রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
walton1

শান্তিগঞ্জের 'দেখার' হাওড়ের উথারিয়া মূল ক্লোজার অরক্ষিত : হুমকিতে বোরো চাষ

শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
  ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০০
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে 'দেখার' হাওড়ের অরক্ষিত মূল ক্লোজার -যাযাদি
সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার ও ছাতকসহ চার উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জের অন্যতম বৃহত্তম 'দেখার হাওড়'। দেখার হাওড়কে বলা হয় বোরো ফসলের শস্যভান্ডার। দেখার হাওড়ে রয়েছে ১২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি। চলতি বছর শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওড় অংশের উথারিয়া বাঁধের বিপজ্জনক বাঁধ খ্যাত মূল ক্লোজার এখনো অরক্ষিত রয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেখার হাওড়ের উথারিয়া বাঁধের মূল ক্লোজার ছয় নম্বর পিআইসির অধীনে। পিআইসি কমিটির সভাপতি নুর মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফজল উদ্দিন। দেখার হাওড়ের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের সময়সীমা অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও প্রভাবশালী মৎস্যজীবী, জনপ্রতিনিধিদের চাপে পিআইসি কমিটির লোকজন মূল ক্লোজারে কাজ করতে পারছেন না। বাঁধের মূল ক্লোজার ছয় নম্বর পিআইসির অধীনে ১১৭ মিটার অংশের দুই পাশে কাজ শুরু হলেও উথারিয়া বাঁধের মূল ক্লোজারের কাজ না হওয়ায় হাওড়ের ১২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি হুমকির মুখে রয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, বড় ড্রাম ট্রাক দিয়ে বাঁধে মাটি ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে বাঁশের মাচা তৈরি করে মাটি ফেলা হচ্ছে। তবে দেখার হাওড়ের উথারিয়া বাঁধের বিপজ্জনক বাঁধ খ্যাত মূল ক্লোজার এখনো অরক্ষিত রয়ে গেছে। হাওড়ের কৃষক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, 'শান্তিগঞ্জ উপজেলার উথারিয়া ক্লোজার এই হাওড়ের ডেঞ্জার পয়েন্ট। এই ক্লোজার অরক্ষিত রেখে পুরো হাওড়ে কাজ করলে কোনো লাভ হবে না। আগাম বন্যা আসলে আমাদের স্বপ্নের সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারব না। আমরা অনেক শঙ্কায় আছি। প্রতি তিন বছর পরপরই এই অঞ্চলে একবার আগাম বন্যা আসে।' পিআইসি কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজল উদ্দিন জানান, 'দেখার হাওড়ের মূল ক্লোজারে কাজ করতে পারছি না। কিছু জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী মৎস্যজীবী আমাদের উথারিয়ার মূল ক্লোজারে মাটিতে ফেলতে দিচ্ছেন না। তবে আমাদের পিআইসির দুই পাড়ে মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। এখন ড্রেসিং ও দুর্মচ মারার কাজ চলছে।' শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, দেখার হাওড়ের উথারিয়া বাঁধের মূল ক্লোজারটি দেখার হাওড়ের ভেতর অবস্থিত জলমহালের পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের কাছে মৎস্যজীবীরা ফেব্রম্নয়ারির ২০ তারিখ পর্যন্ত খোলা রাখার আবেদন করেছেন। তবে ফেব্রম্নয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে উথারিয়া ক্লোজারটি বন্ধ করা হবে। না হলে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার উজ জামান বলেন, উথারিয়া ক্লোজার দিয়ে হাওড়ের পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয় মৎস্যজীবীরা খোলা রাখার আবেদন করেছেন। পাশাপাশি হাওড়ের নিচু জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য ক্লোজারটি খোলা রাখা হয়েছে। ফেব্রম্নয়ারির প্রথম সপ্তাহে ক্লোজাটি বন্ধ করে বাঁধের কাজ করা হবে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে