লকডাউন :নাটোরে আরও ৭ দিন, হতে পারে টাঙ্গাইলেও

লকডাউন :নাটোরে আরও ৭ দিন, হতে পারে টাঙ্গাইলেও

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে নাটোরে আরও সাত দিনের লকডাউন বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে লকডাউনের আওতায় আসতে পারে টাঙ্গাইলের তিন উপজেলা। অপরদিকে দিনাজপুর সদরে মঙ্গলবার থেকে সাত দিনের কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে ঢিলেঢালাভাবে।

নাটোর প্রতিনিধি জানান, সংক্রমণ এবং মৃতু্যর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নাটোর ও সিংড়া পৌরসভা এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধসহ আরও ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে জেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে গত একদিনে সর্বোচ্চসংখ্যক চারজন মারা গেলেন। ১০১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬১ জন করোনা পজিটিভ হয়েছেন। শনাক্তের হার ৬০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত ২১৬৫ এবং মোট মৃতু্য হয়েছে ৩৮ জনের।

মঙ্গলবার দুপরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় লকডাউন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, এর আগে করোনা সংক্রমণ ও মৃতু্য রোধে নাটোরের দুটি পৌর এলাকা সিংড়া ও নাটোর পৌরসভা ৭ দিনের লকডাউনের আওতায় আনা হয়। কিন্তু জনগণ সামাজিক নিরাপদ দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে না মানায় সংক্রমণ ও মৃতু্য বেড়েই চলছে। সে কারণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে বুধবার ভোর ৬টা থেকে আরও ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান, নাটোর সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচারক ডা. পরিতোষ কুমার রায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার সরকার প্রমুখ।

কর্মহীন মানুষের খাদ্য সংকট দেখা দিলে এ ব্যাপারে প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে মর্মে সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় সহযোগিতার জন্যে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়।

উলেস্নখ্য, গত ৯ জুন ভোর ৬টা থেকে ১৫ জুন রাত পর্যন্ত নাটোর ও সিংড়া পৌরসভা এলাকায় লকডাউন দেওয়া হয় প্রথম দফায়।

এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরতে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে দিনাজপুর সদরে শুরু হয়েছে সাত দিনের কঠোর লকডাউন। তবে লকডাউনের বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন।

কঠোর এ লকডাউনে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, কার-মাইক্রোবাসসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল এবং ওষুধ ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়া দোকানপাট বন্ধের ঘোষণা থাকলেও খোলা হয়েছে অত্যাবশ্যকীয় ছাড়াও অনেক দোকানপাট। সকাল থেকে দিনাজপুর শহর ও আশপাশের রাস্তাঘাটে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। মাস্ক ছাড়া অনেককে ঘোরাফেরাও করতে দেখা গেছে। এমন অবস্থা চললেও শহরের কলেজ মোড় ছাড়া কোথাও প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়েনি।

শহরের বড়বন্দর এলাকায় অনেক দোকানপাটই খোলা দেখা গেছে। একই অবস্থা কালিতলা মোড় এলাকায়ও। শহরের চারুবাবুর মোড়, মডার্ন মোড়, লিলি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট তেমন খোলা না থাকলেও স্বাভাবিক ছিল যান চলাচল। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, সাইকেল ও মানুষের সমাগম দেখে কঠোর লকডাউন বোঝার উপায় ছিল না।

শহরের বাইরের অবস্থা আরও নাজুক। গোপালগঞ্জ বাজার, বটতলী, সুইহারী, চৌরঙ্গী মোড়, গুঞ্জাবাড়ী, রাজবাড়ী, গাবুড়া বাজারসহ সবখানেই মানুষের অবাধ চলাচল দেখা গেছে। খোলা রয়েছে দোকানপাটও। অনেকে জানেনই না যে, এ উপজেলায় লকডাউন চলছে।

এদিকে স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল জানিয়েছেন, টাঙ্গাইলে এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গাণিতিক হারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গাইলকে 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ' জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এভাবে শনাক্তের হার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী ১৯ জুন থেকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী ও মির্জাপুর উপজেলায় সর্বাত্মক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ডক্টর মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আমিন মিঞা, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক খন্দকার সাদিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী ও মির্জাপুর উপজেলায় মঙ্গলবার (১৫ জুন) থেকে মাস্ক পরিধান ও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি মাইকিং করে করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে প্রচারণাসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো শুরু হয়েছে।

এদিকে, টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭১টি নমুনা পরীক্ষায় জেলায় ৮৫ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ৫৬, কালিহাতীতে ১২ জন, মির্জাপুর উপজেলায় চারজন, দেলদুয়ারে ছয়জন, সখীপুরে তিনজন এবং নাগরপুর, ঘাটাইল, মধুপুর ও গোপালপুর উপজেলায় একজন করে মোট ৮৫ জন রয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন জানান, টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতী উপজেলা উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়ায় এ দুই উপজেলায় করোনা শনাক্তের হার অন্য উপজেলাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ হাজার ৬১৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ৩৩১ জন। এ পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতু্যবরণ করেছেন মোট ৯৫ জন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে