সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ

সম্মেলন শেষে চাঙা দলের নেতাকর্মীরা

দেশের রাজনীতিতে সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহ্য সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই। দেশবরেণ্য অসংখ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পুণ্যভূমি এই সিরাজগঞ্জ। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই জেলায় রাজনৈতিকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। অপরদিকে এই জেলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক মামলার ভারে এখন দারুণভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন। বড় দুটি দলের সর্বশেষ রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আমাদের সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এইচ. এম মোকাদ্দেস
সম্মেলন শেষে চাঙা দলের নেতাকর্মীরা

সিরাজগঞ্জে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে ভালো অবস্থানে রয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনসহ ১২টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে ১০টির সম্মেলন শেষ হওয়ায় বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে দলের নেতাকর্মীরা। জেলার ৯টি উপজেলা ও ১২টি সাংগঠনিক থানার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কমিটি রয়েছে। সেইসঙ্গে সম্প্রতি শহর ও জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ হওয়ায় সব অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এখন বেশ চাঙা।

সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের জীবদ্দশায় দলের একটি বড় অংশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা যারা তার অনুসারী হিসেবে কাজ করেছেন, তারা এখন তার ছেলে তানভীর শাকিল জয়ের পথ ধরে চলছেন। অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাবেক প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আলহাজ আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ও সদরের সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিলাত মুন্নার নেতৃত্বে একটি বড় অংশ এক হয়ে কাজ করছে। এ দুই গ্রম্নপের মধ্যে ভেতরে ভেতরে দ্বন্দ্ব থাকলেও কেউই তা স্বীকার করছেন না। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

জানা গেছে, এ জেলায় সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রম্নয়ারি। সম্মেলনের পর জোরালোভাবেই চলছে জেলার সব সাংগঠনিক কর্মকান্ড। অতীতে দলের ভেতর একাধিক সমস্যা থাকলেও বর্তমানে কোনো সমস্যা নেই বলে একাধিক সিনিয়র নেতা দাবি করেন। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ও ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর দলীয় নেতাকর্মীরা।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে জেলার ৬টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৫টি পেলেও পরবর্তী সময়ে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জেলার সবক'টি আসনে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে। পরবর্তী সময়ে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনেও প্রায় অধিকাংশ স্থানে নির্বাচিত হয় দলের প্রার্থীরা। তবে জেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকাতে এমনটি সম্ভব হয়েছে বলে নেতাকর্মীরা মনে করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সফলতা তুলে ধরতে গিয়ে দলের নেতারা বলছেন, বিগত জোট সরকারের আমলে বন্ধ হওয়া কওমী জুট মিলকে জাতীয় জুট মিল নামকরণের মাধ্যমে নতুন করে চালু, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, মেরিন একাডেমি প্রতিষ্ঠা, সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকা রেল চালু, নদী ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া, জেনারেল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের কার্যক্রম শুরু. বিদু্যৎকেন্দ্র স্থাপন এবং উৎপাদন, পাসপোর্ট ভবন নির্মাণ, শেখ রাসেল পার্ক নির্মাণ, সার্ভার স্টেশন, মৎস্য ইনস্টিটিউট, একাধিক ফায়ার স্টেশন স্থাপনের মধ্যদিয়ে জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আর তা সম্ভব হয়েছে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও সদরের সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিলাত মুন্নার কারণে। একই সঙ্গে সঠিক নেতৃত্ব আর কর্মীদের দিকনির্দেশনার কারণেই এখনো শক্ত অবস্থানে আওয়ামী লীগ।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট হোসেন আলী হাসান বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ অনেক শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আওয়ামী লীগ বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে বারবার ক্ষমতায় থাকার কারণে এ জেলায় উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এখানে দলের কোনো দ্বন্দ্ব বা বিভেদ নেই, যা রয়েছে ব্যক্তি বা পদের প্রতিযোগিতা। জেলার ৯টি উপজেলা ও ১২টি সাংগঠনিক থানার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কমিটি রয়েছে। সেই সঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ও সব অঙ্গসংগঠনের ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলোও এখন চাঙা। দেশের যেকোনো দুর্যোগ-আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে দলের নেতাকর্মীরা বদ্ধপরিকর।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে