'পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানান্তর'

'পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানান্তর'

পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম-কারখানা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানান্তর করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। বুধবার পুরান ঢাকার চকবাজারের কামালবাগ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থলে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র তাপস জানান, ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম-কারখানা চিহ্নিত করার জন্য আমাদের কমিটি আছে। সেই কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে তা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। পরে মন্ত্রলালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেগুলো স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, এসব এলাকার কারখানা-গুদামে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। ফলে বারবার এমন দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা ঘটছে। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় এসব রাসায়নিক কারখানা, গুদাম, বিভিন্ন ধরনের ফ্যাক্টরির কারণে এই এলাকায় যানজট যেমন বেশি থাকে, তেমনি অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যেও সবাইকে থাকতে হয়। এ জন্য সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্যামপুরে এসব রাসায়নিক গুদাম, কারখানগুলো স্থানান্তর করার

\হসিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেখানে অন্তত ৫০০ কারখানা, গুদাম স্থানান্তর করা হবে।

মেয়র বলেন, যে ভবনের কোনো বৈধতা নেই, কোনো বাণিজ্যিক অনুমোদন নেই, যে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অনুমোদন আমরা দেইনি, সেই প্রতিষ্ঠান কীভাবে গ্যাস ও বিদু্যৎ সংযোগ পেল, তা-ই এখন প্রশ্ন।

তাপস আরও বলেন, আমরা জানি পুরো ঢাকা শহরেই অনেকেই অবৈধভাবে বিভিন্ন সংযোগ নিয়ে থাকেন। এটাও খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে যে কোনো না কোনোভাবে অবৈধপন্থা অবলম্বন করে এই গ্যাস ও বিদু্যৎ সংযোগ তারা নিয়েছে। এগুলোর প্রতি আমাদের সব সংস্থারই সুদৃষ্টি দেওয়া উচিত। যেন এ রকম দুর্ঘটনা রোধ করতে পারি আমরা। মাঠ পর্যায়ে যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে সবকিছু যাচাই বাছাই না করেই যদি এমনভাবে সংযোগ দেওয়া হয়, বৈধতা দেওয়া হয় তাহলে প্রতি বছরই এমন দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, মেয়র হিসেবে আমি মনে করি, নদীর তীরে এত সুন্দর জায়গায় এসব স্থাপনা থাকা উচিত নয়, এটা হতে হবে পর্যটন এলাকা। এখানে এসব গুদাম, কারখানা থাকা ভালো দেখায় না। বরং এগুলো পর্যটকবান্ধব এলাকা হিসেবে রূপান্তর করা আমাদের উচিত বলে মনে করি।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ আগস্ট দুপুরে চকবাজারে পলিথিন কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে