কাকারা বন বিটের ভ‚মি প্রভাবশালীদের দখলে

রাতারাতি গড়ে উঠছে নানা অবৈধ স্থাপনা ও ঘরবাড়ি।

প্রকাশ | ৩১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা বন বিটের সরকারি বন প্রভাবশালীদের দ্বারা দখল হচ্ছে। খোদ এক যুবদল ক্যাডার প্রভাব বিস্তার করে এসব বনাঞ্চল দখল করে আসছে। রাতারাতি গড়ে উঠছে নানা অবৈধ স্থাপনা ও ঘরবাড়ি। কেউ কেউ আবার রাতের অঁাধারে সীমানাপ্রাচীর করে দখল করছে সরকারি বন। এদিকে প্রভাবশালীদের কারণে দখলকৃত এসব বনাঞ্চল মুক্ত করতে পারছেন না সংশ্রিষ্ট বন কমর্কতার্রা। এতে হারিয়ে যাচ্ছে বনের সৌন্দযর্ ও সবুজ বৃক্ষরাজি। সূত্র জানায়, কাকারা বন বিটে ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতা দীঘির্দন সরকারি দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতাকে ম্যানেজ করে অবাধে বনভ‚মি দখল, গাছ পাচার ও বিক্রি করে আসছে। এ ছাড়া তার মতো কাকারা বনবিটে অসংখ্য বনদস্যু রয়েছে। তাদের কাছে বনবিভাগও অসহায়। স্থানীয়রাও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পান না। সম্প্রতি কাকারা বিট কমর্কতার্ হুমায়ন কবির দখলকৃত বনবিভাগের নাসাির্র উচ্ছেদ করতে গেলে তিনি বনদস্যুদের হামলার শিকার হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে বনভ‚মি দখল করতে থাকলে একসময় সরকারি বন খুঁজেই পাওয়া যাবে না। অনেকের ধারণা বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তি মালিকানায় এসব বনভ‚মি বন্দোবস্ত ও সামাজিক বনায়ন দেয়া হয়। মূলত দখলের প্রবণতা শুরু হয়েছে তখন থেকেই। এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি এবং বনবিভাগের দুনীির্তবাজ কমর্কতার্ ও কমর্চারীদের মদদে দিনের পর দিন গাছ কেটে ভ‚মি দখল করার চেষ্টা চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় মৃত কালুর পুত্র জাফর আলম ও তার সহযোগীরা এসব বনের জমি প্লট আকারে বিক্রি করে প্রতিজনের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পযর্ন্ত নেন। তারা জানান, বনের গাছ বিক্রি করার বহু মামলাও হজম করে বসে আছে ওই বন দস্যুরা। এ ছাড়া নলবিলা, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর বিট অঞ্চল ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, দখল করে নেওয়া এসব জমিতে কিছুদিন আগেও গজারি গাছে ভরপুর ছিল। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই দশকে এ অঞ্চলে বনভ‚মির অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে বলে ধারণা অনেকের। অভিযোগের ব্যাপারে কাকারা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলম বলেন, আমি এখন এলাকার বাইরে আছি। আপনার সঙ্গে সশরীরে দেখা করে বিস্তারিত বলব। এ বিষয়ে কাকারা বিট কমর্কতার্ মো. হুমায়ন কবির বলেন, আমি কাকারা বিটে যোগদানের পর থেকে দখল কমে গেছে। তবে স্থানীয় ভিলেজারদের অবহেলা ও অসহযোগিতার কারণে দখলবাজদের সঙ্গে পেরে উঠে পারছি না।