সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি

মামলায় জর্জরিত হয়ে হতাশ নেতাকর্মীরা

দেশের রাজনীতিতে সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহ্য সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই। দেশবরেণ্য অসংখ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পুণ্যভূমি এই সিরাজগঞ্জ। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই জেলায় রাজনৈতিকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। অপরদিকে এই জেলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক মামলার ভারে এখন দারুণভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন। বড় দুটি দলের সর্বশেষ রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আমাদের সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এইচ. এম মোকাদ্দেস
মামলায় জর্জরিত হয়ে হতাশ নেতাকর্মীরা

বিএনপির একসময়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জ জেলায় এখন ত্রিশঙ্কুল অবস্থা। ক্ষমতায় থাকাকালীন লাভবান হওয়া অনেক নেতা এখন মামলার ভয়ে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন। আর দল ক্ষমতায় থাকাকালীন যারা সুবিবধাবঞ্চিত ছিলেন সেইসব নেতাই এখন দলের হাল ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। দলটির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক মামলার ভারে এখন দারুণভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন। জেলার শীর্ষ নেতাদের একেক জনের নামে পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে মামলা। সব মিলে শতাধিক মামলা রয়েছে জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি গত ১৪ বছর আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন সিরাজগঞ্জ জেলায় যে অবস্থানে ছিল বর্তমানে সে অবস্থান থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। শুধু ক্ষমতার সুখই হারায়নি, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, জেল-জুলুম ও মামলায় জর্জরিত হয়ে দলটি অনেকটা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জেলা শহরে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অনুপস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

শুধু জেলা শহরই নয়, থানা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলা মোকদ্দমার জালে পড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নিশ্চুপ হয়ে গেছেন। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনকালীন এই জেলায় বিএনপির যে শক্ত অবস্থান ছিল সে অবস্থান এখন আর নেই। বলতে গেলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক বিদু্যৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর একক নিয়ন্ত্রণে চলছে জেলা বিএনপি। মাঝেমধ্যে অফিসনির্ভর কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ পৌর সভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মোকাদ্দেস আলী সাধারণ সম্পাদক থাকাবস্থায় বিএনপির গঠনতন্ত্রে একনেতা এক পদ সংযুক্ত হওয়ায় জেলা বিএনপির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদু্যৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করায় তার স্ত্রী সাবেক এমপি জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি রুমানা মাহমুদকে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সর্বশেষ গত ২০১৭ সালে ওই কমিটি বিলুপ্ত করে রুমানা মাহমুদকে সভাপতি ও সাইদুর রহমান বাচ্চুকে সাধারণ সম্পাদক করে প্রথমে ৩৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। পরে ২০১৯ সালের ৮ মে কেন্দ্রীয় বিএনপি ২০১ সদস্যবিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়। যে কমিটি ইতোমধ্যেই তিন বছর অতিক্রম করেছে। জেলার ১৭টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে হাতেগোনা দুই-একটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলেও বেশিভাগ কমিটিই অসম্পূর্ণ। এতে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, বর্তমান সরকারের দমন পীড়নের কারণে ও দলের নেতাকর্মীরা হামলা মামলায় জর্জরিত হওয়ায় সময়মতো সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। তারপরও বর্তমানে সব উপজেলা এবং পৌর কমিটিগুলো পূর্ণ গঠন করার কাজ শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী জুনের মধ্যে সব কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণ গঠন করা হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবেই কাজ করছি, তবে পদপদবির জন্য রাজনৈতিক দলে কোন্দল থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। একটি স্বার্থান্বেষী মহল দলের ভালো চায় না বলে বিভিন্ন ধরনের অপ্রচার চালাচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে