জরিপ প্রতিবেদন

৯৮ ভাগ রেস্তোরাঁ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মানছে না

প্রকাশ | ০৪ জুলাই ২০২০, ০০:০০

যাযাদি রিপোর্ট
রাজধানী ঢাকার শতকরা ৯৮ ভাগ হোটেল-রেস্তোরাঁ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মানছে না বলে ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশনের একটি জরিপে বলা হয়েছে। ঢাকা শহরের রেস্তোরাঁয় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অবস্থা যাচাইয়ের জন্য 'ক্রস সেকশনাল' পদ্ধতিতে দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৩৭১টি রেস্তোরাঁয় পরিচালিত জরিপের ফল বুধবার প্রকাশ করা হয়। এসব রেস্তোরাঁর মধ্যে ১২৬টি রেস্তোরাঁর ট্রেড লাইসেন্সই নেই বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, "৩৭১টি রেস্তোরাঁর মধ্যে শতকরা ২ ভাগ রেস্তোরাঁ যথাযথভাবে আইন বাস্তবায়ন করছে। আর ট্রেড লাইসেন্স আছে এমন রেস্তোরাঁয় আইন লংঘনের হার শতকরা ৩১ দশমিক ৪ ভাগ এবং ট্রেড লাইসেন্সবিহীন রেস্তোরাঁয় আইন লংঘনের হার শতকরা ৩৯ দশমিক ৭ ভাগ। এছাড়া ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী ৪০*২০ সেন্টিমিটার জায়গাজুড়ে 'ধূমপান হতে বিরত থাকুন, ইহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ' লেখা বিজ্ঞপ্তি সাঁটানোর নিয়ম থাকলেও ৯৮ ভাগ রেস্তোরাঁয় এ ধরনের কোনো সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। আবার ৯২ ভাগ রেস্তোরাঁয় কোনো ধরনের সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তিও পাওয়া যায়নি।" প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৪ ভাগ রেস্তোরাঁয় ধূমপানের সামগ্রিক চিত্র পাওয়া গেছে। আর ১৭ দশমিক ৩ ভাগ রেস্তোরাঁয় সরাসরি ধূমপানের দৃশ্যের পাশাপাশি ২৯ দশমিক ৪ ভাগ রেস্তোরাঁয় সিগারেটের উচ্ছিষ্ট অংশ-ছাইদানি পাওয়া গেছে। ২ দশমিক ৬ ভাগ রেস্তোরাঁয় কিছুক্ষণ অবস্থানকালে সিগারেটের গন্ধ পাওয়া গেছে। জরিপে বলা হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত রেস্তোরাঁগুলোর আইন লংঘনের হার ৩৩ দশমিক ২ ভাগ এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় তা ৩৫ দশমিক ৬ ভাগ। বুধবার 'তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও ঢাকা শহরের রেস্তোরাঁয় আইন বাস্তবায়নের চিত্র পর্যবেক্ষণ জরিপের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ করণীয়' শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনা সভার মাধ্যমে জরিপের এই ফলাফল তুলে ধরা হয়। ২০১৯ সালের জুন মাস থেকে এই জরিপ করা হয় বলে সভায় জানানো হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশনের যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা সভায় ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশনের সহকারী পরিচালক ও তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. মোখলেছুর রহমান জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. মোমিনুর রহমান মামুনের সভাপতিত্বে ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। আইনের শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের বাজেটে সুনির্দিষ্টভাবে বরাদ্দ রাখা, সব রেস্তোরাঁ ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় এনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রতিপালনের শর্ত আরোপ, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সভা আয়োজনসহ বিভিন্ন সুপারিশ ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশনের পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাছে তুলে ধরা হয়।