প্রেসক্লাবে পুলিশ চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রেসক্লাবে পুলিশ চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, 'রোববার প্রেসক্লাবে পুলিশ চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। প্রেসক্লাবের ভেতরে যেন বহিরাগতরা ঢুকতে না পারে, সে দায়িত্ব প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে বলে উলেস্নখ করেন তিনি।

সোমবার পুলিশ মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমি আধাঘণ্টা সাংবাদিকদের প্রচারিত খবর ও ছবি দেখেছি। তাতে দেখা যাচ্ছিল, একজন পুলিশ সদস্য এক জায়গায় একা দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাকে বড় বড় লাঠি দিয়ে পেটানো হচ্ছে। চরম ধৈর্যের সঙ্গে পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে।' তিনি বলেন, 'প্রেসক্লাবের ভেতরে কোনো দিন পুলিশ ঢোকে না। তবে গতকাল যেভাবে ইটপাটকেল ছোড়া হয়েছে, সে সময় দু-একজন হয়তো ঢুকেছে। ঘটনা যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল, তখন পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃতু্য ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ছাত্রদল গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশ ডেকেছিল। পুলিশের বাধা, লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গুলি ছোড়া, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় সেই কর্মসূচি শুরুর আগেই পন্ড হয়ে যায়। পুলিশের ধাওয়ার মুখে বিএনপি-ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী একপর্যায়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে ঢুকে নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা করে পুলিশ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতি বছর উলেস্নখযোগ্যসংখ্যক পুলিশ সদস্য মারা যাচ্ছেন। ২০২০ সালে বিভিন্ন অবস্থায় পুলিশের বিভিন্ন পদের ৪৫৭ জন পুলিশ সদস্য মৃতু্যবরণ করেছেন। এদের মধ্যে ২০৮ জন কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গ করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যের আন্তরিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার মতো চরম ত্যাগ দিয়ে দায়িত্ব পালনে যে নজির স্থাপন করেছেন, এজন্য পুলিশ বাহিনীসহ সারাদেশ আজ উপকৃত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকতা, কর্মনিষ্ঠা এবং নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার মতো চরম ত্যাগে দায়িত্ব পালনে যে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন সেজন্য পুলিশ বাহিনীসহ দেশবাসী আমরা গর্বিত। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রধান যে কাজটি দরকার সেটি আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পুলিশ কিন্তু সেটা সঠিকভাবে করে যাচ্ছে। তবে সেই কাজটি যদি মুখ থুবড়ে পড়ে তবে মুখ থুবড়ে পড়বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাও। পুলিশ শুধু আজকে নয়, সব সময় পুলিশ তাদের অর্পিত দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করে আসছে।

বর্তমান সরকার সর্বদায় পুলিশ বাহিনীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন উলেস্নখ করে তিনি বলেন, চাকরিরত অবস্থায় মৃতু্যবরণ করে পুলিশ সদস্যদের পরিবারের দিকে লক্ষ্য রেখে প্রত্যেক পরিবারকে এককালীন ৮ লাখ টাকা প্রদানে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এছাড়া চাকরিরত অবস্থায় স্থায়ী অক্ষম ও অবসরে গেলে ৪ লাখ টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত জামায়াত-বিএনপির শিবির ও হেফাজত ও দুর্বৃত্তদের হামলায় বিভিন্ন পদমর্যাদার ২৮ জন সদস্যের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ২ কোটি ৭২ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২০ সাল থেকে আজীবন রেশনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৯ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশের ১৭৯ জন মারা গেছে। এদিকে ২০২০ সালে মৃতু্য হয়েছে ২০৮ জন পুলিশ সদস্যের।

তিনি বলেন, থানায় গিয়ে কোনো ব্যক্তি ঘটনা বললে সেটার ওপর ভিত্তি করেই মামলা হয়। সেখান থেকে পুলিশ মানুষকে সস্তি দিতে শুরু করে। জনমানুষের সবচেয়ে কাছের জন হলো পুলিশ। এজনই আমরা বলি, পুলিশ হবে জনতার পুলিশ হবে মানবিক।

এ সময় ২০২০ সালে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সম্মানার্থে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ডক্টর বেনজীর আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে