বৈদু্যতিক ট্রেনের যুগে প্রবেশ বাংলাদেশের

বৈদু্যতিক ট্রেনের যুগে প্রবেশ বাংলাদেশের
মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরার ডিপোতে বিদু্যতের সাহায্যে দেশের ইতিহাসে মেট্রোরেলের প্রথম চলাচল দেখানো হয় -ফোকাস বাংলা

দেশের রেলপথে নতুন যুগের সূচনা করে বিদু্যতের মাধ্যমে চালিত মেট্রোরেলের প্রথম ট্রেন সেটটি চলেছে মঙ্গলবার। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের সময় মেট্রোরেলের ডিপোর 'আনলোডিং এরিয়ায়' ধীরগতিতে বৈদু্যতিক এই ট্রেন চালিয়ে দেখানো হয়। ছয়টি বগির সেট নিয়ে ট্রেনটি ওয়ার্কশপ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার পাড়ি দেয়। সম্পূর্ণ বিদু্যৎচালিত এ ট্রেনগুলোর নির্মাতা জাপানের কাওয়াসাকি কোম্পানি। তাদেরই একজন চালক ট্রেনটি চালিয়ে নিয়ে আসেন। মেট্রোরেলের এ প্রদর্শনী উপলক্ষে ডিপোতে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ডিপোর একটি স্থানে ট্রেনটি থামানো হলে সড়ক পরিবহণ বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ এন সিদ্দিক, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, জাইকার প্রধান প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ট্রেনটির ভেতরে ঘুরে দেখেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, "বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেলের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৬৪ শতাংশের মতো। আর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৮৫ শতাংশ। আর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের পূর্ত কাজের অগ্রগতি প্রায় ৬০ শতাংশ এবং ইলেক্ট্রিক্যাল মেকানিক্যাল সিস্টেম ও রোলিং স্টোন ও ডিপোর ইকু্যইপমেন্ট সংগ্রহ কাজের সমন্বিত অগ্রগতি প্রায় ৫৫ শতাংশ।

'ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজের নয় মাস পূর্বে আমরা শেষ করেছি। এতে সরকারের ৭০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। ডিপোর পূর্ত কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৮৮ শতাংশ। প্রকল্পের ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার ভায়াডাক্টের মধ্যে ১৪ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার ভায়াডাক্টের ইরেকশন সম্পন্ন হয়েছে।'

তিনি বলেন, এমআরটি-৬ প্রকল্পের সকল ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ চলমান রয়েছে। ডিপোর অভ্যন্তরে রেললাইন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভায়াডাক্টের ওপরে সাড়ে ১০ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২১ সালের মধ্যে ভায়াডাক্টের ওপরে মূল রেলপথে বৈদু্যতিক ট্রেনের 'পারফর্ম্যান্স টেস্ট' শুরু করা হবে। এরপর 'ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট' করা হবে। এরপর ট্রেনের 'ট্রায়াল রান' শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে জাইকার আবাসিক প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশ এবং জাপানের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি নমুনা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ডিএমটিসিএল এবং জাইকা দুই পক্ষই মহামারির মধ্যেও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এটি ঢাকা শহরের গণপরিবহণের চেহারা পাল্টে দেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বৈদু্যতিক এই ট্রেন চালু হলে এর সুফল ভোগ করবে এই রুটের বিপুল কর্মজীবী মানুষ। এই রেলের ছয় কোচের প্রতিটি সেট একসঙ্গে আগে ভাড়া পরিশোধ সিস্টেমে এক হাজার ৭০০ যাত্রী পরিবহণ করবে।' জাপানি প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়া এই পরিবহণ ব্যবস্থা নিরাপদ, জ্বালানিসাশ্রয়ী ও পরিবেশ-বান্ধব বলেও জানান তিনি।

জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, 'বাংলাদেশের স্বপ্নের উন্নয়নের মাইলফলকের এই প্রকল্পে অংশীদার হতে পেরে আমরা সত্যি গর্বিত।'

কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে এই প্রকল্পটির অসাধারণ অগ্রগতি হয়েছে। এজন্য তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১০০ মিনিটের ভ্রমণ সময় মেট্রোরেল লাইন চালুর মাধ্যমে মাত্র ৩৬ মিনিটে নেমে আসবে।

২০২২ সালে জাপান বাংলাদেশের বন্ধুত্বের ৫০ বছরের সুবর্ণজয়ন্তীতে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডিএমটিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, মেট্রোরেল চালু হলে ঢাকা শহরে বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার টনের বেশি কার্বন নিঃস্বরণ কমাবে। যানজট কমিয়ে যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে