মাতামুহুরী নদীতে ফুলানো হলো পাউবোর দু'টি রাবার ড্যাম

চলতি মৌসুমে ৬০ হাজার একর জমিতে বোরো চাষ নিশ্চিত উদ্বেগ উৎকণ্ঠা কেটে গেছে লক্ষাধিক কৃষকের

প্রকাশ | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীতে দুইটি রাবার ড্যাম ফুলানোর মাধ্যমে ধরে রাখা হচ্ছে মিঠাপানি -যাযাদি
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর দুই পয়েন্টে ফুলানো হয়েছে দুটি রাবার ড্যাম। চলতি শুষ্ক মৌসুমে যথাসময়ে রাবার ড্যাম দুটি ফুলানোর মাধ্যমে নদীর উজান থেকে নেমে আসা মিঠাপানির উৎস ধরে রাখতে সক্ষম হওয়ায় বোরো ধান চাষাবাদে সেচ সুবিধার অনিশ্চিতা নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা কেটে গেছে লক্ষাধিক কৃষকের। এতে সুফল হিসেবে এ বছর নদী থেকে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিয়ে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে বোরো চাষ নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা শাখার সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আরিফুল ইসলাম মাতামুহুরী নদীতে দুটি রাবার ড্যাম যথাসময়ে ফুলানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চলতি বোরো মৌসুমের শুরুতে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উপস্থিতিতে গত ২৯ ডিসেম্বর মাতামুহুরী নদীর পালাকাটা রামপুর ও বাঘগুজারা পয়েন্টের দুইটি রাবার ড্যাম ফুলানোর মাধ্যমে নদীর মিঠাপানি আটকানো হয়েছে। এখন নদীর তীরের কৃষকরা সেচ পাম্পের মাধ্যমে চাষাবাদে সেচ (পানি) সুবিধা নিতে পারছে। জানা গেছে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চকরিয়াকে সবুজ বিপস্নবের আওতায় আনতে সর্বপ্রথম মাতামুহুরী নদীর দুই পয়েন্টে অস্থায়ী ভিত্তিতে দুটি ক্রসবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এরই প্রেক্ষিতে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ত্রাণ মন্ত্রাণালয়ের বরাদ্দের বিপরীতে প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে নদীর বাঘগুজারা ও রামপুর পালাকাটা পয়েন্টে দুটি অস্থায়ী মাটির বাঁধ (ক্রসবাঁধ) তৈরি করে মিঠাপানি আটকিয়ে অবিভক্ত চকরিয়া (পেকুয়াসহ) উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ নিশ্চিত করে আসছিল, যা ২০০৭ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল। কক্সবাজার পাউবো সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর মাতামুহুরীতে দুটি অস্থায়ী ক্রসবাঁধ নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ায় নদীর দুই পয়েন্টেই স্থায়ীভাবে রাবার ড্যাম স্থাপনের উদ্যোগ নেয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। এরই আলোকে ২০০৯ সালে মাতামুহুরী সেচ প্রকল্পের (২য় পর্যায়) আওতায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাউবো'র মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে স্থায়ী রাবার ড্যাম দুটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। মূলত ২০০৯ সালের পর থেকে স্থায়ী রাবার ড্যামের মাধ্যমে নদীর মিঠাপানি আটকিয়ে সেচ সুবিধা নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন চাষাবাদ করে আসছেন চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার কৃষকরা। পাউবো'র সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আরিফুর ইসলাম বলেন, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিতকল্পে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ক্রমে রাবার ড্যাম দুটি ফুলানো হয়। অনুরূপভাবে এবছরও চাষাবাদের শুরুতে কোনো ধরনের ক্রটি ছাড়াই নদীর দুই পয়েন্টে স্থাপিত রাবার ড্যাম দুটি ফুলানো সম্ভব হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম নাছিম হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরুতে যথাসময়ে নদীর দুটি রাবার ড্যাম ফুলানো সম্ভব হওয়ায় চাষাবাদে সেচ সুবিধা নিয়ে কৃষকদের শঙ্কা কেটে গেছে। এতে সেচ পাম্পের সাহায্যে পানি নিয়ে চকরিয়ায় ৪৪ হাজার পাঁচ' একর (১৭ হাজার ৮০০ হেক্টর) ও পাশের পেকুয়া উপজেলার ১৫ হাজার একরসহ (৬ হাজর হেক্টর) মোট ৬০ হাজার একর জমিতে এবছর বোরোধান রোপণে করেছেন কৃষকরা। চকরিয়া ইউএনও ফখরুল ইসলাম বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিতকল্পে স্থানীয় কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাতামুহুরী নদীর দুটি রাবার ড্যাম ফুলানোর জন্য আহ্বান জানান। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৯ ডিসেম্বর সরেজমিন গিয়ে নদীর পালাকাটা রামপুরা এবং বাঘগুজারা পয়েন্টের দুটি রাবার ড্যাম ফুলানো হয়েছে। যথাসময়ে রাবার ড্যাম দুটি ফুলানোর মাধ্যমে চাষাবাদে পানি সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় এখন কৃষকরা নির্র্বিঘ্নে চাষাবাদ করেছেন।