দাম বেশি হওয়ায় বেচাকেনা কম

দাম বেশি হওয়ায় বেচাকেনা কম

ভোলায় পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হলেও গরুর দাম বেশি হওয়ায় বেচাকেনা তেমন হচ্ছে না। ক্রেতারা শুধু বাজার ঘুরেই দাম শুনে চলে যাচ্ছেন। ক্রেতাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম দুই-তিনগুণ বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা। তবে বিক্রেতারা বলছেন, গো-খাদ্যের দাম বেশি থাকায় গরু লালন-পালনে তাদের খরচ বেশি হয়েছে। শনিবার ও রোববার ভোলা সদরের পরানগঞ্জ, মাদ্রাসা বাজার, ব্যাংকের হাটসহ বিভিন্ন গরুর হাটে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোরবানি ঈদ উপলক্ষে ৯৩টি স্থায়ী ও ৩৯টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে সদরে ১৫টি, দৌলতখানে ৬টি, বোরাহন উদ্দিনে ১২টি, তজুমদ্দিনে ৫টি, লালমোহনে ২৬টি, চরফ্যাশনে ২২টি ও মনপুরায় ৭টি। এ ছাড়া জেলা ও সাত উপজেলার প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে আরও ৮টি অনলাইন পশুর হাট রয়েছে। এ হাটগুলোয় পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মোট ২১টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এ বছর ভোলায় কোরবানির জন্য বিভিন্ন খামারের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে মোট এক লাখ তিন হাজার পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরু ৫৫ হাজার ৮৭০টি, মহিষ ৮৫০টি, ছাগল ৪৪হাজার ৯৩০টি ও ভেড়া এক হাজার ৩৫০টি। তবে ভোলায় এ বছর পশুর চাহিদা রয়েছে ৯৭ হাজার ৫০০টি। চাহিদার চেয়ে পাঁচ হাজার ৫০০টি পশু বেশি রয়েছে।

কার্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গত বছর ভোলা ৮টি অনলাইন পশুর হাটে এক হাজার ৫৫টি পশু বিক্রি হয়েছে। এর দাম হয়েছে সাড়ে আট কোটি টাকা। এ বছর গত তিনদিনে এ ৮টি অনলাইন পশুর হাটে ১৬২টি পশু বিক্রি হয়েছে। তবে এ বছর অনলাইনের চেয়ে সাধারণ বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।

সদর উপজেলার পরানগঞ্জ হাটে গরু বিক্রি করতে আসা রাজাপুর ইউনিয়নের চরমনশা গ্রামের মো. হারুন বলেন, তিনি একটি গরু নিয়ে বাজারে এসেছেন। গরুর দাম ধরেছেন এক লাখ ৭০ হাজার টাকা। তবে ক্রেতারা এক লাখ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা দাম বলে চলে যাচ্ছেন।

একই হাটে গরু নিয়ে আসা পশ্চিম ইলিশ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাতা গ্রামের মো. রুহুল আমিন জানান, তিনি দুটি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। একটি এক লাখ ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। আর যেটা আছে সেটার দাম ধরেছেন দুই লাখ ২০ হাজার টাকা। ক্রেতারা দাম বলছেন এক লাখ ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। তবে দুই লাখ টাকা হলে তিনি বিক্রি করবেন।

তিনি আরও জানান, এ বছর গো-খাদ্যের দাম বেশি থাকায় গরু লালন-পালন করতে খরচ বেশি হয়েছে। তাই গরুর দামও বেশি।

ব্যাংকের হাট-বাজারে গরু কিনতে আসা মো. মহসিন বলেন, তিনি এক লাখ ১০ হাজার টাকায় মাঝারি আকারের একটি গরু কিনেছেন। তবে গত বছর এ গরুর দাম ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ছিল। এ বছর দাম অনেক বেশি।

পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর ইলিশা গ্রাম থেকে আসা ক্রেতা মো. আবু তাহের বলেন, হাটে গরুর দাম বেশি থাকায় গরু কেনা হয়নি। আশা করছেন আগামী হাটে গরুর দাম কম হবে।

একই বাজারে গরু বিক্রি করতে আসা মো. সিরাজ মাতাব্বর জানান, তিনি গত বছর দুটি গরু কিনে প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করেছেন। এখন ঈদ উপলক্ষে গরু দু'টি বিক্রি করতে বাজারে এনেছেন। তবে চাহিদার চেয়ে ক্রেতারা দাম কম বলেছেন। তাই তিনি বিক্রি করছেন না।

কাচিয়া ইউনিয়নের সাহামাদার গ্রাম থেকে গরু কিনতে আসা মো. মফিজল হক বলেন, হাটে গরুর দাম গত বছরের তুলনায় দুই-গুণ বেশি বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা। গরুর দাম বেশি থাকায় তিনি গরু না কিনে ফিরে যাচ্ছেন।

পরানগঞ্জ বাজারের গরুর হাটের ইজারাদার মো. নীরব বলেন, হাটে এখনো তেমন বেচাকেনা হচ্ছে না। বিক্রেতারা পশুর দাম চাচ্ছেন দ্বিগুণ, আর ক্রেতারাও দামাদামি করছেন। তবে দু-এক দিনের মধ্যে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হবে।

ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মন্ডল জানান, এ বছর কোরবানির জন্য দুই হাজার ৪৪৫টি বাণিজ্যিক খামার ও ১৮ হাজার পারিবারিক খামারে এক লাখ তিন হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। ভোলায় চাহিদা রয়েছে ৯৭ হাজার ৫০০টি। কোরবানি উপলক্ষে জেলায় ৯৩টি স্থায়ী ও ৩৯টি অস্থায়ী হাট বসেছে। এ ছাড়া অনলাইনে আটটি পেইজের মাধ্যমে অনলাইনে পশু বিক্রির সুযোগ রয়েছে। পেইজগুলোয় ইতোমধ্যে আট হাজার ৫০০টি পোস্ট কার হয়েছে। এর মধ্যে ১৬২টি পশু বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া কোরবানির হাটগুলোয় ২১টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে। যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা নির্বিঘ্নে পশু বেচাকেনা করতেন পারেন সেজন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে