logo
রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১২ আশ্বিন ১৪২৭

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০  

ডিম ও সবজির বাজার চড়া

আগের সপ্তাহের মতোই রাজধানীর বাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। নতুন করে দাম না বাড়লেও ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি মিলছে না। সবজির এই চড়া দামের পাশাপাশি নতুন করে দাম বেড়েছে ডিমের। সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ডিমের দাম ১০ টাকা বেড়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, চারটি সবজির কেজি একশ টাকা ছুঁয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাকা টমেটো, গাজর, বেগুন ও করলা। বাকি সবজিগুলোর বেশিরভাগই একশ টাকার কাছাকাছি। এর মধ্যে বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পাকা টমেটো। বাজার ও মানভেদে পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৩০ টাকা। এর পরেই রয়েছে গাজর। মানভেদে গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ টাকা। করলা (ছোট) বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন। তবে বড় করলা ৭০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে।

সবজির এমন চড়া দামের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বন্যা এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সারাদেশে সবজির উৎপাদন কমে গেছে। যার প্রভাবে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। আর

টমেটো ও গাজরের এখন মৌসুম না। এ কারণে এই দুই সবজির দাম সবচেয়ে বেশি।

কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী আজাদ বলেন, মৌসুম না হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই এখন পাকা টমেটো ও গাজরের দাম বেশি। এর সঙ্গে বন্যা ও বৃষ্টিতে সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে। যে কারণে অন্যান্য সবজিও কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজার ও মানভেদে প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৯০ টাকা। পাশাপাশি চিচিঙ্গা ৫০-৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০-৭০ টাকা, পটল ও ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকা, কাকরোল ৬০-৭০ টাকা, কচুর মুখি ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ধুন্দুল ৬০-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে ঝিঙা। লাউয়ের পিস ৬০-৭০ টাকা, চালকুমড়োর জালির পিস ৪০-৫০ টাকা, পেঁপের কেজি ৪০-৪৫ টাকা এবং কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। এর সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আলু ও কাঁচা মরিচ। এক কেজি আলুর দাম জন্য ৩৫-৩৭ টাকা। আর কাঁচা মরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা।

রামপুরার ব্যবসায়ী আলম বলেন, বন্যা ও পানি সরাদেশের সবজি খেত নষ্ট করে দিয়েছে। অনেক সবজির গাছ পানিতে পচে গেছে। সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে কাঁচা মরিচের খেতের। অর্ধেকের বেশি মরিচের খেত নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণেই সবজি ও মরিচের দাম চড়া।

সবজি ও মরিচের দাম বাড়ার বিষয়ে একই কথা বলেন খিলগাঁওয়ে ব্যবসায়ী জুয়েল। তিনি বলেন, পরিস্থিতি যা তাতে সহসা সবজির দাম কমবে বলে মনে হচ্ছে না। তবে নতুন করে হয়তো দাম বাড়বে না। এমনিতেই এখন যে দাম তাতে অনেকেই সবজি ও কাঁচা মরিচ কেনা কমিয়ে দিয়েছে।

সবজির এই চড়া দামের মধ্যে নতুন করে দাম বেড়েছে ডিমের। বাজারভেদে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ১০০-১০৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

মালিবাগ হাজীপাড়ার ডিম ব্যবসায়ী মো. সাবু বলেন, ঈদের আগে থেকে ডিমের ডজন ১০০-১০৫ টাকা বিক্রি হচ্ছিল। গত সপ্তাহেও ১০৫ টাকা ডজন বিক্রি করেছি। কিন্তু দুই দিন ধরে ডিম বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। যে কারণে এখন ডজন ১১৫ টাকায় বিক্রি করেছি।

এদিকে, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমেছে মাছের বাজারে। বিক্রেতারা বলছেন, বর্তমানে ইলিশের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় সব ধরনের মাছের দাম কিছুটা কমেছে।

বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি ও দেশি মুরগি কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। তবে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার। বর্তমানে প্রতিকেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকা দরে। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৮০ টাকা কেজি দরে। ২০ টাকা কমে কক মুরগি ২৩০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। কেজিতে ৫০ টাকা কমে দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়। ছোট রোস্টের মুরগি ৫০ টাকা কমে প্রতিহালি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা কেজি। খাসির মাংস ৭৮০ টাকা আর বকরি ৭২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে কয়েকটি দোকানে। কিন্তু চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিম। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। দেশি মুরগির ডিম ১৭০ টাকা। সোনালি মুরগির ডিমি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। আর হাঁসের ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা ডজন।

কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমে এসব বাজারে কাঁচকি মাছ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, নদীর টেংরা (বড়) ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ৩৫০ টাকা, দেশি শিং ৭০০ টাকা, পাবদা ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, দেশি চিংড়ি (ছোট) ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, কৈ ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা, রুই (আকারভেদে) ১৮০ থেকে ৩০০ টাকা, মৃগেল ১৭০ থেকে ২৮০ টাকা, পাঙাশ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১০০ থেকে ১৪০ টাকা ও কাতল ১৮০ থেকে ৩০০ টাকা করে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমে বর্তমানে এসব বাজারে সোয়া থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০ টাকা কেজি। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায়। ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। প্রতি ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। ছোট ইলিশ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে