করোনার মধ্যে সুখবর

এশিয়ায় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশে

প্রকাশ | ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

যাযাদি ডেস্ক
চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রবৃদ্ধি কমে গেলেও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এটি একটি সুখবর। এডিবি বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে প্রবৃদ্ধি কমবে। এমনকি এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধিও কমে যাবে। শুক্রবার প্রকাশিত এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০২০-এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সরকার চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। গত অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। তবে এডিবি বলছে, আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আবার ৮ শতাংশ হবে। এদিকে, এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে। এডিবি বলছে, ২০২০ সালে এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে তারা মনে করছে। গতবছর গড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল এশিয়ায়। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীনে ২ দশমিক ৩ শতাংশ, ভারতে ৪ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে এডিবি। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্রম্নত বর্ধনশীল তৈরি পোশাকের রপ্তানির বড় বাজারগুলো থেকে চাহিদা কমায় বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ৮ শতাংশে নামবে। তবে বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের মধ্যে আস্থার উন্নয়ন হলে ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা এগিয়ে ৮ শতাংশে উঠতে পারে বলে আশা করছে এডিবি। 'শান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা অব্যাহত থাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানি ও আমদানিতে কমে যাওয়া এবং পরের বছর পুনরুদ্ধার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি ও উপযোগী আবহাওয়া বিদ্যমান থাকবে ধরে নিয়ে এই পূর্বাভাস তৈরি হয়েছে। তবে এই পূর্বাভাসে কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব বিবেচনা করা হয়নি।' এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন পারকাশ এক বিবৃতিতে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালোই করছে। তবে কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির কারণে তার পতনের ঝুঁকি আছে। 'এডিবির প্রাথমিক প্রাক্কলনে যে ইঙ্গিত মিলেছে যাতে এই মহামারির সামান্য প্রভাবে বাংলাদেশ দশমিক ২ শতাংশ থেকে দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি হারাতে পারে। তবে বাংলাদেশে এই প্রাদুর্ভাব বড় আকারে ছড়ালে এর ক্ষতিও আরও মারাত্মক হবে। তিনি বলেন, আরও তথ্য পাওয়া গেলে এই আউটলুক হালনাগাদ করা হবে। কোভিড ১৯-এর অভিঘাত মোকাবিলা ও প্রশমনে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে ও সহযোগিতা করতে এডিবি প্রতিশ্রম্নতিবদ্ধ। কোভিড ১৯-এর কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারের সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপের প্রশংসা করে মনমোহন পারকাশ বলেন, আর্থিক প্রণোদনা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে। এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ধনশীল আভ্যন্তরীণ চাহিদা ও প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জোরালো রয়েছে। উন্নয়ন খাতে সরকারের উচ্চ ব্যয়; তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) তেল ও নির্মাণসামগ্রীর আমদানি বৃদ্ধি; উপযোগী বিদু্যৎ উৎপাদন এবং রপ্তানি বাড়াতে সরকারের নীতি সহায়তার ফলে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে রপ্তানি চাহিদায় বিপর্যয়, ভোগ সংকোচন হলে ও রেমিটেন্স কমে গেলে এই প্রবণতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে মূল্যায়ন করতে না পারলেও এই মহামারির কারণে এর মধ্যেই শ্লথ গতিতে পড়া উন্নয়নশীল এশিয়ার অর্থনীতি চলতি অর্থবছরে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছে এডিবি। তবে সামনের বছরে গিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।