গাইবান্ধায় পানিবন্দি হাজারো পরিবার

প্রকাশ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন নতুন করে বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। এতে করে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের ১০ ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এছাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ক্ষেত ও বীজতলাসহ অন্তত ২ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল। অধিকাংশ পথঘাট তালিয়ে যাওয়ায় নৌকা ও ভেলায় চলাচলে দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। এদিকে, নদী ভাঙন অব্যহত থাকায় প্রতিদিনেই বিলীন হচ্ছে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘটাসহ চার উপজেলার তীরবতীর্ এলাকার শতশত বসতভিটে, গাছপালা ও ফসলি জমিসহ গুরুত্বপূণর্ স্থাপনা। ফুলছড়িতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়ার চরে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের অংশ নদী গভের্ বিলীন হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তার পানি বাড়ায় সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া, চন্ডিপুর, হরিপুর, তারাপুর ইউনিয়ন, সদরের কামারজানি, মোল্লারচর, ফুলছড়ির উড়িয়া, গজারিয়া, এরেন্ডারাবাড়ী ও সাঘাটার হলদিয়াসহ ৩০ চরাঞ্চল ও নিম্নঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে কাটা রাস্তাঘাটসহ বিস্তীণর্ ফসলি জমি। এছাড়া ভাঙনে গত এক সপ্তাহে সহস্রাধিক বসতভিটে বিলীন হয়েছে। বসতভিটে হারিয়ে ও ভাঙন আতঙ্কে দিশেহারা তীরবতীর্ এলাকার বাসিন্দারা। এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার এখন খেয়ে না খেয় মানবেতর জীবনযাপন করলেও খোঁজখবর নেয়নি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন। সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় অভিযোগ করছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। তবে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, চর ও নিম্নঞ্চলে বন্যাতর্ মানুষের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে তাদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ শুরু করা হয়েছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোডের্রর নিবার্হী প্রকৌশলী মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, বুধবার বিকেল পযর্ন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৭ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা, যমুনা, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি অপপরিবতীর্ত থাকলেও তা এখন বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই। গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আ.ক.ম রুহুল আমীন জানান, পানিতে বিভিন্ন এলাকায় আমন ক্ষেত, বীজতলা, মরিচ, সবজিসহ প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়েছে। পানি বাড়লে এসব ফসলের ক্ষতি হবে। তবে দুই-তিনদিনের মধ্যে পানি সড়ে গেলে ক্ষতির হাত থেকে এসব ফসল রক্ষা পাবে।