করোনায় টালমাটাল বিশ্ব

একদিনে প্রায় ১৪ হাজার মৃতু্য, বাড়ছে আক্রান্ত

প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৬ জন মারা গেছে।
একদিনে প্রায় ১৪ হাজার মৃতু্য, বাড়ছে আক্রান্ত

করোনা মহামারির কারণে অনেকটা টালমাটাল অবস্থায় সারাবিশ্ব। কোনোভাবেই থামছে না ভাইরাসটির ভয়ংকর তান্ডব। আক্রান্ত ও মৃতু্যর ক্ষেত্রে বিশ্বের কোনো না কোনো দেশে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন রেকর্ড। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা 'ওয়ার্ল্ডোমিটার'র শুক্রবারের তথ্যমতে, গত একদিনে করোনায় সাত লাখ ৩৯ হাজার ১৩০ আক্রান্ত এবং ১৩ হাজার ৮৫৪ জনের মৃতু্য হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে মোট শনাক্ত রোগী ১৩ কোটি ৪৭ লাখ ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি মৃতু্য হয়েছে ২৯ লাখ ১৮ হাজারের বেশি মানুষের। এছাড়া সুস্থ হয়েছে প্রায় ১১ কোটি। সংবাদসূত্র : এএফপি, আল-জাজিরা

ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত তিন কোটি ১৭ লাখ ১৭ হাজার ৪০৪ জন করোনায় আক্রান্ত এবং পাঁচ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৬ জন মারা গেছে।

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্ত ও মৃতু্যর দিক দিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগী এক কোটি ৩২ লাখ ৮৬ হাজার ৩২৪ জন এবং মৃতু্য হয়েছে তিন লাখ ৪৫ হাজার ২৮৭ জনের।

বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ ভারত করোনায় আক্রান্ত দেশের তালিকায় তৃতীয় হলেও মৃতের সংখ্যার দিক দিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে ৪৯ লাখ ৩৯ হাজার ২৫৮ জন, রাশিয়ায় ৪৬ লাখ ১৪ হাজার ৮৩৪, যুক্তরাজ্যে ৪৩ লাখ ৭০ হাজার ৩২১, ইতালিতে ৩৭ লাখ ১৭ হাজার ৬০২, তুরস্কে ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার ৮৬৬, স্পেনে ৩৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬৩৭, জার্মানিতে ২৯ লাখ ৫১ হাজার ৮২৯, পোল্যান্ডে ২৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫০৭ এবং কলোম্বিয়ায় ২৪ লাখ ৯২ হাজার ৮১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে ৯৮ হাজার ৬৫ জন, রাশিয়ায় এক লাখ এক হাজার ৮৪৫, যুক্তরাজ্যে এক লাখ ২৬ হাজার ৯৮০, ইতালিতে এক লাখ ১২ হাজার ৮৬১, তুরস্কে ৩৩ হাজার ২০১, স্পেনে ৭৬ হাজার ১৭৯, জার্মানিতে

৭৮ হাজার ৪৭৩, পোল্যান্ডে ৫৬ হাজার ৬৫৯ এবং কলোম্বিয়ায় ৬৫ হাজার ১৪ জন মারা গেছে।

উলেস্নখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত বছরের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিস্নউএইচও) করোনাকে 'বৈশ্বিক মহামারি' হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে ডবিস্নউএইচও। বিশ্ব এখন করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করছে।

মহামারির শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে আসছিল, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পেছনে চীনের ভূমিকা রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সম্পর্কে বিশ্বকে সতর্ক না করার জন্যও বেইজিংয়ের দিকে অভিযোগের আঙুলও তোলেন। চীন সরকার অবশ্য শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

তবে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৃহস্পতিবার বলেছেন, তিনি তার চীনা সমকক্ষ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করেননি। যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড ১৯-এর টিকা প্রদান এবং করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে 'ফক্স নিউজ'র পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, চীন করোনাভাইরাসের ব্যাপারে শুরু থেকে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করেছে কি না, এমন প্রশ্ন বাইডেন তার ফোনালাপে জিনপিংকে করেছিলেন কি না? উত্তরে বাইডেন 'না' সূচক জবাব দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের সঙ্গে আমার তেমন কোনো কথা হয়নি। আপনাদের ধন্যবাদ।' এ কথা বলেই বাইডেন সম্মেলন কক্ষ ছেড়ে যান।

এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, গত ১০ ফেব্রম্নয়ারি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বাইডেন। তখন বলা হয়, দুই নেতা করোনা মহামারি, মানবাধিকার, বাণিজ্য এবং ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে