বাঁশের সাঁকোই ১৫ গ্রামবাসীর ভরসা

বাঁশের সাঁকোই ১৫ গ্রামবাসীর ভরসা
কুমিলস্নার চররাজাপুর গ্রামে তিতাস নদীর উপর ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোয় পারাপার হতে হয় এলাকাবাসীকে -যাযাদি

কুমিলস্নার তিতাসের দুই ইউনিয়নের প্রায় ১৫ গ্রামের ২৫ হাজার মানুষের যোগাযোগ স্থাপনে বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা। নারান্দিয়া ইউনিয়নের নয়াকান্দি বাজার থেকে কড়িকান্দি ইউনিয়নের চররাজাপুর গ্রামের মাঝে বহমান তিতাস নদীর উপর স্থানীয় লোকজনের অর্থায়নে নির্মিত এ সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় হাজারো মানুষকে।

\হখোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে কড়িকান্দি ইউনিয়নের প্রায় ৫টি গ্রামের লোকজনের নারান্দিয়া ইউনিয়নের নয়াকান্দি বাজারে যাতায়াতের জন্য তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন সরকারের উদ্যোগে একটি সংযোগ রাস্তা নির্মাণ করা হয়। প্রায় সাড়ে ৩ বছর আগে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহসীন ভূঁইয়া পুনরায় রাস্তাটির সংস্কার কাজ করেন। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাস্তাটি দিয়ে এলাকার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ জনগণ চলাচল করলেও অদ্যাবধি নদীর উপর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

রাজাপুর গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার আবুল কাশেম সরকার বলেন, 'নয়াকান্দি বাজারে যাতায়তের জন্য মানুষ অনেক বছর আগে থেকে এ সাঁকোটি ব্যবহার করে আসছে। জনগণের চাহিদা থাকায় প্রায় ১২ বছর আগে রাস্তা নির্মাণ করা হয়।'

কড়িকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চররাজাপুর ওয়ার্ডের মেম্বার মমিনুল ইসলাম বলেন, কড়িকান্দি ইউনিয়নের চররাজাপুর, রাজাপুর, তিতাস নদীর নতুন চর, কড়িকান্দি ও কাপাশকান্দির জনগণ নয়াকান্দি বাজারে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। সেতু নির্মাণ হলে বিশেষ করে নারান্দিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০ গ্রামের লোকজন খুব কম সময়ে ও কম খরচে চররাজাপুর হয়ে কড়িকান্দি বাজার ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবে।

নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, 'এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা অতি প্রয়োজন। সেতুটি নির্মাণ হলে এলাকার মানুষ সহজে উপজেলা সদরসহ কড়িকান্দি বাজারে যেতে পারবে। অপরদিকে কড়িকান্দি ইউনিয়নের লোকজন নয়াকান্দি বাজারে আসতে পারবে।'

কড়িকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহসীন ভূঁইয়া বলেন, 'সংশ্লিষ্ট স্থানে ছোট ব্রিজ নির্মাণ করা সম্ভব নয়। যেহেতু এটি একটি বড় নদী সেহেতু এখানে অনেক বড় ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।'

উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুর রহমান জানান, 'সেতুটি নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে উপজেলা সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করতে হবে। বিষয়টি তার পর উপজেলা চেয়ারম্যান এটা এমপি মহোদয়ের ডিও লেটার নিয়ে ঢাকায় পাঠাবেন। তখন আমাদের কাছে জানতে চাইলে আমরা তথ্য দেব। আমরা পোস্ট মাস্টারের মতো।'

উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে এলাকার নতুন সেতু নির্মাণের তালিকা নেওয়া হয়েছে। এই সেতুটির প্রস্তাব পাঠানো না হলে দ্রম্নত সময়ের মধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে