logo
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৮ আশ্বিন ১৪২৭

  রেজা মাহমুদ   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০  

একুশে বইমেলা আয়োজন নিয়ে এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব

একুশে বইমেলা আয়োজন নিয়ে এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব
বইমেলায় পছন্দের বই খুঁজছে খুদে পাঠকরা -ফাইল ছবি

সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবতায় এখনও সংশয় রয়েছে অমর একুশে বইমেলা আয়োজন নিয়ে। এ নিয়ে চলছে দফায় দফায় বৈঠক ও কর্মপরিকল্পনা তৈরির প্রক্রিয়া। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না কেউ। তবে চলতি মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে যায়যায়দিনকে জানিয়েছেন বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। আসন্ন বইমেলা নিয়ে এরই মাঝে বাংলা একাডেমি প্রকাশক সমিতিসহ রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে করোনা পরিস্থিতিতে মেলা আয়োজনের সম্ভাব্যতা ও চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি প্রকাশকদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছে। তবে প্রকাশনা শিল্প ও খাত সংশ্লিষ্ট লাখ লাখ মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বইমেলা আয়োজনের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকাশকরা বলছেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তারা ভালোভাবে মেলার প্রস্তুতি নিতে পারবেন। তবে প্রস্তুতি নেওয়ার পর যদি কোনো কারণে মেলার আয়োজন না হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তারা। বাংলা একাডেমির সঙ্গে প্রকাশনা সমিতির সর্বশেষ বৈঠকে মেলা আয়োজনের ব্যাপারে 'সবুজ সংকেত' পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এখন প্রকাশকদের নজর একুশে বইমেলার দিকে। মেলাকে সামনে রেখে প্রকাশনা শিল্প জেগে ওঠে এবং মেলা ও মেলা-উত্তর সময়ে কয়েকশ' কোটি টাকার বই বিক্রি হয়। পুরো বছরের বই বিক্রির অর্ধেক হয় এই মেলাতেই। বাংলা একাডেমির তথ্য মতে গত ফেব্রম্নয়ারি ও মার্চে ২শ' কোটি টাকার বেশি বই বিক্রি হয়েছে। প্রকাশনা সংশ্লিষ্টরা জানান, বছর শেষে এই শিল্পে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৭শ' কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে এপ্রিল ও মে দু'মাসের সাধারণ ছুটিতেই ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৪শ কোটি টাকা। তাদের মতে, গেল একুশে বইমেলা শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে লকডাউন শুরু হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হয়েছে। অন্যান্য ব্যবসার মতো চাইলেও ব্যবসা গুটিয়ে চলে যেতে পারছেন না প্রকাশকরা। শুধু রাজধানী নয়, সংকটে রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ছোট-বড় বইয়ের দোকানসহ প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। মানবেতর জীবন-যাপন করেছেন এ শিল্পে সংশ্লিষ্ট কয়েক লাখ মানুষ। টানা লকডাউন শেষে দেশের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর শো-রুম খুললেও বিকিকিনি শূন্যের কোটায়। বইপাড়াখ্যাত বাংলাবাজারের সেই চিরচেনা ব্যস্ত রূপ অনেকটাই শ্লথ। রাজধানীর আজিজ মার্কেটের বইয়ের দোকানগুলো করোনার আগে জমজমাট থাকলেও এখন ক্রেতাশূন্য। প্রায় একই চিত্র নীলক্ষেত কাঁটাবনসহ ঢাকার সব বইপাড়ায়। সীমিত বেচাকেনা হচ্ছে অনলাইনভিত্তিক বই বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলোরও। ইতিমধ্যেই বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে বহু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকেই ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়ে জীবন ধারণের লড়াই করছেন। বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ জানান, করোনা মহামারিতে প্রকাশনা খাতের ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান সরকারিভাবে নেই। তবে প্রকাশনা শিল্পে এ বছর ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ৫শ' থেকে ৭শ' কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। তার মতে, একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত না হলে প্রকাশকরা তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। ফরিদ আহমেদ বলেন, বইমেলার সময় বোঝা যাবে কতজন প্রকাশক সংকট পেরিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে জার্মানিতে বইমেলার আয়োজন করা সম্ভব হলে আমাদের দেশে কেন হতে পারে না। বর্তমানে দেশের বাজার, শপিংমল, হোটেল-মোটেল-রেঁস্তোরা- এমন কি সব ধরনের গণপরিবহণ চালু রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রকাশনা শিল্পের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে যে কোনো শর্তে বাংলা একাডেমির বইমেলা আয়োজন করা উচিত। এদিকে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের আদিত্য অন্তর জানান, এখনও মেলার প্রস্তুতি শুরু করেননি তারা। তিনি বলেন, প্রতি বছর এ সময় আগামী মেলার অর্ধেক কাজ হয়ে যায়। কিন্তু এবার শুরুই করিনি। এ পরিস্থিতিতে মেলা হবে কি-না সে বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। বাতিঘরের দীপংকর দাস জানান, তারা মেলার সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছেন। তবে বইগুলো এখনও প্রেসে পাঠানো হয়নি। পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মেলা না হলে তারা বিকল্প ভাববেন। দেশের অনলাইনে বই বিক্রির সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান রকমারি'র হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনবাউন্ড মার্কেটিং মাহমুদুল হাসান সাদি বলেন, মে মাসের শেষ সপ্তাহে তারা পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছেন। কিন্তু বিক্রি সাধারণ সময়ের ১০ ভাগের একভাগ। তিনি জানান, এ সময়ে ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষার সহায়ক বইগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। সৃজনশীল বইয়ের মধ্যে স্কিল ডেভেলপমেন্টের বই বিক্রি বেশি হচ্ছে। বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির যুগ্ম-নির্বাহী পরিচালক এবং অন্বেষা প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন জানান, দেশের সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্পের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। এমনিতেই মানুষ বই কম কেনেন। করোনাকালে তা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। তার মতে, এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে এখন সরকারের সহযোগিতা খুব দরকার। সেক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি গুচ্ছ পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। এবার বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হলে ব্যাংক ঋণ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনার দাবি তুলে তিনি বলেন, তা না হলে ঋণ কোনো কাজে আসবে না। তিনি ঋণের মেয়াদ ১ বছর থেকে বাড়িয়ে ২ বছর করার দাবি জানান। অন্যদিকে ফরিদ আহমেদ বলেন, সরকারের অনেক উইং থেকে এ সময় বই কেনা হতো। তার মতে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ও সব প্রকাশকের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে এই বই কেনা হলে প্রকাশকরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। তাদের কোনো প্রকার প্রণোদনাও দিতে হবে না। জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির পরিচালক (জনসংযোগ, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ) অপরেশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, অমর একুশে বইমেলা একটা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রের সব মহলে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। করোনা পরিস্থিতিতে সব দিক বিবেচনায় রেখে এ মাসেই একুশে বইমেলাবিষয়ক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে