করোনায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে সুবাতাস

হ এক বছরে লেনদেন বেড়েছে ৬৫ শতাংশ হ আমানতের প্রবৃদ্ধি ৯৯.৪০ শতাংশ হ ঋণের প্রবৃদ্ধি ৩৪২.২১ শতাংশ হ রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ১৫৫ শতাংশ
করোনায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে সুবাতাস

গ্রামীণ পর্যায়ের জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিংসেবা পৌঁছে দিতে যাত্রা শুরু হওয়া এজেন্ট ব্যাংকিং দ্রম্নতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। করোনাকালে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে সুবাতাস বইছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, করোনাকালের এক বছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে লেনদেন বেড়েছে ৬৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, আমানতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। একই সময় বিতরণকৃত ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৪২ দশমিক ২১ শতাংশ। অন্যদিকে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৫৫ শতাংশে। ২০২০ সালের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাকালে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বেশি সচল ছিল। এর ফলে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে। একই সঙ্গে ব্যাংকিংসেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর জমানো টাকা ব্যাংকে আসতে শুরু করেছে।

এখন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংসেবার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের সরকারি-বেসরকারি ২৮টি ব্যাংক। এর মধ্যে তিনটি ব্যাংক এজেন্ট নিয়োগ, আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ এবং রেমিট্যান্স আহরণে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

এজেন্ট আউটলেট ও এজেন্টদের মাধ্যমে হিসাব সংখ্যা চালুর ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে ব্যাংক এশিয়া। এজেন্টদের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে ইসলামী ব্যাংক। এজেন্টদের মাধ্যমে রেমিট্যান্স সংগ্রহে শীর্ষস্থানও দেশের বৃহৎ ব্যাংকটির। তবে এজেন্টদের মাধ্যমে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থান ব্র্যাক ব্যাংকের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ২৩টি ব্যাংকের এজেন্ট ছিল আট হাজার ৭৬৪টি। চলতি বছরের জুন শেষে পাঁচটি এজেন্ট ব্যাংক বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২৮টি। এই ব্যাংকগুলোর এজেন্টের সংখ্যা ১২ হাজার ৯১২-এ দাঁড়িয়েছে। করোনাকালের এক বছরে ব্যাংকগুলোর এজেন্ট সংখ্যা বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

এজেন্টের মতোই গত এক বছরে চার হাজার ৬৯৬টি আউটলেট বেড়েছে। ২০২০ সালের জুন শেষে এজেন্ট আউটলেটের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৪৪৯টি। চলতি বছরের জুন শেষে আউটলেটের সংখ্যা ১৭ হাজার ১৪৫-এ উন্নীত হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে আউটলেট বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৭২ শতাংশ।

২০২০ সালের জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চালু করা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ছিল ৭৩ লাখ ৫৮ হাজার ১৯০। করোনাকালের এক বছরে ৪৮ লাখ ৪৭ হাজার ১৬৮টি নতুন ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে এজেন্টদের মাধ্যমে চালু করা ব্যাংক হিসাবের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক কোটি ২২ লাখ ৫৩৫৮টি। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক হিসাবের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

করোনাকালের এক বছরে এজেন্টদের মাধ্যমে সংগৃহীত আমানত বেড়েছে ৯৯ শতাংশের বেশি। গত বছরের জুন শেষে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ২২০ কোটি ২১ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুনে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৩৭৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ২০২০ সালের জুনে এজেন্টদের মাধ্যমে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৭২০ কোটি টাকা। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে ঋণের পরিমাণ তিন হাজার ১৮৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এই হিসাবে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৪২ শতাংশেরও বেশি।

চলমান মহামারিতে দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অর্জন হলো রেমিট্যান্সের বড় উলস্নম্ফন। চলতি অর্থবছরের জুন পর্যন্ত রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৬ শতাংশের বেশি। অথচ করোনাকালের এক বছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ১৫৫ শতাংশ। ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত এজেন্টদের মাধ্যমে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। কিন্তু মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৬৭ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা বিষয়ে নীতিমালা জারি করে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে পাইলট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথম এজেন্ট নিয়োগ দেয় ব্যাংক এশিয়া। এরপর দ্রম্নততম সময় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে যুক্ত হয়েছে অন্য ব্যাংকগুলো। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৮টি ব্যাংক এরই মধ্যে সেবাটি চালু করেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে