গ্রেপ্তারের পর দুই দিনের রিমান্ডে

ঢাকায় 'সৎবাবার পিটুনিতে' শিশু নামিরার মৃতু্য

ঢাকায় 'সৎবাবার পিটুনিতে' শিশু নামিরার মৃতু্য

রাজধানীর দক্ষিণখানে তিন বছরের শিশু নামিরা ফারিজের মৃতু্য শেষ পর্যন্ত হত্যাকান্ড বলে তথ্য বেরিয়ে এসেছে। হত্যাকান্ডটি ধামা চাপা দিতে পড়ে গিয়ে খাটে মাথা লেগে মারাত্মক আহত হয়ে মৃতু্য হয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছিল। দুই দিনের তদন্তের পর 'সৎবাবার পিটুনিতে নামিরার মৃতু্য হয়েছে বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। হত্যাকান্ডে সৎবাবা একাই জড়িত। গ্রেপ্তারের পর শনিবার সৎবাবাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের দক্ষিণখান থানা জানায়, শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নামিরা ফারিজ নামের তিন বছরের একটি শিশুর মৃতু্য হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফাঁড়ির পুলিশ ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, শিশুটি পড়ে গিয়ে খাটের সঙ্গে আঘাত পেয়ে মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে শিশুর সৎবাবা দাবি করেন। দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টরা প্রথম দিকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন ব্যাপারটি।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, কিন্তু বিপত্তি দেখা দেয় শিশুটির মাথার আঘাতের ধরন দেখে। খাট থেকে পড়ে আঘাত পেয়ে শিশুটির মৃতু্য হয়েছে, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে চিকিৎসক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের গভীর তদন্তের এক পর্যায়ে শিশুটির শরীরে আরও আঘাতের চিহ্ন থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর থেকেই শিশুটিকে হাসপাতালে আনা পিতাকে সন্দেহ করা হচ্ছিল। প্রথম প্রথম শিশুর মা স্বামী কর্তৃক ছেলেকে মারধর করে হত্যা করার বিষয়টি মানতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে মা নিজেও ঘটনা জানার পর স্বামীকেই সন্দেহ করেন। শিশুটির মা দাবি করেন নামিরাকে প্রথম প্রথম ভালোভাবে মেনে নিলেও সম্প্রতি তার ছেলের সঙ্গে প্রায়ই খারাপ ব্যবহার করত সৎবাবা। পরে শিশুটির মা বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দ্বিতীয় স্বামী আজহারুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করেন তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ সূত্র জানায়, শিশুটির মাথা ছাড়াও শরীরের অন্যান্য জায়গায় আঘাতের চিহ্ন আছে। শনিবার শিশুটির আসল পিতা নাঈমের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। বিকালে নাঈম যায়যায়দিনকে বলেন, লাশ গ্রহণের পর ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে নামিরার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। আসল পিতা রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন শাহীনবাগের ৬২০ নম্বর বাড়িতে থাকেন।

দক্ষিণখান থানার ওসি মামুনুর রহমান যায়যায়দিনকে বলেন, ওই মামলায় সৎবাবা আজহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোর্পদ করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শনিবার তাকে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সৎবাবা ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন বস্নুর সেফ।

তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস আগে শিশুটির মায়ের সঙ্গে প্রথম স্বামীর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর তিনি আজহারুল ইসলামকে বিয়ে করেন। প্রথম সংসারের সন্তান নামিরা ফারিজ। সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই দ্বিতীয় স্বামীর সংসার করতে থাকেন নামিরা ফারিজের মা। প্রথম প্রথম স্বামী তা মেনেও নেয়। সম্প্রতি শিশুটিকে আর ভালো চোখে দেখছিলেন না সৎবাবা। ঘটনার সময় নামিরার মা বাসায় ছিলেন না। বিকালে দক্ষিণখান থানাধীন আশকোণার বাসায় ফিরে দেখেন শিশুর মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে। প্রথমে তিনি নামিরাকে উত্তরার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালেই শিশুটির মৃতু্য হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

ক্যাম্পাস
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
হাট্টি মা টিম টিম
কৃষি ও সম্ভাবনা
রঙ বেরঙ

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে