হাওড় বাঁওড় নদী নালায় হেলে পড়া বিদু্যতের লাইনে ঘটছে দুর্ঘটনা

হাওড় বাঁওড় নদী নালায় হেলে পড়া বিদু্যতের লাইনে ঘটছে দুর্ঘটনা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের হাওড় বাঁওড় নদী নালায় যত্রতত্র পলস্নীবিদু্যতের লাইন। পানি থেকে ৫ ফুট কিংবা ৬ ফুট উচ্চতায় দীর্ঘ লাইন ছড়িয়ে রয়েছে উপজেলার সর্বত্রই। আর এ অবস্থায় চলমান বন্যায় নৌপথে চলাচল করতে গিয়ে বিদু্যতের লাইনে ঘটছে দুর্ঘটনা।

বুধবার বিকালে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের মাটিয়ান গ্রামের পাশে বিদু্যতের তারে জড়িয়ে গ্রামের মোশাহিদ মিয়ার ছেলে মাকসুদ মিয়া (১০) গুরুতর আহত হয়। চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে সে মারা যায়। একই সময়ে উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মানিকখিলা গ্রাম থেকে গরুর খরকুটো কিনতে বড়দল গ্রামে আসে রফিকুল ইসলামের ছেলে পারভেজ মিয়া (১১) ও তার ভাতিজা জিসান (১০)। সে সময় বড়দল গ্রামের রুহুল আমিনের রাইস মিলের সামনে নদীর পাড়ে বিদু্যতের ভাঙা খুঁটির তারে জড়িয়ে তারা দুজন গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে দুজন তাহিরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

উপজেলার সর্বত্রই যেভাবে বিদু্যতের তার ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এ অবস্থায় বিদু্যত চালু করলে দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।

শুধু স্থানীয় লোকজন নয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে ত্রাণ সরবরাহ করতে এসে নদী বা হাওড়পথে চলাচল করতে গিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। রাতে বিদু্যতের তার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে না। অনেকটা ঝুঁকির মধ্যেই চলাচল করছে ত্রাণ দিতে আসা নৌকাগুলো।

মেঘদূত নৌকার মাঝি রতনশ্রী গ্রামের সাইফুল মিয়া জানান, নদী পথে অনেকস্থানে পানি থেকে সামান্য উচ্চতায় বিদু্যতের লাইন রয়েছে। সেগুলোর নীচ দিয়ে কোনোরকম পারাপার হওয়া যাচ্ছে। অনেক গ্রামের সামনে বিদু্যতের তার খুব নিচুতে ত্রাণ দিতে গিয়ে নৌকা গ্রামে ভিড়াতে হয়। সে সময় তারে নৌকা আটকে যায়।

উপজেলার মাড়ালা গ্রামের শামীম আহমেদ বলেন, হাওড় বা নদীপথে চলাচল করতে গিয়ে এখন আতঙ্ক নিয়ে চলতে হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে অনেকে ত্রাণ দিতে নৌকা নিয়ে আসেন। যদি বিদু্যতের লাইন চালু থাকে আর অনাকাঙ্ক্ষিত তারে জড়িয়ে যায় তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তাহিরপুর পলস্নী বিদু্যত সমিতি ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাওড়ের ভাসমান পানির কারণে অনেক লাইন বিচ্ছিন্ন রয়েছে। যে এলাকায় বিদু্যৎ চালু রয়েছে সে সব এলাকার লোকজনদের বিভিন্নভাবে জানানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পলস্নী বিদু্যৎ সমিতির জিএম সুদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য হাওড়ের অনেক লাইন বন্ধ করে দিয়েছেন। বন্যার কারণে ভাসমান পানি। নদীপথে চলাচলে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে