মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

ভাঙ্গুড়ায় দ্বিগুণ দামে রাসায়নিক সার বিক্রি

ম ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় পৌরসদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজারগুলো দ্বিগুণ দামে রাসায়নিক সার এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) কিনতে বাধ্য হচ্ছে স্থানীয় কৃষক। এমওপি সারের চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কিছুটা কম থাকার সুযোগে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সরকারের নির্ধারিত ৭৫০ টাকা দামের ৫০ কেজির এক বস্তা সার ১ হাজার ৩৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৪শ' টাকায় বিক্রি করছেন বিসিআইসি ডিলার, সাব ডিলার ও বিএডিসি ডিলারা। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। এতে চলতি রবিশস্য মৌসুমে চাষাবাদ নিয়ে চরম বিপাকে এবং উৎপাদন খরচ নিয়ে কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে দ্বিগুণ দামে প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষক ইতোমধ্যে চাহিদা অনুযায়ী সার ক্রয় জমিতে ব্যবহার করেছে। ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ৬ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে ধান, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন ও শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন হয়। এসব ফসল উৎপাদনে সরকার নভেম্বর মাসে বরাদ্দ দিয়েছে ইউরিয়া সার ৪৮৫ মেট্রিক টন, টিএসপি সার ৭৫ মেট্রিক টন, ডিএপি সার ৫০০ মেট্রিক টন, এমওপি সার ২৩০ মেট্রিক টন। এ ছাড়া ডিসেম্বর মাসে বরাদ্দ পেয়েছে ইউরিয়া ৫১৪ মেট্রিক টন, টিএসপি ১শ' মেট্রিক টন, ডিএপি সার ৫৭০ মেট্রিক টন, এমওপি সার ২৫০ মেট্রিক টন। কোনো প্রকার সারের সংকট নেই বলছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। খানমরিচ ইউনিয়নের পুকুর পাড় গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম ফকির বলেন, 'আমি ৪০ বিঘা জমিতে ধান, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন, আলুসহ শাক-সবজির আবাদ করি। এ সময় আমার সব ধরনের রাসায়নিক সার প্রয়োজন। কিন্তু ডিলারদের কাছ থেকে ১ বস্তা পটাশ সার কিনতে গেলে সার নেই বলে বিদায় করে দিয়েছে। নিরুপায় হয়ে ৭৫০ টাকা মূল্যের এক বস্তা পটাশ সার ১ হাজার ৩৫০ টাকায় কিনেছি।' তার মতো একই ইউনিয়নের কঠোবাড়িয়া গ্রামের ইনসাফ আলী, সাইদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম একই অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত বিসিআইসি ডিলার মেসার্স জগন্নাথ শীল (খানমরিচ ইউপি)-এর প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম ও মেসার্স খাদিজা এন্টার প্রাইজ (দিলপাশার ইউপি)-এর প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম বাবলু আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমরা সরকার নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করছি। উপজেলার শস্যভান্ডারখ্যাত খানমরিচ ও দিলপাশার ইউনিয়ন এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে যে পরিমাণ কৃষকের সারের চাহিদা রয়েছে, সে পরিমাণ সার সরকারিভাবে বরাদ্দ পাচ্ছি না। ভাঙ্গুড়া ইউএনও নাহিদ হাসান খান বলেন, বিসিআইসি ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে রাসায়নিক সার বিক্রি করছে এমন অভিযোগ পাননি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে