মানব সৃষ্ট কারণে পরিবেশ বিপযর্য়!

প্রকাশ | ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চরম পরিবেশ বিপযর্য় ঘটছে বলে পরিবেশবাদীরা সংশ্লিষ্ট ঊধ্বর্তন কতৃর্পক্ষ বরাবরে অভিযোগ করেছেন। তারা বলছেন, উপজেলার সবর্ত্র ব্যাঙের ছাতার মতো ইটভাটা স্থাপন, পাহাড় কাটা, অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাষাবাদযোগ্য জমির টপসয়েল ইটভাটায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ বসতী স্থাপনই পরিবেশ বিপযের্য়র অন্যতম কারণ। তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উধর্তন কতৃর্পক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন। জানা যায়, উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নে সবের্মাট ২১টি ইটভাটা রয়েছে। ইউনিয়নটি পাবর্ত্য বান্দরবান জেলার বনাঞ্চল ঘেঁষে অবস্থিত। এখানে বিপুল পরিমাণ বনভ‚মি রয়েছে। ভাটার নিগর্ত ধোঁয়ায় বনাঞ্চলের পশুপাখিরা আবাস হারাচ্ছে। খাদ্য ও আবাস হারিয়ে বন্যহাতিরা লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। উপজেলার পদুয়া তেওয়ারীখীল, কলাউজান, পশ্চিম কলাউজান, চরম্বার বিবিবিলা, চুনতি অভয়ারণ্য, বড়হাতিয়া বায়তুশ শরফ, লোহাগাড়া দরবেশহাট সংলগ্ন বোয়ালিয়াকুল, কলাউজান কালীবাড়ি সংলগ্ন স্থানে অধর্শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার কোন বৈধ লাইসেন্স নেই বলে উপজেলা নিবার্হী অফিসার আবু আসলাম জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, ভাটার মালিকরা জেলা প্রশাসক বরাবর দরখাস্ত দিয়ে ভাটার কাজ শুরু করেন। উপজেলার টংকাবতী, হাঙ্গর, ডলু, সরই, হাতিয়া ও পাগলি খালে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে বিরামহীনভাবে। টংকাবতী খালের রাজঘাটা এলাকায় আঁড়ি বঁাধ দিয়ে স্রোত পরিবতর্ন করে হাজারের অধিক সিএফটি বালু কেটে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। ফলে রাজঘাটা এলাকার জনসাধারণ আগামীদিনে ভাঙনের আশংকায় রাতযাপন করছেন। উপজেলার চুনতি ফরেষ্ট রেঞ্জ অফিসের আওতাধীন সাতগড় বনবিটে পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ বসতি স্থাপন করছেন প্রভাবশালীরা। উপজেলার বড়হাতিয়ার জঙ্গল রশিদেরঘোনা, কুমিরাঘোনা, হরিদাঘোনাসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চল বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন। তবে রেঞ্জ বন কমর্কতার্ জানিয়েছেন, অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক। লোহাগাড়ার যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙ্গে পড়ছে বলে এলাকাবাসীরা উপজেলা প্রকৌশলী বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে উপজেলা প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ নেই। অভিযোগে প্রকাশ, এলাকার কাঁচা রাস্তায় ইট, বালু ও কাঠবাহী ভারী যানবাহন চলাচল নিত্যনৈমত্তিক। ভারী গাড়ির চাপে রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ সমস্যা দীঘির্দন প্রকট আকার ধারণ করায় জনদুভোর্গও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে পরিবেশবাদীরা বলছেন। পশু-পাখির আবাসস্থল ও বনভ‚মি রক্ষায় দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।