সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯
walton1

অস্তিত্ব সংকটে উন্মুক্ত ধলেশ্বরী নদী বিপাকে কৃষক ও জেলেরা

অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
  ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০০
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এক সময়ের উন্মুক্ত ধলেশ্বরী নদীতে চাষ হচ্ছে ধান -যাযাদি
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের এক সময়ে উন্মুক্ত স্রোতবহ ধলেশ্বরী নদীতে ভরাট হয়ে অসংখ্য চর পড়ে বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে। যেমন নেই নদীর উন্মুক্ততা তেমনি নেই নদীতে পানি। বর্তমানে নদীর পরিবর্তে বোরো দান চাষাবাদ করলেও এই বিষয়ে নির্বিকার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এ ছাড়াও একদিকে নদীর তীরবর্তী জেলেরা যারা এক সময় এই উন্মুক্ত নদী থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা এখন পাড় করছেন চরম দুর্দিন। জানা যায়, নদীতে পানি না থাকার কারণে এ বছর প্রায় ৩ হাজার একর বোরো ফসলি জমি সেচের পানির অভাবে পড়তে পারে। এছাড়াও এক সময়ের উন্মুক্ত এই ধলেশ্বরী নদীটি ভরাটের ফলে মাঝেমধ্যে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌকাও আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। এক সময়ের গভীর এ নদীর বড় বড় বেশ কয়েকটি হাওড়ে বোরো উৎপাদনের সেচের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করে প্রচুর পরিমাণ ধান উৎপাদন করতেন স্থানীয় কৃষক। এই নদী দিয়ে অষ্টগ্রাম থেকে ভৈরব বাজার, কুলিয়ারচর যাত্রী লঞ্চসহ অগণিত যন্ত্র চালিত নৌকা, কার্গো ইত্যাদি চলাচল করত। বিগত কয়েক বছরে পলি পড়ে ধলেশ্বরী এই নদীতে মাটি ভরাট হয়ে নদীর নাব্য হ্রাস পেতে থাকে। বর্তমানে অষ্টগ্রামের ভাটির নগরের উত্তরে মেঘনা ও ধলেশ্বরীর সংযোগস্থল থেকে জেগে উঠা চর হুমায়ুনপুর, কাস্তুল মসদিজাম পাশ দিয়ে সর্বশেষ অষ্টগ্রাম সদরের পূর্ব দিকে ইকুরদিয়া পর্যন্ত প্রায় সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে নদীর সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর তীরবতী ও জেলে পলস্নী দেওঘর ইউনিয়নের সদয় নগর, সদর ইউনিয়নের খোপারচর, বাংগালপাড়া ইউনিয়নের কুড়ের পাড় এলাকার অসংখ্য জেলে জানান, এই নদী থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে পলি পড়ে নদীটি মরে যাওয়ায় তেমন একটা মাছ পাওয়া যায় না। ফলে জীবিকা নির্বাহের জন্য বিকল্প পেশা বেছে নিতে হচ্ছে অনেক জেলেকে। অষ্টগ্রাম পরিবেশবাদী ও হাওড় অঞ্চলবাসী ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বাবু বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নদী খনন ও বালু উত্তোলনের ফলে নদীতে চর জেগে উঠছে ও তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি শিগগিরই পরিকল্পিতভাবে নদী খননের দাবি জানান। কিশোরগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কল করেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে