স্থায়ী কমিটির বৈঠক

ইউপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা বিএনপির

ইউপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা বিএনপির

আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের এ সিদ্ধান্ত জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল ওই বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

স্থায়ী কমিটির অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি মনে করেছিল যে, স্থানীয় সরকারে অন্তত সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদসহ পৌরসভা-উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে যা হয়েছে তাতে আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদের অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের বিশ্বাস করে বলেই চরম প্রতিকূল অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সাম্প্রতিক অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, এই নির্বাচন কমিশন কোনো নির্বাচনই নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত করার যোগ্য নয়। বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই এই নির্বাচন কমিশনের কাজ।

আগামীতে সব নির্বাচনেই অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নীতিনির্ধারণী ফোরামে এমন সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে। এখন পর্যন্ত দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে- ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দলগতভাবে অংশ না নেওয়ার। ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপি দলের কাউকে মনোনয়ন আর দিচ্ছে না। এছাড়াও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের বিরোধিতা বিএনপি সবসময়ই করেছে।

লেখক মুশতাক আহমেদের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে নারাজ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সেই বাক-স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়েছে। সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার- অন্যায়ের প্রতিবাদ করা বা তাদের মত প্রকাশ করার অধিকারকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে বা আক্রমণ করছে। এর জন্য যত আইন করেছে তার মধ্যে নিকৃষ্টতম আইন হচ্ছে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি ভয়ংকর নির্যাতনমূলক আইনের মাধ্যমে জনগণের বাক-স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতা, সব সাংবিধানিক অধিকার, স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে চলেছে। ইতিমধ্যে অসংখ্য ব্যক্তিকে এই আইনের আওতায় আটক করা হয়েছে। এই অ্যাক্টের মধ্য দিয়ে সরকার চরমভাবে একনায়কতান্ত্রিক একটি সরকারে পরিণত হয়েছে। যারা কোনোভাবেই জনগণের নূ্যনতম যে সাংবিধানিক অধিকার আছে তাকে সম্মান দিতে রাজি নয়। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ করছি। বিএনপি আশা করে, সরকার এসব হীন কর্ম থেকে বিরত থাকবে, সরে আসবে এবং জনগণের যে অধিকার সেই অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য জনগণকে সুযোগ দেবে।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিতে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবং সভায় শিক্ষামন্ত্রী ব্যর্থতার সমালোচনা করা হয় এবং একই সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে তালা দিয়ে অসহায় ছাত্রছাত্রীদের বল প্রয়োগের মাধ্যমে হল ছাড়তে বাধ্য করার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে