মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

ভালো নেই হাওড়াঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষ

ম অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি, কর্মহীন হয়ে পড়া ইত্যাদি কারণে কিশোরগঞ্জের হাওড় অঞ্চলের শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া লোকজন অসহায় হয়ে পড়েছেন। দিন দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। ঘরে থাকা ধান বিক্রি করে আরও মারাত্মক অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছেন। কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওড় উপজেলাগুলো এক ফসলি বোরো উৎপাদনী এ অঞ্চলের ৮৫ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বোরো উৎপাদনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। প্রাপ্ত জরিপে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার মোট আবাদি ভূমির ৯০ ভাগেই বোরো উৎপাদন হয়। উৎপাদিত ফসলের ২০ ভাগ স্থানীয় খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে ৮০ ভাগ ধান বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত হয়ে থাকে। সরকারিভাবে উপজেলার খাদ্য গুদামে যৎসামান্য ধান সংগ্রহ করলেও বেশিরভাগ ধানই জাতীয় খাদ্যের সহায়তায় হয়ে থাকে। অন্য এক জরিপে জানা গেছে, এ অঞ্চলের বেশিরভাগই প্রান্তিক ও বর্গাচাষি। তারা অন্যের জমিতে কাজ করে বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে মজুরি বাবদ সারা বছরের খাবারের ধান সংগ্রহ করে থাকেন। অতি দরিদ্র পরিবারের মহিলারাও কৃষিকাজে মজুরি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কৃষকরা জানান, কার্তিক মাসে বোরো ধানের বীজতলা নির্মাণ করে চারা বোপণ করা হয়। অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ মাসে এ চারা জমিতে রোপণ করে। তীব্র শীত আর ঘনকুয়াশা উপেক্ষা করে এসব শ্রমজীবী লোকজন জমিতে রোপণ করে। আবার বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে ধান কাটা, মাড়াই করা, ধান শুকানো সর্বশেষ লোকজন মজুরি বিক্রি করে উপার্জন করে থাকেন। কয়েক বছর পর পর অসময়ে বর্ষা এবং সময়মতো বর্ষার পানি সরে না যাওয়ায় এসব শ্রমজীবী লোকজন কোনো কাজের সংস্থান করতে পারছেন না। এ ছাড়াও দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতিতে এসব মানুষের হাতে জমানো যা ছিল তাও প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে একদিকে নেই তাদের কাজকর্ম, অন্যদিকে পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসার চালাতেই বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে চরম বিপন্ন অবস্থায় দিনাদিপাত করছেন এসব শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া লোকজন। ইতোমধ্যে পরিবার নিয়ে তারা হাওড় ছেড়ে শহরের দিকে পাড়ি জমাচ্ছেন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে