আজ বিশ্ব এইডস দিবস

ঝুঁকিতে দৌলতদিয়া যৌনপলস্নীর বাসিন্দারা

ঝুঁকিতে দৌলতদিয়া যৌনপলস্নীর বাসিন্দারা

আজ ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস। প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশে দিবসটি পালন করা হবে। এইডসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্ব সম্প্রদায় ১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্ব এইডস দিবস পালন করে আসছে। ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩৪ মিলিয়ন মানুষ এইডস আক্রান্ত রয়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মানুষ এ মরণঘাতী রোগে মৃতু্যবরণ করেছে।

তবে মরণঘাতী এ রোগ নিয়ে তেমন কোনো উৎকণ্ঠা নেই দেশের সর্ববৃহৎ গোয়ালন্দ উপজেলাধীন দৌলতদিয়া যৌনপলস্নীর প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দার মধ্যে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দৌলতদিয়া যৌনপলস্নীতে তালিকাভুক্ত যৌনকর্মীর সংখ্যা দেড় হাজারের অধিক। কিন্তু যৌনজীবীদের বাবু, বাড়িওয়ালী, শিশু, বয়স্ক নারী ও নানাবিধ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মিলে প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসবাস এ পলস্নীতে। এরা প্রত্যেকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এইচআইভি এইডসসহ নানাবিধ যৌন রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।

সূত্রমতে, যৌনপলস্নীতে আসা অধিকাংশ লোকজনই দৈহিক মিলনে কনডম ব্যাপারে অনাগ্রহী। বাধ্য হয়ে খদ্দেরের ইচ্ছা ও বেশি টাকার লোভে অধকাংশ যৌনকর্মী প্রতিনিয়ত অনিরাপদ মিলন করে থাকে। এ ছাড়া পলস্নীর অনেক যৌনকর্মী দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত। মাদক, খাবার ও ঘর ভাড়ার টাকা জোগাতে তারা নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তাও করার সুযোগ পায় না। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে 'ছুকরি' বলে পরিচিত কিছু নারী বাড়িওয়ালীদের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদেরও নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভাবার সুযোগ নেই। উপরন্তু এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে পলস্নীতে খদ্দের আসা কমে যাওয়ায় যৌনকর্মীরা যে কোনো উপায়ে খদ্দের টানতে মরিয়া থাকে।

সরেজমিন জানা গেছে, প্রায় একযুগ পর গত বছরের মে মাস থেকে বেসরকারি সংগঠন 'পায়াক্ট বাংলাদেশ' এইচআইভি এইডস ও যৌনরোগ নিয়ে ২ বছর মেয়াদি প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালের মাধ্যমে যৌন পলস্নীবাসীর মধ্যে নানা রোগের চিকিৎসা ও সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

পায়াক্ট বাংলাদেশের দৌলতদিয়া শাখার ব্যবস্থাপক মজিবর রহমান জুয়েল জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে তারা এখানে এইডসসহ বিভিন্ন যৌনরোগ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে নানা ধরনের কাজ করছেন। এ কাজে তাদের দুজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও একদল সহযোগী সদস্য রয়েছেন। তারা নিয়মিত যৌনরোগ শনাক্ত, বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং সচেতনতা বাড়াতে নানাবিধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা এ পর্যন্ত দেড় হাজার নারীর নমুনা সংগ্রহ করে এইডস পরীক্ষা করেছেন। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে একজন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তবে চূড়ান্ত পজিটিভ প্রমাণের জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে আরও দুটি পরীক্ষা করা হবে। আপাতত সংস্থার পক্ষ থেকে সুরক্ষিত অবস্থায় রেখে তার ভরণ-পোষণ চালানো হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রতি মাসে যৌনজীবীদের মধ্যে দেড় থেকে পৌনে ২ লাখ কনডম বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। যৌনজীবীদের নানাবিধ ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তাদের কর্মসূচির সুফলে বেগ পেতে হচ্ছে।

মজিবর রহমান জুয়েল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তারা তাদের চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে যৌনকর্মীদের মধ্যে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন। তবে আগামী জুনে এ প্রকল্প শেষ হয়ে যাবে। তখন হয়তো মনিটরিং ও বিনামূল্যের সেবা না পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যে আবারও সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। তিনি এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম চলমান রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, যৌনপলস্নীতে বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের কাজের নিয়মিত মনিটরিং ছাড়াও বিভিন্ন জটিল ও সন্দেহজনক রোগী তাদের কাছে এলে তারা চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে