বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
walton1

বগুড়ার শেরপুরে ভেজাল পশু খাদ্য তৈরির মহোৎসব

অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না কারখানা প্রতারিত হচ্ছেন খামারিরা
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
  ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০

বগুড়ার শেরপুরে ভেজাল পশুখাদ্য তৈরির মহোৎসব চলছে। সরকারি কোনো অনুমোদন ছাড়াই উপজেলার অন্তত অর্ধশতাধিক কারখানায় তৈরি হচ্ছে মানহীন ভেজাল পশুখাদ্য। পরে সেসব খাদ্য বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির প্যাকেটে ভরে এবং তাদের লেভেল লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। প্রশাসন ও খামারিদের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট এই রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতারিত হচ্ছেন খামারিরা। সেইসঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে সম্ভাবনাময় এই প্রাণি সম্পদ সেক্টর। অভিযোগ রয়েছে, পশুখাদ্য তৈরির প্রধান উপকরণগুলোই ভেজালে ভরপুর। বিশেষ করে ডিওআরবি ও রাইচ ব্রানে মেশানো হচ্ছে খাবার অযোগ্য পণ্যসামগ্রী। এমনকি মারাত্মক ক্ষতিকর কেমিক্যাল। দ্বিগুণ লাভের আশায় ভেজাল কারবারিরা পচা ডিওআরবি ও রাইচ ব্রানের সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ আটা, সিক্লি, বালি মাটি, টাইলসের এক প্রকার সিরামিক্সের ধুলা মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে পশুখাদ্য। এই কারবারের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট চক্রটি লাভবান হলেও ভেজাল খাদ্য খেয়ে গবাদি পশু, মাছ-মুরগি বিভিন্ন রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া নির্ধারিত দামে ভেজাল পশুখাদ্য কিনে লোকসান গুনছেন খামারিরা। ফলে পোল্ট্রি সেক্টর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তারা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রনবীরবালা ঘাটপার থেকে শালফা-বথুয়াবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ৪-৫টি গোডাউনে পশুখাদ্য তৈরির উপাদান ডিওআরবি ও রাইচ ব্রানে মেশানো হচ্ছে এক প্রকার সিরামিক্সের ধুলা ও ডলোচুন। যাতে করে ওই পণ্যটির ওজন বৃদ্ধি পায়। পরে সেটি স্থানীয় মজুমদার ফুড প্রোডাক্স ও ওয়েস্টান ওয়েল মিলের বস্তায় ভরে পশুখাদ্য তৈরির কারখানায় পাঠানো হচ্ছে। সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনটি ভেজাল পশু খাদ্য তৈরির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে জরিমানাসহ কারখানাগুলো সিলগালা করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরমধ্যে খানপুর ইউনিয়নের শুবলী গ্রামস্থ জোয়াদ্দার পোলট্রি ফিড কোম্পানি সিলগালাসহ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা, মির্জাপুর বাজার ও ভীমজানি গ্রামস্থ শামিম হোসেনের মালিকানাধীন দুটি কারখানা সিলগালাসহ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের পর দুই থেকে তিনদিন বন্ধ রেখে আবারও নব উদ্যামে চালানো হচ্ছে কারখানাগুলোর কার্যক্রম। খামারি আতাউর রহমান ও আব্দুল মান্নান বলেন, নামিদামি কোম্পানির প্যাকেটে ও লেভেল লাগিয়ে বিক্রি করায় কোনটি আসল আর কোনটি নকল সেটি চেনাই কঠিন। অথচ এসব ভেজাল খাদ্যের প্যাকেটে লেখা নির্ধারিত দামেই কিনছেন তারা। কিন্তু এসব খাদ্য খাওয়ানোর পর কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে সোলায়মান আলী ও শফিকুল ইসলাম নামে দুই ব্যবসায়ী জানান, 'ডিওআরবি ও রাইচ ব্রানের বাজার খুবই বেশি হওয়ায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী ওই দুই ধরনের পণ্যে ভেজাল দিচ্ছেন। তারা দ্বিগুণ লাভ করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। তাদের সঙ্গে পালস্না দিয়ে ব্যবসার মাঠে আমরা টিকে থাকতে পারছি না। তাই আমরাও সেই পথ অনুসরণ করতে বাধ্য হয়েছি।' বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রায়হান পিএএ জানান, মানহীন পশুখাদ্য কিনে খামারিরা প্রতারিত হচ্ছেন। কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। ইউএনও সানজিদা আক্তার জানান, 'আমি এই উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছি। তাই অনেক বিষয় এখনো অজানা। তবে এই ধরনের ভেজাল কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে