গুরুদাসপুরে হঠাৎ বেড়েছে হত্যাকান্ড ও আত্মহত্যা

গুরুদাসপুরে হঠাৎ বেড়েছে হত্যাকান্ড ও আত্মহত্যা

নাটোরের গুরুদাসপুরে হঠাৎ করেই বেড়েছে হত্যাকান্ড ও আত্মহত্যা। বিদায়ী বছরের শেষ সময় উপজেলাজুড়ে অপরাধ প্রবণতা অনেকটা কম ছিল। কিন্তু নতুন বছরের শুরু থেকে অপরাধ ও অপরাধীদের তৎপরতা অনেকটা বেড়ে গেছে। গত তিন মাসে পাঁচটি হত্যাকান্ড এবং ছয় মাসে ১৫টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

অপরাধ বিশ্লেষক ও সুশীলসমাজের ব্যক্তিরা মনে করছেন, দিনের পর দিন অপরাধীদের মানসিকতা বিকৃত হয়ে যাচ্ছে। এর পেছনে কাজ করছে মাদকের কুফল ও স্মার্ট ফোনে আসক্তি। এ ছাড়াও করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে মানুষ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ক্ষমতার লোভ, নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমে যাওয়া, সম্পত্তির লোভ, হিংসা-প্রতিহিংসা, সামাজিক অবক্ষয় ও নৈতিক স্খলনের কারণে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।

সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আকতার বলেন, করোনা মহামারির কারণে আর্থসামাজিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে খুন, আত্মহত্যা, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এবং অন্যান্য অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যেকোনো হত্যাকান্ডের সংবাদ আসার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতা এবং ফিল্ড ইন্টেলিজেন্স কাজে লাগিয়ে তারা আসামি ধরার চেষ্টা করছে। গত ৩ মার্চ গুরুদাসপুর উপজেলা পৌর সদরের নারীবাড়ী মহলস্নায় সেলিনা বেগম নামের এক মধ্যবয়সি নারীকে গলা কেটে হত্যা করে তার মেয়ে ববি আকতার। স্বামীর জন্য মোটরসাইকেল কিনে দিতে এক লাখ টাকা দাবি করে ববি আকতার। এ নিয়ে মা-মেয়ের ঝগড়া হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেস্নড দিয়ে মায়ের গলা কেটে হত্যা করে মেয়ে।

২৯ মার্চ উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের নওডপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবলু নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় বৃদ্ধ বাবলু হত্যা মামলার প্রধান আসামি আনোয়ার হোসেনকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৭ এপ্রিল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের পুরুলিয়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে ছোট ভাই আব্দুল মালেক বড় ভাই আব্দুল খালেককে কুপিয়ে হত্যা করে। ৭ মে বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী এলাকায় একটি মোবাইল ফোন ও ন্যারা মাথা নিয়ে কটূক্তি করায় ছয় বছরের শিশু মহিবুলস্নাহকে হত্যা করে ১২ বছরের কিশোর নয়ন।

সর্বশেষ চলতি মাসের ২ জুন উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের কাছিকাটা বিলকাঠোর এলাকায় এক অজ্ঞাত নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের জোড় তৎপরতায় পরিচয় মিলে সেই নারীর। অবাধ্য ও বিলাশবহুল জীবন-যাপনের কারণে স্বামীর হাতে খুন হন ওই নারী। ঢাকা থেকে হত্যা মামলার মূল আসামি স্বামী মিলন ইকবালকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ছাড়াও বেড়েছে আত্মহত্যা। চলতি বছরের গত ছয় মাসে কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষসহ মোট ১৫ জন আত্মহত্যা করেছেন। ১৯ মে পৌর সদরের চাঁচকৈড় খোয়ার পাড়া মহলস্নায় মেরিনা আক্তার নামের এক গৃহবধূ গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার কোনো কারণ বলতে পারেনি। এ ছাড়াও প্রায় প্রতিটি আত্মহত্যার কারণ জানতে গেলে পাওয়া যায়, পারিবারিক কলহ, পরকীয়া, সংসারে অস্বচ্ছলতা, অল্প বয়সে বিয়ে এবং অসুস্থতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কারণে এগুলো সংঘটিত হচ্ছে। গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, যেকোনো ধরনের অপরাধ ও অপরাধীদের দমন করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে থাকে। উপজেলায় এ পর্যন্ত যতগুলো হত্যাকান্ড ঘটেছে, প্রতিটির রহস্যই দ্রম্নত উদ্ঘাটন করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে