শক্তিশালী হচ্ছে তিতলি দেশে নৌচলাচল বন্ধ

প্রকাশ | ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

যাযাদি রিপোটর্
ঘূণির্ঝড় তিতলির প্রভাবে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় বুধবার নগরীর মতিঝণার্ এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত মানুষকে অভিযান চালিয়ে সরিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন Ñযাযাদি
ঘূণির্ঝড় ‘তিতলি’ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এর ফলে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার কারণে সারাদেশে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকার নদীবন্দর থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোনো রুটে লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে না। বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবতীর্ নিদের্শ না আশা পযর্ন্ত নৌযান চলাচলের সিদ্ধান্তটি বহাল থাকবে। এদিকে ঘূণির্ঝড় ‘তিতলি’ আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঘূণির্ঝড় আকারেও বেশ বড়। এটি ভারতের সমুদ্র উপকূলবতীর্ তিনটি রাজ্য এবং বাংলাদেশের ওপর বিস্তৃত। তিতলি প্রতি ঘণ্টায় ১৪ কিলোমিটার বেগে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। এর ফলে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজারে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আজ মধ্যরাতে বা ভোরবেলা ঘূণির্ঝড়টি বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে আঘাত হানতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, তিতলি অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ১৪ কিলোমিটার বেগে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারতের দক্ষিণ ওডিশা, অন্ধ্র প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশÑএই চারটি অঞ্চলজুড়ে ঘূণির্ঝড়টি বিস্তৃত। প্রথমে ওডিশায় আঘাত হানতে পারে। এরপর বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে আসতে আসতে যদি দুবর্ল হয়ে যায়, তাহলে ভালো। কিন্তু আরও শক্তি সঞ্চয় করলে বিপদ। যেভাবই আসুক না কেন, তিতলির প্রভাবে ১৪ অক্টোবর পযর্ন্ত বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলসহ বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি হবে বলে জানান সামছুদ্দিন আহমেদ। আজ দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতকীর্করণ কেন্দ্র বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রবল ঘূণির্ঝড় আকারের তিতলি গতকাল দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সৈকত থেকে ৮৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঘূণির্ঝড়টি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রবল ঘূণির্ঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সবোর্চ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পযর্ন্ত বাড়ছে। প্রবল ঘূণির্ঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে। নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক আলমগীর কবীর বলেন, ঘূণির্ঝড় তিতলির আঘাত হানার আশঙ্কা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঢাকা নৌবন্দর থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পযর্ন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবতীর্ নিদের্শ না দেয়া পযর্ন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নিদের্শ দেয়া হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি মঙ্গলবার বিকেলে ঘূণির্ঝড়ে রূপ নেয়। ঘূণির্ঝড়টির নাম দেয়া হয় ‘তিতলি’।