বিষয়ে সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ।

চিঠিতে বলা হয়, চলতি অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহ ২০১৯-২০ এর আওতায় উৎপাদক কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে উপজেলা পর্যায়ে ওয়েবসাইটে কৃষক তালিকা প্রকাশ, তালিকাভুক্ত কৃষকের তালিকা উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির কাছে হস্তান্তর করা এবং হস্তান্তরিত তালিকা থেকে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার ব্যবস্থা নিতে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ধান সংগ্রহের সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনুরোধও করা হয়েছে চিঠিতে।

খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংগ্রহ) সাইফুল কাবির বলেন, শীত, বৃষ্টিসহ নানা কারণে সংগ্রহ কম হয়েছে। তবে শেষদিকে সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ে। আশা করি, নির্ধারিত সময়ে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

এদিকে আগামী বোরো মৌসুমে সংগ্রহ অভিযানে সারাদেশে ডিজিটাল অ্যাপসের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা থেকে বোরো ধান-চাল কেনা হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় অ্যাপসে সহযোগিতায় খন্ডকালীন ভলান্টিয়ার নিয়োগ দেবে। আমন সংগ্রহ অভিযানে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে বগুড়া সদরসহ ১৬ উপজেলায় অ্যাপসের মাধ্যমে খাদ্য সংগ্রহে সুফল পাওয়া গেছে। কৃষকদের বিড়ম্বনা দূর করতে প্রতিটি স্থানীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার (এলএসডি) সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এখন থেকে যে হাসকিং (চালকল) মিলার এক বছর বন্ধ থাকবে। তারা চাল সরবরাহে বরাদ্দ পাবে না।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, ধান-চাল সরবরাহে কৃষকরা যাতে ঘরে বসেই আর্দ্রতার (ময়েশ্চার) মাত্রা নির্ণয় করতে পারেন সে জন্য মাঠ পর্যায়ের সব কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাকে ময়েশ্চার মিটার প্রদান করা হবে। মিটার কিনতে প্রয়োজনে অন্য ফান্ড থেকে অর্থ বরাদ্দ নেওয়া হবে।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে রপ্তানি পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মোটা চালের চেয়ে সরু চালের চাহিদা বেড়েছে। তারা চালের মানের (সরু চাল) প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে চাল আমদানির নিশ্চয়তা চায়। এ কারণে মন্ত্রী কৃষি কর্মকর্তাদের উচ্চ ফলনশীল (উফশী) সরু চাল উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়া আগামীতে বিশ্বের বাজারে উন্নতমানের চাল রপ্তানির লক্ষ্যে দুইশটি বিশেষায়িত সাইলো নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কৃষক বিড়ম্বনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের পুরানো তালিকার কারণে কিছুটা অসঙ্গতি হয়েছে। কৃষকদের হালনাগাদ তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়ে বলেন, যার যে পরিমাণ আবাদি জমি আছে সে অনুযায়ী দ্রম্নত তিন ধরনের কার্ড প্রদান করতে হবে। যাতে ফড়িয়া দালাল এবং ছদ্মবেশী কৃষক সরকারি কোনো সুবিধা নিতে না পারে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে