বৃষ্টি ও জ্বালানি তেল-সারের মূল্য বৃদ্ধি যেন কৃষকের গলার কাঁটা

৭৫০ টাকার পটাশ সার ১৭০০ টাকায় বিক্রি
বৃষ্টি ও জ্বালানি তেল-সারের মূল্য বৃদ্ধি যেন কৃষকের গলার কাঁটা

ভরা বর্ষায় প্রথম দিকে বৃষ্টির অভাব, পরে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেল ও সারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় আমন চাষ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কৃষক। প্রথমদিকে বৃষ্টির অভাবে মেশিন দিয়ে সেচের মাধ্যমে চাষাবাদে তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। তার ওপর তেল ও সারের মূল্য বৃদ্ধি যেন 'মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা' হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো বিস্তারিত খবর-

আমাদের রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় আষাঢ় মাস থেকে শ্রাবণের মাঝামাঝি পর্যন্ত বৃষ্টির তেমন দেখা মেলেনি। অনেক কৃষকের চারা বীজতলাতেই নষ্ট হয়ে গেছে। তবে কেউ বাড়তি খরচ করে পানির মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে আমনের চারা রোপণ করেছেন। এদিকে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে পস্নাবিত হয়েছে পাঁচটি গ্রামের লোকালয় ও নিম্নাঞ্চল। ৬৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। বীজতলা করা হয়েছে ১ হাজার ২৫৫ হেক্টরে। ওইসব আমন ক্ষেত টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে এখন পানিতে নিমজ্জিত। অন্যদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি। ধান রোপণের শ্রমিক সংকটও দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সময়মতো পানি না পাওয়ায় ধানের বীজতলা তেমন ভালো হয়নি। তাই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহতের শঙ্কা রয়েছে।

উত্তর চরমোন্তাজ ইউনিয়নের কৃষক সাইদুল খান বলেন, তিনি এ বছর ছয় একর জমিতে ধান রোপণ করেছেন। খরায় বীজতলার চারা ভালো হয়নি। পরে আবার চারা তৈরি করে রোপণ করছেন। এদিকে জ্বালানি তেল ও সারের দামও বৃদ্ধি। তাই আগামী বছর থেকে চাষাবাদ ছেড়ে দেবেন বলে তিনি জানান।

চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্স্নুইজ বাজারের বিসিআসি ডিলার জিহাদ এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার সুমন বলেন, গত বছর আমন চাষের সময় ইউরিয়া সার ১৬ টাকা কেজি ও ৮০০ টাকা বস্তা ছিল। এ বছর ইউরিয়া সার ২২ কেজি ও ১১০০ টাকা বস্তা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জুয়েল বলেন, উপজেলায় এবার ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন।

এদিকে বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি জানান, ভরা আমন মৌসুমে চরম সার সংকটে পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা। ডিলারদের গুদামে নেই সার। বিক্রি হচ্ছে অতি গোপনে। বস্তাপ্রতি ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে (মূল্য রশিদ ছাড়া) কিনতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা সদরসহ ৮টি ইউনিয়নে বিসিআইসি ৮ ও বিএডিসি ২৫ লাইসেন্স প্রাপ্ত মোট ৩৩ জন ডিলার রয়েছেন। এদের অধিকাংশের নেই কোনো নিজস্ব অথবা ভাড়ায় চালিত গুদাম বা দোকান। কিছু অসাধু সুবিধাবাদী বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলার তাদের লাইসেন্স বার্ষিক চুক্তিতে সাধারণ সার ও বীজ ব্যবসায়ীর কাছে দিয়ে রেখেছে যুগের পর যুগ। বর্তমান সারের দাম নিয়ন্ত্রণ আর এসবের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

উপজেলার বড়বাড়ী রূপগঞ্জ গ্রামের কৃষক আবু সুফিয়ান, আইনুল হক ও তিলকড়া গ্রামের কৃষক তহিরুল হক জানান, কৃত্রিম সংকট আর মূল্য বৃদ্ধির কারণে সব জায়গায় সারের বাজার অস্থিতিশীল। বিসিআইসি ও বিএডিসির লাইসেন্সধারী সার ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে সারের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভরা আমন মৌসুমে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ৭৫০ টাকার পটাশ সার কিনতে হচ্ছে ১৭০০ টাকায়, বস্তাপ্রতি ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে, যার ফলে হাজারও প্রান্তিক চাষি সার কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বিএডিসি (সার) অধিদপ্তরের ঠাকুরগাঁও সহকারী পরিচালক আব্দুল আহাদ জানান, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৩৩ ডিলারের গত ১০ দিনের জন্য টিএসপি-১৫৮, এমওপি-২৯৪ ও ডিএপি-১০৪ মে. টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সে তুলনায় সার সংকট হওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় জানান, ইতোমধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ও সর্তক করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে