লোহাগাড়ায় রেলের কাজ চলছে পুরোদমে

প্রকাশ | ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
দীঘর্ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায়ও পুরোদমে চলছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন নিমার্ণকাজ। গত ৩১ ডিসেম্বর পযর্ন্ত এই প্রকল্পের প্রায় ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নিদির্ষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রকল্পকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দেরি হওয়ায় নিদির্ষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় রয়েছে । দেখা গেছে, লোহাগাড়ার পশ্চিম আমিরাবাদ, আধুনগর ও চুনতি এলাকায় রেললাইনের স্থান চিহ্নিত করে রেলপথ তৈরির জন্য মাটি ভরাটের কাজ বেশ এগিয়েছে। রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা। মাটি ভরাটের কাজ শেষ হলে মূল রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু হবে। এছাড়াও চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় পুরোদমে রেললাইন নিমার্ণ কাজ চলছে বলে জানা গেছে। রেলের প্রকৌশলীরা গণমাধ্যমকে জানান, প্রকল্পের আওতাধীন চারটি বড় সেতুসহ ২৫টি সেতুর নিমার্ণকাজও শুরু হয়েছে। বড় সেতুগুলো নিমির্ত হচ্ছে মাতামুহুরী নদী, মাতামুহুরী শাখানদী, খরস্রোতা শঙ্খ এবং বঁাকখালী নদীর ওপর। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পকে পৃথক দুটি লটে ভাগ করা হয়েছে। একটি হচ্ছে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের চকরিয়া পযর্ন্ত ৫০ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয় লট হচ্ছে চকরিয়া থেকে কক্সবাজার সদর পযর্ন্ত। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) ও দেশীয় তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) ও দেশীয় ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড পৃথক দুই লটের কাযাের্দশ পায়। কাজ শুরুর তিন বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু বাস্তবায়নকাজ দেরিতে শুরু হওয়ায় ২০২২ সালের আগে নতুন লাইনের ওপর রেলের চাকা ঘোরার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। রেলওয়ে সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। ভ‚মির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে ২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে। নিদির্ষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে প্রকল্প ব্যয় বাড়তে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এ প্রকল্পে অথের্র জোগান দিচ্ছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা হেছে, এই প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু পযর্ন্ত ৮৮ কিলোমিটার, রামু থেকে কক্সবাজার পযর্ন্ত ১২ কিলোমিটার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পযর্ন্ত ২৮ কিলোমিটার রেলপথ নিমির্ত হবে।