মশার কামড়ে অতিষ্ঠ স্বয়ং চসিক মেয়র !

'মূলত শহরের বিভিন্ন এলাকায় খাল খননসহ উন্নয়নমূলক কাজের কারণে বেশির ভাগ এলাকার নালা বন্ধ। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় মশা সহজে বংশ বিস্তার করছে। আমরা ওষুধ ছিটানোসহ মশক নিধনে বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু মশা নিধন হচ্ছে না।'
মশার কামড়ে অতিষ্ঠ স্বয়ং চসিক মেয়র !

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) মেকানিক্যাল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সৌরভ। থাকেন চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায়। রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার নিজস্ব ওয়ালে মিলল মশার যন্ত্রণার কথা।

সৌরভ তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, 'শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টায় ৫০০ মশা মেরেছেন তিনি। সেটা দিয়ে তৈরি করেছেন চট্টগ্রামের মানচিত্র। বোঝাতে চেয়েছেন এটাই চট্টগ্রামের প্রকৃত চিত্র।'

চট্টলা অধিকার ফোরামের পরিচালক ও সমাজকর্মী কায়সার আলী তার ফেসবুক ওয়ালে মশার যন্ত্রণার এই কথা শেয়ার করে মন্তব্য করেছেন, 'চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কি কিছু করার নেই, নাকি মশা মারার টাকা নেই, মশার উপদ্রবে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ, এখন এটাই চট্টগ্রামের প্রতিটি বাসার চিত্র।'

শুধু সৌরভ ও কায়সার আলী নন, মশা মেরে নিজের নাম, কখনো বন্ধুর নাম লিখে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বিনিময় করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছুদিন ধরে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা লিখছেন চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশাজীবী মানুষ।

আর এসব তথ্য নিয়ে রোববার (৭ মার্চ) দুপুরে মুঠোফোনে কথা হয় চসিক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে। মশার যন্ত্রণার কথা শুনে শুরুতেই তিনি বলেন, 'নগরবাসী তো বটেই, মশার কামড়ে স্বয়ং আমি নিজেও অতিষ্ঠ। ওষুধেও কোনো কাজ হচ্ছে না।'

মেয়র বলেন, 'মূলত শহরের বিভিন্ন এলাকায় খাল খননসহ উন্নয়নমূলক কাজের কারণে বেশির ভাগ এলাকার নালা বন্ধ। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় মশা সহজে বংশ বিস্তার করছে। আমরা ওষুধ ছিটানোসহ মশক নিধনে বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু মশা নিধন হচ্ছে না।'

নগরবাসীর অভিযোগ, চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার জ্বালায় বাসা কিংবা দোকানে কোথাও বসতে পারছে না সাধারণ মানুষ। দিনেও মশার যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাচ্ছে না কেউ। কয়েল জ্বালিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। কেউ কেউ দিনের বেলায়ও মশারি টানিয়ে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে নগরীর সর্বত্র মশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কোথাও স্বস্তিতে কাজ করা যাচ্ছে না। যদিও আনুষ্ঠানিক মশার মারার কামান ধরে মশা নিধনে চসিকের ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেছিলেন নবনির্বাচিত মেয়র। তবে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের পর মশানিধন কার্যক্রম তেমন

চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর।

নগরীর বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, 'দিন রাত সবসময় মশার মারাত্মক উপদ্রব। নামাজে দাঁড়ালে হাতে-পায়ে অসংখ্য মশা বসে রক্ত খাওয়া শুরু করে। সালাম শেষ করে হাত বুলালে ১০-১৫টা মশা একসঙ্গে মরে।'

বহদ্দারহাটের বাসিন্দা গুলজার বেগম বলেন, 'বিল্ডিংয়ের ছয়তলায় থাকি, কিন্তু মশার যন্ত্রণা থেকে নিস্তার নেই। কয়েল দিয়েও কাজ হয় না। মশার যন্ত্রণায় সন্ধ্যার পর থেকে ছেলেমেয়েদের মশারির ভেতর বসিয়ে রাখি। কিন্তু ছোট ছেলেমেয়েদের কি আটকে রাখা যায়। চসিক কাজ করে বলে, কিন্তু সে কাজের ফল মিলছে না।'

জুবলী রোডের বাসিন্দা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা আহসান উলস্নাহ বলেন, 'আমাদের এলাকা এখন মেয়র এলাকা বলা যায়। সে হিসাবে আশা করেছিলাম হয়তো মশার উপদ্রব থেকে স্বস্তি পাব। কিন্তু দেখছি কাজের বেলায় সবাই ক্যামেরার সামনে। নিজ এলাকা কিংবা অন্য এলাকার সাধারণ মানুষের কোনো পার্থক্য নেই।'

আগ্রাবাদ এলাকায়ও আছে মশার উপদ্রব। মশার জ্বালায় রীতিমতো অতিষ্ঠ সেখানকার বাসিন্দারা। আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা শহীদ উদ্দিন জানান, গত এক মাসে তিনি এলাকায় মশার ওষুধ ছিটাতে দেখেননি। এছাড়া নগরীর হালিশহর, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, চকবাজার, সদরঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার খাল ও নালা-নর্দমায় মশার লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গ মশা গিজগিজ করছে বলে জানান তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাসভবন এলাকায় তালিকা ধরে মশার ওষুধ ছিটানো হয়। চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক এলাকায় এ ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়। অথচ ৪১ ওয়ার্ডের আনাচে-কানাচে বিশেষ করে, মশার প্রজননস্থল বিভিন্ন নালা-নর্দমা ও জমে থাকা পানিতে চসিকের মশক নিধন স্প্রের কার্যক্রম নেই।

চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সেলিম আকতার চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, 'নগরীর সব ওয়ার্ডে মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় নালাগুলোতে পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব কমছে না। আমি চাক্তাই খালসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পরিদর্শনে গিয়েছি। একটি এলাকায় জমে থাকা পানিতে ঢিল ছুড়ে মনে হয়েছে সেখানে মেঘ ভাসছে। এত মশা সেখানে বংশবিস্তার করেছে। করপোরেশনের পক্ষ থেকে এসব খাল ও নালায় জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছি। একই সঙ্গে পানিতে কালো তেল ছিটানোর ব্যবস্থা করেছি। তবুও মশার উপদ্রব বেড়েই চলেছে।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে